মঙ্গলবার | জুন ০২, ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা

কভিড-১৯ মুক্ত দেশ কি ভাগ্যবান নাকি মিথ্যুক?

ক্যাথেরিন পুটজ

এক মাস আগেও উহান থেকে শুরু হওয়া নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মিলিয়নের মতো। কিন্তু গত মে পর্যন্ত সেটি হয়ে দাঁড়ায় . মিলিয়ন। যেখানে কিনা লাখ ৫০ হাজার মানুষ (বর্তমানে সেটি প্রায় লাখের কাছাকাছি) গত ছয় মাসেরও কম সময়ে কভিড-১৯- আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

এপ্রিলের শুরুতে আমি একটি আর্টিকেল লিখেছিলাম, বিশ্বের কোথায় করোনাভাইরাস নেই? যে দেশগুলোতে কভিড-১৯- আক্রান্ত হওয়ার কোনো খবর আসেনি, সেগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথমত, আইসোলেটেড দ্বীপরাষ্ট্র, স্বৈরাচারী রাষ্ট্র দরিদ্র রাষ্ট্রযেখানে ব্যাপকভাবে টেস্ট করার সুবিধা নেই।

গণনা করার মজার একটি দিক হচ্ছে, এর প্রকৃত সংখ্যা নির্ভর করছে দেশগুলোকে আপনি কীভাবে গণনা করছেন তার ওপর। উদাহরণস্বরূপ কুক দ্বীপপুঞ্জ সাধারণত নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সংঘবদ্ধ। যেখানে দীপরাষ্ট্রটি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে স্বাধীনভাবে সংযুক্ত। অন্যদিকে গুয়াম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুসংহত সমন্বিত অঞ্চল। কুক দ্বীপপুঞ্জে এখন পর্যন্ত কভিড-১৯- আক্রান্ত হওয়ার খবর আসেনি। এপ্রিলের শেষ দিকেই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয় লাভ করেছেন। প্যাসিফিক রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক অবস্থা হচ্ছে, অঞ্চলগুলো এখানে মুক্তভাবে সংযুক্ত এবং পুরোপুরিভাবে স্বাধীন। যদিও অঞ্চলগুলোর হয় নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে অথবা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষাবিষয়ক বোঝাপড়া রয়েছে।

তবুও অবশ্য আমার গণনা অনুসারে সে সময় যারা ভাগ্যবান (অথবা মিথ্যুক) ছিল উত্তর কোরিয়া, তুর্কমেনিস্তান, লেসোথো, দ্য সলোমন আইল্যান্ড, ভানুয়াতু, সামোয়া, কিরিবাতি, মাইক্রোনেসিয়া, টোঙ্গা, দ্য মার্শাল আইল্যান্ড, পালাও, টুভালু নাউরু। আগের আর্টিকেল লেখার সময়ও এই দেশগুলো ছিল করোনামুক্ত। তবে কোমোরোস এবং তাজিকিস্তানে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

আমার আর্টিকেলে আমি চেষ্টা করেছি, দেশগুলোতে মহামারী ছোবল না পড়ার কারণ খুঁজে বের করার। এখানে আমি যুক্তি দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করব, কভিড-১৯ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত দেশগুলো সম্পর্কে কীভাবে ভাবব।

প্রথমত, এটা চেনা গুরুত্বপূর্ণ যে ইন্টারনেটে যেসব ড্যাশবোর্ড পাওয়া যায় তা সেসব উপাত্ত দ্বারাই আঘাতপ্রাপ্ত যা তাদের শক্তি দেয়। কারণ এই উপাত্ত আসে সরকারের কাছ থেকে। সরকার প্রদত্ত এসব ডাটা বা উপাত্তের স্বচ্ছতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একটি দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পরও দেশটির সরকার চাইলে পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে ডাটা দ্বারা বদলে দিতে পারে। এটা তবুও কম ক্ষতিকর, কিন্তু আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা না জানানো বাস্তবতাকে বিপজ্জনকভাবে ভুল দিকে পরিচালিত করে।

এখানে স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক দেশ এবং অস্বচ্ছ স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোকে বাছাই করা সহজ। যদিও বর্তমান সংকট বলছে বাস্তবতা বেশ জটিল। ভিয়েতনাম একটি স্বৈরতান্ত্রিক কমিউনিস্ট রাষ্ট্র। কিন্তু কভিড-১৯-এর দিক থেকে তারা বেশ স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্য সংকটের ব্যাপারে নিজেদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকাচ্ছে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয়ত, একটি দেশের সংক্রমণ মৃত্যুর হার নির্ভর করছে কিছু বিষয়ের ওপর, যদিও তা সীমাবদ্ধ নয়। সরকারের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সময়কাল এবং বিস্তৃতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, ভ্রমণের নমুনা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, পরীক্ষার ক্ষমতা এবং সাংস্কৃতিক বিধিগুলোর ওপর সরকারের দেয়া আদেশ এবং মাস্ক পরার বিষয়গুলো নির্ভর করে। নির্দিষ্ট কিছু রাষ্ট্র তাদের বিদ্যমান গুণাবলি দ্বারা হয় অনেক বেশি সুরক্ষিত বা প্রস্তুত হয়ে ওঠে। অন্যরা ব্যাপক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ওপরে বর্ণিত প্রথম দ্বিতীয় উভয় দিকেই ঝড়ের ঝুঁকিতে থাকার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে তাজিকিস্তান। মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোর বিপরীতে তাজিকিস্তানের স্থলসীমান্তকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি কঠিন। এছাড়া দুসানব সীমান্তকে রক্ষা করা এবং ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে হোঁচট খেয়েছে। দেশটি মার্চের প্রথম সপ্তাহে ৩৫টি দেশ থেকে বিদেশীদের আসার ব্যাপারে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু একদিন পরই সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে তারা। এখন কেবল তাজিকিস্তান এরই মধ্যে ঝুঁকিতে আছে এমন নয়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে দেশটির সরকার সবকিছু এলোমেলো করে ফেলেছে।

তুর্কমেনিস্তান তথ্য গোপনের দিক থেকে আরো অনেক বেশি স্বৈরাচারী অবস্থান গ্রহণ করেছে।

এখন যেসব দেশে কোনো আক্রান্ত শনাক্ত হয়নি হয় তারা বিশ্বস্ত (প্যাসিফিক দেশগুলোর মতো) অথবা না (তুর্কমেনিস্তান উত্তর কোরিয়া) যদিও তারা খুব কমই সুবিধা পাবে। কারণ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে তাদেরও পড়তে হবে। পাশাপাশি ভাইরাস তাদের কাছে যাওয়ার ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান, যদি এখনো না গিয়ে থাকে। তাই অস্বীকার করা সত্যিকার অর্থেই কোনো ভ্যাকসিন না।

দ্য ডিপ্লোম্যাট

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন