রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

প্রথম পাতা

এডিবির সংশোধিত প্রক্ষেপণ

বৈশ্বিক অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে ৯.৭%

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত মহামারীর কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার কমতে পারে দশমিক শতাংশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) গতকাল প্রকাশিত এক প্রক্ষেপণে কথা জানানো হয়েছে। সংশোধিত প্রক্ষেপণে বৈশ্বিক অর্থনীতির সংকোচনের সম্ভাব্য হার আগেকার এক পূর্বাভাসের তুলনায় বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছে সংস্থাটি। খবর এএফপি।

বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে সংকোচনের কারণ হিসেবে এডিবি বলছে, মহামারীর কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছে কয়েক মিলিয়ন মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় মারাত্মক সংকোচনের শিকার হতে যাচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি।

সম্ভাব্য বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এডিবি বলছে, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণসৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ক্ষতির মোট পরিমাণ দাঁড়াতে পারে লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলারের। তবে এখনো বিভিন্ন দেশের সরকার যদি পর্যাপ্ত মাত্রায় সচেষ্ট হয়, তবে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো যেতে পারে।

মহাদেশীয় ঋণদাতা সংস্থাটির হিসাব বলছে, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারে, যার সংখ্যা ২৪ কোটি ২০ লাখ পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে। প্রায় এক দশক আগেকার বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়কালের তুলনায় সংখ্যা সাত গুণেরও বেশি। বিপুল পরিমাণ মানুষ কর্মহীন হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী শ্রমিক আয় কমতে পারে লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ পর্যন্ত।

বিষয়ে এডিবির বক্তব্য হলো, ক্ষতি পোষানোটা কঠিন হয়ে যাবে। এছাড়া মহামারীকে যদি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে ঋণখেলাপি দেউলিয়ার সংখ্যা বাড়বে। অন্যদিকে প্রকট হয়ে উঠবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট।  

এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে ৪৪ লাখের বেশি মানুষ। মারা গিয়েছে লাখের বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আশঙ্কা, ভাইরাসটি সহসাই পুরোপুরি নির্মূল নাও করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী জনসাধারণকে এর সঙ্গেই বসবাসের উপায় খুঁজে নিতে হবে।

এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৬টি দেশ অঞ্চলে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পতিত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬ হাজারে।

অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা কমাতে এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। প্রণোদনামূলক এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান ধরে রাখতে পেরোল সহায়তা, নগদ সহায়তা করছাড়।

এডিবি মনে করছে, প্রণোদনামূলক এসব পদক্ষেপ কভিড-১৯ মহামারীর কিছু বিরূপ অর্থনৈতিক প্রভাব কাটাতে সহায়তা করেছে। এর পরও যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার বা দেশটির মোট জিডিপির ১০ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ বা দেশটির মোট জিডিপির ১১ শতাংশ পর্যন্ত।

এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী পর্যটন উড়োজাহাজ পরিবহনসহ অর্থনৈতিক বেশকিছু খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশে দেশে সংক্রমণ থামাতে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি লকডাউনের কঠোর প্রয়োগ এসব খাতকে নিয়ে গিয়েছে বিপর্যয়ের চূড়ান্তে। বিশেষ করে বেশকিছু এয়ারলাইনস সংস্থা টিকে থাকতে গিয়ে কর্মীদের ছাঁটাই বা অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

বিষয়ে এডিবি বলছে, কর্মসংস্থানের ওপর নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাব মারাত্মক। বিশেষ করে অনিয়মিত বা চুক্তির ভিত্তিতে কর্মরত অদক্ষ কর্মীরাই এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সবচেয়ে বেশি।

এছাড়া চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের ব্যাপ্তি লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছে এডিবি। চীন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য বিরোধ, বৈশ্বিক শ্লথতা এবং ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের ক্রমবর্ধমান মাত্রা শঙ্কাকে আরো প্রকট করে তুলেছে বলে অভিমত দিয়েছে সংস্থাটি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন