মঙ্গলবার | জুলাই ১৪, ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

প্রথম পাতা

ইউজিসির নির্দেশনা

জুলাইয়ের আগে নতুন সেমিস্টার নয়

সাইফ সুজন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলমান সেমিস্টারের ক্লাস-পরীক্ষা অনলাইনে নিতে পারলেও জুলাইয়ের আগে নতুন সেমিস্টারের কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে জুনে। নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়গুলোকে এমন নির্দেশনাই দিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)

জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল অনলাইনে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চলমান অচলাবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নির্দেশনা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয় ইউজিসিকে। সে আলোকে একটি খসড়া নির্দেশনা তৈরি করেছে ইউজিসি। খসড়াটি ইউজিসির চেয়ারম্যান অনুমোদনের পর সপ্তাহেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

প্রসঙ্গে ইউজিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) . ফেরদৌস জামান বণিক বার্তাকে বলেন, করোনার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নির্দেশনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হয় ইউজিসিকে। সে আলোকে ইউজিসির সদস্যরা একটি খসড়া নির্দেশনা করে চেয়ারম্যান স্যারের কাছে পাঠিয়েছেন। চেয়ারম্যান স্যার নির্দেশনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেটি চিঠি আাাকারে পাঠানো হবে।

খসড়া নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চলমান সেমিস্টারের ক্লাস পরীক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে নেয়া যাবে। তবে নতুন কোনো সেমিস্টারের কার্যক্রম আগামী জুলাইয়ের আগে শুরু করতে পারবে না বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতির জন্য মার্চ থেকেই বিভিন্নভাবে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যদিও ইউজিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী তারা জুনের আগে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না।

প্রসঙ্গে ইউজিসির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউজিসির পক্ষ থেকে কয়েক বছর ধরেই দুই সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। যদিও বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই সেটি মানছে না। বছরে দুবার ভর্তি নিলে তো অচলাবস্থার মধ্যে ভর্তি নিয়ে এত ঝামেলা সৃষ্টি হতো না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বছরে তিনবার ভর্তি নেয়, এখন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য তারাই বেশি অনুরোধ করছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির দিকেই মনোযোগ বেশি। কিন্তু আমরা দুই সেমিস্টারের শিক্ষা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে চাই। পাশাপাশি এখন বন্ধের মধ্যে সব করতে গেলে শিক্ষার্থীদের ওপরও এক ধরনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ সবার কথা বিবেচনায় নিয়েই নির্দেশনার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

আর অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা বিষয়ে তিনটি উপায়ের যেকোনোটি অনুসরণ করতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে একটি উপায় হলো অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস-পরীক্ষা দুটিই নেয়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর ব্যবহারিক পরীক্ষা কোনোভাবেই অনলাইনে নেয়া যাবে না। পাশাপাশি অনলাইন পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা অবলম্বন করতে হবে। দ্বিতীয় উপায়টি হলো অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস সম্পন্ন করে পরবর্তী সেমিস্টারের কোনো এক সময় পরীক্ষা নিয়ে নেয়া। এক্ষেত্রে বড় পরিসরে পরীক্ষা নিতে প্রতিবন্ধকতা থাকলে এর আকার সীমিত করা যাবে। আর তৃতীয় উপায়টি হলো যেসব বিশ্ববিদ্যালয় করোনা পরিস্থিতির আগে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ ক্লাস সম্পন্ন করেছে তারা এখন কোনো ক্লাস-পরীক্ষা না নিলেও চলবে। পরবর্তী সেমিস্টারে বাকি কার্যক্রম সমন্বয় করতে পারবে।

একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরে প্রশাসনিক আর্থিক বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে খসড়ায়। এতে বলা হয়েছে, মানবিক কারণে টিউশন ফির জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর যেন কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আহ্বান জানানো হবে। এছাড়া শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিলম্ব বা চাকরিচ্যুত করা থেকে বিরত থাকার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেয়া হবে।

করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণার পর থেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে ক্লাস নিতে উৎসাহ দিয়ে আসছিল ইউজিসি। এরপর দীর্ঘ ছুটি পুষিয়ে নিতে অনলাইনে ক্লাস নিতে শুরু করে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইউজিসির হিসাবে বর্তমানে ৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। এর মধ্যে ৫৬টি বেসরকারি বাকি ৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। আর দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১০৫টি। এর কয়েকটি এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। তবে ওই সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া, মূল্যায়ন শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়। কিন্তু পরীক্ষা না হলে শুধু ক্লাস নিলে সেশনজটের আশঙ্কা নতুন ভর্তি না নিলে আর্থিক ক্ষতি হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন