বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেয়ারবাজার

করোনাকালেও ওয়াল স্ট্রিটের ইতিহাসে সেরা মাস কেন?

কিম কায়বান্তো

অনেক সময় বাস্তব অর্থনীতি এবং শেয়ারবাজারের মাঝে লক্ষণীয় এক বৈপরীত্যের দেখা মেলে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গত এপ্রিল ছিল ১৯৮৭ সালের পর সবচেয়ে সেরা একটি মাস। যখন একই সময়ে বাস্তব অর্থনীতির সূচক যেমন কর্মসংস্থান, উৎপাদন, পরিষেবা, বাণিজ্য, পণ্য জিডিপি বেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

কেউ কেউ বলছিলেন বিনিয়োগকারীদের অনুভূতি বাস্তব অর্থনীতির যেকোনো প্রভাব থেকে মুক্ত। এটা হয়তো এমন কিছুই হবে অথবা এই প্রচণ্ড প্রবাহ একটি আত্মপরিপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছে। আমি বিরোধ করে বলেছিলাম, এপ্রিলের মার্কেটের চিন্তায়, অনুভূতিতে শক্তি স্বচ্ছতাকে অগ্রাহ্য করে করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকোচনের সময় বেকারত্বের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধিতে শেয়ারের দাম সাধারণ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়। গবেষকরা দেখান যে বেকারত্বের বৃদ্ধি কোম্পানির আয়কে হ্রাস  করে এবং লভ্যাংশ বৃদ্ধি করে। এই সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয় অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের সময়ে। তাই যখন বেকারত্ব অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ে শেয়ার দর সাধারণত কমে যায়।

তার পরও বিশাল পরিবর্তন মার্চের ২১ তারিখে প্রাথমিক বেকারত্বের সংখ্যাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মিলিত হয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের নেয়া অনন্যসাধারণ নাটকীয় পদক্ষেপের সঙ্গে। এরপর শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন শুরু হয় পরের সোমবার থেকে। যা কিনা গোটা এপ্রিলজুড়েই দেখা গেছে। এমনকি বেকারত্ব বীমা দাবি করা লোকের সংখ্যা আকাশছোঁয়ার পরও এটি অব্যাহত ছিল। বর্তমানে বেকারত্ব বীমা দাবি করা লোকের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে কোটি ছাড়িয়েছে।

এর পেছনে একটি কারণ হচ্ছে অনুপস্থিতির জন্য ছুটি এবং খরচ কমানোর জন্য কর্মচারীদের ছাঁটাই। পাশাপাশি অবশ্যই, বৃহত্তর অর্থনীতি তাদের ব্যয় থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বেকারত্ব এবং খরচের রেখা দৃঢ়ভাবে স্থির হয়ে যায় বাজারে অংশগ্রহণকারীদের কাছেও তা জানা হয়ে যায়।

ঠিক ওই সময় থেকে বেকারত্বের পরবর্তী উত্থান এবং খরচের যে পতন তা আর অপ্রত্যাশিত ছিল না। ছুটি ছাঁটাইয়ের ধারা অবশ্য বেশ অনুমেয় ছিল এবং এই তথ্যটি একই সময়ে সংবেদন শেয়ারের দাম, উভয়ের মাঝেই নির্মিত ছিল। যে কারণে বাস্তব অর্থনীতির মারাত্মক যে পরিসংখ্যানগুলো তা বাজারকে বড় দিকে এগিয়ে নেয়নি।

সরকারি হস্তক্ষেপ

ধারাবাহিকভাবে বাস্তব অর্থনীতির  হতাশাজনক খবর সত্ত্বেও, মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের উল্লম্ফন ছিল অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের অনন্যসাধারণ নীতি ব্যবস্থা এবং কেয়ার্স আইনের অধীনে ইউএস কংগ্রেস কর্তৃক ট্রিলিয়ন ডলার ফার্ম এবং মার্কেটে দেয়া হয়। যেখানে জরুরি তারল্য সহায়তা প্রয়োজন ছিল। মূলত বাজারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সহায়তা দেয়া হয়। ভোক্তা ব্যবসা সংকুচিত হওয়া সত্ত্বেও সরকারের এসব প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাত্ক্ষণিক বিপর্যয়কে সামাল দেয়া। অন্তত লকডাউন ব্যবস্থা উঠে যাওয়া পর্যন্ত তারা এটি অব্যাহত রাখতে চেয়েছিল। এটি মূলত তাত্ক্ষণিকভাবে আঘাত সারিয়ে তোলার একটি বিকল্প ব্যবস্থাও ছিল।

অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ নায়াল ফার্গুসন পরামর্শ দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কারণে অর্থনৈতিক বাজারের যে প্রকৃত চিত্র তা পেতে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। আর রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের নিজস্ব একটি প্রভাব রয়েছে, যা কিনা এর সহযোগিতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে মাহামারীর প্রকোপ শেষ হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন সবাইকে জরুরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এটিকে মূলত বর্তমান প্রেসিডেন্টের পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসার যে কৌশল তার অংশ হিসেবেই দেখা যেতে পারে; যা কোনো অবস্থাতেই তিনি হাতছাড়া করতে রাজি হবেন বলে মনে হয় না।

দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সমস্যা

কারেস আইনের অধীনে বেশির ভাগ জরুরি সহযোগিতা মূলত ঋণসহায়তার অংশ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কোষাগার ৫০০ বিলিয়ন ডলার পাবে, যা দিয়ে তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা খাতগুলো যেমন বিমান, রাজ্য শহরগুলোকে ঋণ দিয়ে সহায়তা করবে। যা অন্যান্য বিনিয়োগ সংস্থাও পাবে।

কিন্তু এর আগে ২০১৯-এর শরত্কালীন হিসাব অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট হাউজগুলোর ঋণের বোঝা ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছিল। জিডিপির হার অনুযায়ী ননফিন্যান্সিয়াল ঋণের বোঝা সর্বকালের সীমা অতিক্রম করে গেছে। কিছু হিসাবনিকাশ অনুযায়ী জম্বি ফার্মগুলো, যাদের আয় কমে গেছে তাদেরও নতুনভাবে ঋণ দিতে হবে।

এছাড়া ৫০০ কোম্পানির ওপর এক পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, শক্তিশালী ফার্মের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বিপরীতে দুর্বল ভঙ্গুর ফার্মের সংখ্যাই অধিক। অর্থাৎ কারেস আইনের অধীনে যতই পদক্ষেপ নেয়া হোক না কেন, ভ্যাকসিন আসা পর্যন্ত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দমিত অবস্থাতেই থাকবে।

স্ক্রলডটইন

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন