মঙ্গলবার | জুন ০২, ২০২০ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে না ভোডাফোন-আইডিয়া

বণিক বার্তা ডেস্ক

ভারতের বাজারে সেলফোন অপারেটরগুলোর ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে তীব্র প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে বকেয়া অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ (এজিআর) পরিশোধে বাধ্য হওয়ায় অনেক অপারেটর খারাপ সময় পার করছে। এজিআরের আংশিক পরিশোধ করার পর আর্থিক সংকটে পড়া ভারতীয় সেলফোন অপারেটর ভোডাফোন-আইডিয়া লিমিটেড কার্যক্রম গুটানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে দেশটিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যবসা কৌশল ঢেলে সাজিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে ব্যবসা পরিচালনায় এখন সার্কেলভিত্তিক পরিচালন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে ভোডাফোন-আইডিয়া লিমিটেড। খবর ইটি টেলিকম।

গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে মোট ৫৩ হাজার কোটি রুপি এজিআরের মধ্যে হাজার ৫০০ কোটি রুপি পরিশোধ করে ভোডাফোন-আইডিয়া। ওই সময় থেকে অপারেটরটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছিল।

এর আগে ভোডাফোন-আইডিয়ার চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লা বলেন, শুধু ভোডাফোন-আইডিয়া নয়, বরং ভারতের জিও ব্যতীত বৃহৎ সব অপারেটর লোকসানের মুখে রয়েছে। এতে বাড়তি অনিশ্চয়তা যোগ করেছে বকেয়া এজিআর নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থা চলতে থাকলে ভারতের টেলিকম খাত মুখ থুবড়ে পড়বে। আমি মনে করি, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আরো কার্যকর অনুপ্রেরণাদায়ী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তা না হলে সামগ্রিক খাতের পতন ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। আমরা কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হব।

গত বছর অক্টোবরে ভারতী এয়ারটেল, রিলায়েন্স কমিউনিকেশন ভোডাফোন-আইডিয়ার কাছ থেকে লাখ ৪৭ হাজার কোটি রুপি বকেয়া আদায়ের আদেশ দিয়েছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। একই সময় সেলফোন অপারেটরগুলোকে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে বকেয়া পরিশোধে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। বকেয়া পরিশোধের নির্ধারিত সময়ের আগে এজিআর নিয়ে অপারেটরগুলোর আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে। এর ফলে দেশটির সেলফোন অপারেটরগুলোর সামনে বকেয়া অর্থ পরিশোধে বিলম্ব করার আর কোনো সুযোগ ছিল না।

বকেয়া এজিআর আদায়ের যে আদেশ দিয়েছিলেন আদালত, তা পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ভোডাফোন-আইডিয়ার শীর্ষ ব্যবস্থাপনা নড়েচড়ে বসেছিল। প্রাথমিকভাবে ঋণখেলাপি ট্যাগ এড়ানো এবং কার্যক্রম পরিচালনায় যাতে বিপত্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য বকেয়া এজিআরের আংশিক পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ভোডাফোন-আইডিয়ার লাইসেন্স ফি, স্পেকট্রাম ইউজেস চার্জ, জরিমানা জরিমানার ওপর সুদ বাবদ ৫৩ হাজার কোটি রুপি বকেয়া রয়েছে। এরই আংশিক পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আংশিক বলা হলেও অংকটা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

২০০৫ সাল থেকে এজিআরের সংজ্ঞা নিয়ে ভারতের ব্যক্তি খাতের টেলিকম কোম্পানি এবং দেশটির টেলিকম বিভাগের (ডিওটি) মধ্যে আইনি লড়াই চলে আসছে। গত অক্টোবরের শেষ দিকে এজিআর নিয়ে ভারতী এয়ারটেল, রিলায়েন্স কমিউনিকেশন ভোডাফোন-আইডিয়ার মতো টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন খারিজ করে দিয়ে ডিওটির সংজ্ঞাকে বৈধতা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

একই সময় বকেয়া পরিশোধে সেলফোন অপারেটরগুলোকে ছয় মাসের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। এর কয়েক সপ্তাহ পর দেশটির সেলফোন অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারকে ভারতী এয়ারটেল, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস ভোডাফোন-আইডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে বকেয়া লাইসেন্স ফি বাবদ মোট ৯২ হাজার ৬৪২ কোটি রুপি পরিশোধ করতে বলা হয়। এছাড়া স্পেকট্রাম ইউজেস চার্জ, জরিমানা জরিমানার ওপর সুদ বাবদ আরো ৫৫ হাজার ৫৪ কোটি রুপি বকেয়া পরিশোধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্যে আদালতের রায় ১৫টি পুরনো সেলফোন অপারেটরের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে ব্যক্তি খাতের বড় দুটি অপারেটরের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে। সেলফোন অপারেটরগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয়া আর্থিক বোঝা দূর করার জুতসই পদ্ধতি বের করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কারণ ভারতের টেলিকম বিভাগের দাবীকৃত বকেয়া অর্থ পরিশোধ করার মতো অবস্থায় নেই ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস। তবে সরকার এজিআর বিষয়ে আদালত প্রদত্ত সিদ্ধান্তে অনড় ছিল।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন