বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি

পুঁজিবাজার জরুরি সেবাভুক্ত কিনা জানতে চায় অর্থ মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি চলছে। সময় জরুরি সেবা ব্যতীত অন্য সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে পুঁজিবাজারও। দফায় দফায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সংগতি রেখে পুঁজিবাজার বন্ধের মেয়াদও বেড়েছে। করোনা সংকটের মধ্যেও বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজার চালু থাকায় দেশেও পুঁজিবাজার চালুর দাবি উঠেছে। অবস্থায় দেশে পুঁজিবাজার চালু করতে হলে এটিকে জরুরি সেবার আওতায় আনতে হবে। এজন্য সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়ে পুঁজিবাজার জরুরি সেবার আওতাভুক্ত কিনা সেটি জানতে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পুঁজিবাজার চালুর জন্য ডিএসইর প্রস্তাবটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া কমিশনের কর্মকর্তারাও বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। অবস্থায় সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে পুঁজিবাজার জরুরি সেবার মধ্যে পড়ে কিনা সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়া গেলে সেটি বিএসইসিকে জানিয়ে দেয়া হবে।

অবশ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে পুঁজিবাজারকে জরুরি সেবার আওতাভুক্ত করার কোনো প্রস্তাব বা অনুরোধ করা হয়নি। শুধু এটি জরুরি সেবার মধ্যে পড়ে কিনা, সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে মে ডিএসইর পক্ষ থেকে চলতি মাসের ১০ তারিখ থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর জন্য কমিশনের কাছে অনেকগুলো বিষয়ে ছাড় চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পাবলিক ইস্যু রুলস, লিস্টিং রেগুলেশন, স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার অনুমোদিত প্রতিনিধি বিধিমালাসহ কমিশনের বেশকিছু আদেশ প্রজ্ঞাপন পরিপালনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল ডিএসই। এসব বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত সম্মতি পেলে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষে লেনদেন চালু করা সম্ভব।

অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বলছে এসব বিষয়ে ছাড় শিথিলতা দিতে হলে কমিশন সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চলতি মাসের তারিখে বিএসইসির কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামীর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে বিএসইসিতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক . এম খায়রুল হোসেন আরেক কমিশনার খোন্দকার কামালুজ্জামান দায়িত্বে রয়েছেন। কমিশন সভা করতে হলে চেয়ারম্যান কমিশনারসহ ন্যূনতম তিনজনের উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ করতে হয়। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতায় এটি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নতুন কমিশনার নিয়োগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত কমিশন সভার মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিএসইর প্রস্তাবের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না বিএসইসি। তাছাড়া পুঁজিবাজারকে জরুরি সেবার আওতাভুক্ত করা না হলে লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে না। কিন্তু জরুরি সেবার আওতাভুক্ত করা মন্ত্রণালয় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্তের বিষয়। তাই পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর বিষয়ে বেশকিছু জটিলতা রয়েছে বলে জানান তারা।

অবশ্য ১০ মে থেকে পুঁজিবাজার চালুর কথা জানালেও এরই মধ্যে সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সংগতি রেখে ১৬ মে পর্যন্ত পুঁজিবাজার বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়েছে ডিএসই। এক্সচেঞ্জটির কর্মকর্তারা বলছেন, পুঁজিবাজার বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হলেও যদি সময়ের মধ্যে বিএসইসির কাছ থেকে সম্মতি পাওয়া যায়, তাহলে লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে।

প্রতি বছরই ঈদের আগে পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে যায়। সময় অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে অর্থ উত্তোলন করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী তাদের জরুরি প্রয়োজনেও শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। তাছাড়া অনেক বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে নগদ অর্থও রয়েছে। পুঁজিবাজার বন্ধ থাকার কারণে অর্থও উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর প্রথম দফায় সাতদিন সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয় দ্বিতীয় দফায় তিনদিন সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল করা হয়। এরপর ১১ দিন বাড়িয়ে সাধারণ ছুটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এবং পরে আরো ১০ দিন বাড়িয়ে মে পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করা হয়। আর সর্বশেষ সাধারণ ছুটির মেয়াদ ১১ দিন বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। সরকারের সাধারণ ছুটির সঙ্গে সংগতি রেখে ধাপে ধাপে পুঁজিবাজার বন্ধের মেয়াদও বাড়িয়েছে ডিএসই।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন