মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

সম্পাদকীয়

বৈশ্বিক পরিস্থিতি

পরিচয়বিহীনতার আতঙ্ক

ড. আদনান মোর্শেদ

সম্প্রতি একটি সেমিনারে বক্তৃতা দেয়ার জন্য থাইল্যান্ড গিয়েছিলাম। ফেরার পথে হাইওয়ের পাশে বিশাল এক বিলবোর্ড আমার দৃষ্টি কেড়ে নিল। এটা ছিল একটা বিমান কোম্পানির বিজ্ঞাপন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত সব প্রতীক যেমন স্ট্যাচু অব লিবার্টি, বিগ বেন, আইফেল টাওয়ার, পিসার হেলানো টাওয়ার, কলোসিয়াম, পিরামিড, তাজমহল, চায়নার গ্রেট ওয়াল, সিডনি ওপেরা হাউজ সবকিছুর ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একটি যাত্রীবাহী বিমান।

উত্সুক নয়নে এই মজার বিজ্ঞাপনটি দেখছিলাম। হঠাৎ মনে হলো, বিজ্ঞাপনের আড়ালে একটি বিশেষ বার্তা লুকানো আছে। যেন আমাদের আধুনিক গতিময় যাযাবর জীবনের এক অন্তর্নিহিত গল্পের দৃশ্যায়ন। এই ভ্রমণপিয়াসী যাযাবররা বাস করছে এক সীমান্তবিহীন পৃথিবীতে, যেখানে যোজন দূরত্ব তারা অতিক্রম করে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে।

এক কথায় বলা চলে আমাদের পূর্বপুরুষ পিতামহ কিংবা প্রপিতামহদের সময়ের তুলনায় আমরা যেন বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠেছি। সেই বিজ্ঞাপন চিত্রটি ছিল বিশ্বায়নের প্রতিচ্ছবি অথবা সেই সীমানাহীন সমতল পৃথিবীর বিশ্লেষণ, যেটা আমরা পেয়েছি থমাস ফ্রিডম্যানের পৃথিবী সমতল (দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ ফ্ল্যাট) বইতে। 

বিলবোর্ডের সেই বিজ্ঞাপনচিত্র বারবার মনে ভেসে আসছিল আর আমি ভাবছিলাম জাগতিক জটিলতার জটাজাল, যার মধ্যে আমাদের নিত্য বসবাস। আমরা যতই বিশ্বায়নের দিকে যাচ্ছি, পুরনো বিভেদ মুছে ফেলার চেষ্টা করছি, ততই অন্য এক বিপরীত সে াত যেন আমাদের উল্টো দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বায়ন যেমন আমাদের সমতল পৃথিবীকে সর্বজনীন পরিচয় তৈরি করার অঙ্গীকার করেছিল, তার বিপরীতে আরেকটি আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, সেটা হচ্ছে পরিচয়বিহীনতা। বস্তুত, এই আশঙ্কাই যেন আজকের বিশ্বের হলমার্ক।

তাহলে এই পরিচয় বা আইডেন্টিটির সংজ্ঞা কী? পরিচয় বলতে আমি বোঝাতে চাই এই বিশ্বসম্প্রদায়ের মাঝে নিজেদের আত্মপরিচয়আমাদের সাংস্কৃতিক প্রজ্ঞা, সামাজিক অবস্থান, ভৌগোলিক যোগাযোগ, জীবনাচরণ, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক গঠন ইত্যাদি। আমরা গভীরভাবে আমাদের মননে এই বিশ্বাস লালন করি যে এসব অনুষঙ্গের সম্মিলন বিশ্বদরবারে আমাদের পরিচয় তুলে ধরে। 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এসব বিষয় বা অনুষঙ্গকে আমরা প্রাধান্য দিই, চর্চা করি কিংবা আঁকড়ে ধরতে চাই। ধারণ করতে চাই যা কিছু আমাদের আত্মপরিচয়কে প্রকাশ করে। এই যে একঘেয়ে অথচ প্রতিনিয়ত আমরা সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারে যেভাবে অনুগত হয়ে পড়ছি, এর ভেতর দিয়েই আমাদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছে। গণতন্ত্র রাজনীতিতে সামাজিক মিডিয়ার অবিশ্বাস্য প্রভাবের কথা ভুলে গেলে চলবে না। বর্তমান বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় দশমিক বিলিয়ন। একবার ভাবুন মার্ক জাকারবার্গের ভার্চুয়াল রিপাবলিক ফেসবুকে আপনার একটি বিশেষ পোস্ট (অথবা গুজব!) জনমনে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে অথবা বিদ্বেষ জাগাতে পারে। এই আত্মপরিচয় হারানোর আতঙ্ক মানুষকে কখনো বিচ্ছিন্নতাবাদী, কখনো জাতীয়তাবাদী, কখনো সাম্প্রদায়িক বিভাজন ঘটাতে কিংবা সন্ত্রাসবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন গান কন্ট্রোল বা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই বিতর্ক এখন পরিচয় রাজনীতির অনুষঙ্গ হয়ে গেছে। ডানপন্থী রক্ষণশীলদের কাছে অস্ত্র রাখার অধিকার যেন শেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের এক ধরনের প্রতীক।

এই উদ্বেগজনক বিশ্বে উদ্বাস্তু, অভিবাসী, গরিব, ধনী, বাদামি, কালো সাদা বর্ণের মানুষ সবাই যেন একটা সাংস্কৃতিক ঘূর্ণির আবর্তে দিশেহারাক্রমেই আমাদের ঠেলে দিচ্ছে এক জটিলতর এমনকি দূষণযুক্ত জীবনযাপনে। এই উদ্বেগ একসময় আমাদের অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হবে এবং পরিণামে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে তৈরি করবে বিভেদের দেয়াল।

বিশ্বায়নের এই আপাত বৈপরীত্যের প্রভাব, আদর্শের দ্বন্দ্ব, নিজস্বতা স্বকীয়তা হারানোর ভয়, আত্মপরিচয়হীনতার আশঙ্কা মানুষকে আরো প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলছে। মেক্সিকো আমেরিকার সীমান্তে নির্মিতব্য দেয়ালের কথা ধরা যাক। এটা কি শুধুই দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে বিভাজনের প্রতীক, বিভেদের রূপক নাকি কাল্পনিক সংরক্ষণবাদ? আমেরিকাকে বলা হয় বহুজাতিকতার সম্মিলন কেন্দ্র, যেখানে ইতালিয়ান, আইরিশ, হিস্পানিক, আফ্রিকান, চাইনিজ, সাউথ এশিয়ান সবাই মিলেমিশে আমেরিকান হিসেবে পরিচয় বহন করে। বর্তমানে এই পরিচয় যেন প্রশ্নবিদ্ধ।

ফ্লোরিডার স্যানফোর্ডের প্রাচীরবেষ্টিত মহল্লা রাস্তার পাশে পড়ে থাকা মার্কিন তরুণ ট্রেভন মার্টিনের মরদেহের কথা স্মরণ করা যাক। ভুল তোরণ অতিক্রম করার কারণে মারাত্মক পরিণতির শিকার হতে হয়েছে ওই যুবককে। এই নৃশংস ঘটনা দেশব্যাপী এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেবর্ণবাদ না নিরাপত্তার নামে বৈষম্যবাদের রাজনীতি?

আমাদের শহরেই আপনি খুঁজে পাবেন সংরক্ষিত গলফ ক্লাব, সুরক্ষিত রিসোর্ট, যেখানে একটি বিশেষ ধনিক শ্রেণীর প্রবেশাধিকার রয়েছে। অথবা চোখে পড়বে সুরক্ষিত সুদৃশ্য দালানের দামি স্কুল, যেখানে সাধারণ মানুষ খরচের কথা চিন্তা করে তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াতে পারে না।

প্যারিসের সেইসব শহরতলির কথা ধরা যাক, যেগুলোকে বেনলিউ বা প্রান্তিক (একঘরে করা) উপশহর বলা হয়। বেনলিউগুলো মূলধারার ফরাসি সমাজ থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন। এসব শহরতলিতে গড়ে উঠেছে উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসী এবং তাদের নতুন প্রজন্মের বসতি। সম্প্রতি ফরাসি দেশফেরত অনেকেই বলছেন প্যারিস এখন পরিণত হয়েছে দ্বিভাজিত সংঘাতময় শহরে। একদিকে ফরাসিরা, অন্যদিকে যাদেরকে ঠিক ফরাসি মনে করা হচ্ছে না। এই দুই পক্ষের সংঘর্ষের পরিণামে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি চার্লি হেবডো পত্রিকা অফিসে সন্ত্রাসী হামলার ট্র্যাজেডি। একুশ শতকে কেন আমাদের গণহত্যার দৃশ্য দেখতে হবে?

মিয়ানমার থেকে বহিষ্কৃত অত্যাচারিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় নিয়েছে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই ট্র্যাজেডি আমাদের আবারো স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমরা সামাজিক প্রযুক্তিগত দিক থেকে যতই উন্নতি করি না কেন, জাতিগত বিভেদ উপজাতি নির্মূল করার বীভৎস আদিম প্রবণতা এখনো তথাকথিত সভ্যতার মুখোশ পরা মানুষের অন্তর থেকে বিলীন হয়নি।

আমরা যতই সমতল পৃথিবী তৈরির চেষ্টা করছি, তার চেয়েও বেশি কি গড়ে তুলছি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জাতিগত বিভেদের দেয়াল? ১৯৮৯ সালে জার্মানিকে বিভেদকারী বার্লিন ওয়ালের পতন হয়েছিল। ২০১৮ সালে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি দেয়াল গড়ে উঠছে আমেরিকায়, সৌদি আরবে, হাঙ্গেরিতে, ইসরায়েলে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে। আমরা এক অলীক ভাবনায় বিশ্বাস করছি যে জটিল এই সামাজিক রাজনৈতিক সমস্যাগুলো বিশালাকৃতির দেয়াল নির্মাণ করে সমাধান করা যাবে।

সাম্প্রতিক কালে সারা বিশ্বে বিবিধ পলিসি নিয়ম-কানুন চালু করার ক্ষেত্রে পরিচয় হারানোর সামাজিক ব্যাধিই যেন চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে, বিশেষত সেইসব শহরে, যেগুলো পরিগণিত হয় দর্শন, বিশ্বায়ন সভ্যতার সম্মিলন কেন্দ্র হিসেবে।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলো, কোনো ব্যক্তিবিশেষের পরিচয় সংরক্ষণের জন্য বাসনাবিলাস কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা হলো কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর পরিচয় বা তার দ্বারা সংঘটিত কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন অন্যদের সমাজে প্রান্তিক বা বর্জনীয় গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ধরনের ঘটনা এবং একটি বিশেষ ধর্মের বা বর্ণের সম্প্রদায়কে একঘরে করে ফেলার প্রবণতা আমরা লক্ষ করেছি যুক্তরাজ্যে, যুক্তরাষ্ট্রে, ভারতে, ইসরায়েলে এবং বিশ্বের অনেক দেশে। বিশ্বায়নের পেছনে সমতল পৃথিবী তৈরির যে প্রেক্ষাপট আমাদের মননে লালন করি, ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা সেই সম্মিলিত স্বপ্নের সামনে এক বিশাল অদৃশ্য দেয়াল তুলে দেয়।

আমাদের শহরগুলোয় বিশেষ গোষ্ঠীকে প্রান্তিক ঘোষিত করার এই প্রবণতা থেকে উত্তরণের উপায় কী? এজন্য শহরগুলোয় এমন কিছু পাবলিক প্লেস বা গণচত্বর নির্মাণ করতে হবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কোনো সর্বজনীন উৎসব বা উপলক্ষ বা অনুষ্ঠান একসঙ্গে উদযাপন করতে পারে। যেখানে সব ধরনের বিভেদ ভুলে সবাই মাতোয়ারা হবে সর্বজনীন সম্মিলনে। এই গণচত্বর বা নাগরিক নিলয় বিবিধ জাতি গোষ্ঠীর মধ্যকার মানসিক দূরত্ব কমিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা এমনভাবে নাগরিক অনুষঙ্গ স্থাপনা নির্মাণ করবেন, যা শহরের বাসিন্দাদের পারস্পরিক বৈষম্যকে দূরীভূত করবে এবং মুক্তচিন্তার বিকাশে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। তারা এমন শহর গড়বেন, যেখানে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত বলে কোনো সংরক্ষিত এলাকা থাকবে না। ময়দান, পার্ক, ক্রীড়াচত্বর, গণচত্বর, গণপরিবহন ব্যবস্থা ইত্যাদি নগরসেবার স্থানে নাগরিকদের প্রবেশ যখন সহজলভ্য হবে তখন বৈষম্যের ব্যবধানজনিত ক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় যে অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা হ্রাসকল্পে অর্থনীতিবিদদেরও পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রান্তিক সম্প্রদায় বেকার যুবকদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে শহরগুলো কতটা কার্যকর কিংবা অকার্যকর, তা পর্যবেক্ষণ করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে দেখতে হবে শাহরিক পরিবেশ সামাজিক অরাজকতা এবং চরমপন্থী মতবাদকে উসকে দেয়ার জন্য কতটা উদ্দীপক কিংবা বিপরীতক্রমে এই প্রবণতা হ্রাসকল্পে কতটা সহায়ক। জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে সমাজে সমতার ভিত্তিগুলো কতটা অবহেলিত, তা পর্যালোচনা করা হয়। সমন্বিত নগর পরিকল্পনায় সমতার ভিত্তিগুলো অবহেলিত হলে ব্যাপক অনিশ্চয়তা অপরাধের জন্ম দিতে পারে।

জনসাধারণের ব্যাপক সম্পৃক্ততা উদযাপিত হতে পারে এমন সব স্থান নগরকে ধারণ করতে হবে। প্রসঙ্গে বলা যায়, ১৯৬০ সালে নিউইয়র্ক শহরের পথচারীদের নিয়ে নগরবিদ উইলিয়াম এইচ হোয়াইটের গবেষণাপত্রটি শিক্ষামূলক এবং দিকনির্দেশক। তিনি মতামত দেন যে কোনো শহরে পারস্পরিকভাবে অপরিচিত লোকজন যখন পাবলিক প্লাজায় সহজে প্রবেশ করতে পারে তখন তারা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের সৌহার্দমূলক অবস্থান গড়ে তোলে। প্রসঙ্গে কলাম্বিয়ার মেডেইন শহরের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ড্রাগ ব্যবসা, সন্ত্রাস, গুপ্তহত্যা আর অরাজকতাময় শহর সম্প্রতি নবরূপে পুনর্জন্ম লাভ করেছে। গত দুই দশকে পরপর তিনজন সিটি মেয়র উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা, সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় গৃহায়ণ, পাবলিক প্লাজা নির্মাণসহ অবকাঠামোগত এবং শাহরিক পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন। ফলে মেডেইন এখন এক নিরাপদ এবং আবাসযোগ্য শহরে রূপলাভ করেছে। বোগোটা শহরেও একই রকম পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।

আমাদের উচিত গণচত্বর, গণপরিবহন, ফটুপাত, পার্ক, ময়দান, কাঁচাবাজার উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করা। নগরবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের ফলে নগরবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হবে। পরিবেশসচেতনতার মানসিকতা গড়ে উঠবে এবং সর্বোপরি সংকীর্ণ মানসিকতার দৈন্য এবং আত্মপরিচয়ের শঙ্কা দূরীভূত হবে।

অযৌক্তিক আতঙ্ক মানুষকে অমানবিক করে তোলে। অলীক আশঙ্কা নয়, আমাদের প্রয়োজন সহমর্মিতা। অলীক আশঙ্কার বদলে আমরা বরং কৌতূহলী হতে পারি। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে যে পারস্পরিক ভিন্নতা রয়েছে, সেসব বিষয় জানার জন্য আমরা আরো বেশি আগ্রহী হতে পারি। মূলত কৌতূহল আমাদের মনের সংকীর্ণ অন্ধকার দূর করে, মনকে আলোকিত করে।

নিজেকে একবার নভোচারী নীল আর্মস্ট্রংয়ের মতো কল্পনা করুন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ঈগল চন্দ্রে অবতরণ করেছে। চন্দ্রপৃষ্ঠে পা রাখার অজানা আশঙ্কা কাজ করছে মনে। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে! হতে পারে চন্দ্রপৃষ্ঠের চোরাবালিতে ডুবে যাওয়া অথবা কোনো রাসায়নিক বহিষ্করণ কিংবা অজানা জীবাণুর আক্রমণ। সব আশঙ্কাকে অগ্রাহ্য করে আপনি চন্দ্রপৃষ্ঠে পা রাখলেন। সব সংকীর্ণতাকে অগ্রাহ্য করে আপনি রায় দিলেনএকজন মানবের ছোট একটি পদক্ষেপ, সমগ্র মানবজাতির জন্য এক বিশাল বিজয়। 

কৌতূহল মানুষের কল্পনাকে জাগ্রত করে, মানুষকে আরো বেশি মানবিক হতে প্রেরণা দেয়।

 

. আদনান মোর্শেদ: স্থপতি, গবেষক, নগরবিদ অধ্যাপক

 

ভাষান্তর: কিশওয়ার ইমদাদ 

লেখক সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন