মঙ্গলবার | জুন ০২, ২০২০ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেষ পাতা

কভিড-১৯

৬৮ কারাগারে ঈদে স্বজন সাক্ষাৎ বন্ধ

মনজুরুল ইসলাম

ক্রমেই নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে দেশের কারাগারগুলোতে। কারারক্ষী বন্দি মিলে পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩৩ জনের। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারেই গতকাল (১৯ মে) ছয়জন কারারক্ষীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল ফিতরে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। এমনকি করোনা সংক্রমণ এড়াতে ঈদের দিন বন্দিদের বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার পাঠানোর যে প্রথা প্রচলিত আছে, সেটিও এবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, করোনা সংক্রমণ রুখতে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে, যা ঈদের দিনও বলবৎ রাখার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া ঈদের দিন বন্দিদের বাড়ি থেকে স্বজনদের খাবার নিয়ে আসার যে প্রথা চালু ছিল, সেটিও এবার বন্ধ রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। দেশের ৬৮টি কারাগারের জন্যই একই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিগগিরই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।

জানা গেছে, কারা অধিদপ্তর থেকে সম্প্রতি দেশের প্রতিটি কারাগারে করোনা মোকাবেলায় ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠনসহ ১৩ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সব কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল, অপরিহার্য প্রয়োজন ছাড়া স্টাফদের কারা এলাকার বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ এবং তাদের কোনো আত্মীয়-স্বজন বাইরে থেকে কারা এলাকায় প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা। এছাড়া স্বাভাবিক বদলি কার্যক্রম স্থগিত, প্রতি কারাগারে ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন, বন্দিদের সম্ভাব্য অসন্তোষ বা দাঙ্গা মোকাবেলায় তাদের মোটিভেশন করার পাশাপাশি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা, প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় আইসোলেশন সেন্টার চালু করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে কোয়ারেন্টিন প্রয়োজনবোধে আইসোলেশনে প্রেরণ এবং পরীক্ষার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসা প্রয়োজন ছাড়া কোনো বন্দিকে কারাগার থেকে বাইরের হাসপাতালে না পাঠানো।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, জনবহুল আদালতে বন্দিদের জামিন বা মামলা শুনানির জন্য গমনাগমন হ্রাসে উদ্যোগ নেয়া এবং আত্মীয়-স্বজনের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করা, কারাগারগুলোতে ইনফ্রায়েড থার্মোমিটার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, পিপিই, গ্লাভস, জীবাণুমুক্তকরণ সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা করা, ডিউটিতে যাওয়া প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জীবাণুনাশক দ্রবণে যেমন পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণ ইত্যাদিতে পা মুছে প্রবেশ করার ব্যবস্থা চালু করা।

কারাগারগুলোতে করোনা সংক্রমণ রোধে নেয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন জানান, কারাগারে আসা নতুন বন্দিদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। নিয়ম ৬৮টি কারাগারেই চালু করা হয়েছে। এজন্য সব কারাগারে কিছু ওয়ার্ড খালি করে কোয়ারেন্টিনের জন্য রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আপাতত বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ থাকলেও কারাগারের নির্ধারিত মুঠোফোন নম্বরে মিনিট কথা বলার সুযোগ আছে। 

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (১৯ মে) পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩২ জন কারারক্ষীর। দেশের সব কারাগারে কারারক্ষী বন্দি মিলে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩১৯ জন।

উল্লেখ্য, গতকাল (১৯ মে) পর্যন্ত ৬৮ কারাগারে আটক ছিল মোট ৮৪ হাজার ৪০৩ জন বন্দি। এর মধ্যে পুরুষ ৮১ হাজার ২৪ জন মহিলা হাজার ৩৭৯ জন। আর মোট হাজতি ছিলেন ৬৯ হাজার ৩২৭ জন; যাদের মধ্যে পুরুষ ৬৬ হাজার ৫২৬ জন মহিলা হাজার ৮০১ জন।

এছাড়া মোট কয়েদি ছিলেন ১৩ হাজার ৮২ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৫৫৭ জন মহিলা ৫২৫ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আছেন হাজার ৯০০ জন; যার মধ্যে পুরুষ হাজার ৮৫২ জন মহিলা ৪৮ জন।

এছাড়া বিদেশী বন্দি আছেন ৫৭৫ জন; মায়ের সঙ্গে শিশু ৩৯৭ জন; জঙ্গি ৭৮৫ জন (জেএমবি ৫০০ + অন্যান্য ২৮৫); আগমন বন্দি ৩৭৭ জন এবং জামিন বন্দি হাজার ৮৭৫ জন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন