মঙ্গলবার | জুলাই ১৪, ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

টকিজ

মহামারীর চলচ্চিত্র: ‘দ্য বে’

ফুসফুস খেয়ে ফেলছে পরজীবী ভাইরাস

ফিচার ডেস্ক

পরজীবী ভাইরাসের আক্রমণে একটি এলাকা পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিন্তু কী এক কারণে সরকার সেটিকে গোপন করে রেখেছে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে। ঘটনার তিন বছর পর একটি ফুটেজ পাওয়া যায়। একে একে আরো ফুটেজ পাওয়া যায়। কীভাবে সমুদ্রের মাছ থেকে মানুষ, এরপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে পরজীবী ভাইরাস, তার সবই জানা যায়। পুরনো ফুটেজ ফাঁস হওয়ায় এবং ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার কারণে বিপদে পড়ে যায় সরকার।

এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দ্য বে চলচ্চিত্রটির কাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের ক্ল্যারিজ এলাকার সমুদ্রতীরে ঘটে যাওয়া এক অস্বাভাবিক ঘটনাকে নিয়ে কাহিনী সাজানো হয়েছে। যদিও এটিকে হরর ঘরানার ছবি বলা হয়। তবে অনেক চলচ্চিত্র সমালোচকই একে হরর ঘরানার না বলে বরং ভুলবশত রেকর্ড হওয়া ইকো-ডকুমেন্টারির কাতারে ফেলতে চান। কারণ ছবিতে প্রায় পুরো সময়টাতে বিভিন্ন ব্যক্তির ভিডিও করা ছোট ছোট ফুটেজ দেখানো হয়েছে।

ঘটনার শুরু হয় ২০০৯ সালের জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে। মেরিল্যান্ডের ক্ল্যারিজ উপকূলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুজন গবেষক পানিতে বিষাক্ত উপাদানের চরম মাত্রায় উপস্থিতির কথা স্থানীয় মেয়রকে জানান। কিন্তু তিনি ব্যবস্থা নেবেন না বলে জানান, কেননা এতে স্বাধীনতা দিবসে মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্বাধীনতা দিবসেই আক্রমণ চালায় পরজীবী ভাইরাসটি।


প্রথমে মাছের মধ্যে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এমন একধরনের পরজীবী, যা মাছের ফুসফুস খেয়ে ফেলছিল। এরপর সেই পরজীবী মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মানুষের ফুসফুস খাওয়া শুরু করে। একজন-দুজন করতে করতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সমুদ্র তীরে কয়েক লাখ মাছ মরে ভেসে ওঠে। পুরো এলাকা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। কিন্তু সরকার বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে গোপন করে ফেলে।

তিন বছর পর একে একে উদ্ধার হতে থাকে ফুটেজ। এতে দেখা যায় কীভাবে তা মানুষের শরীরে আক্রমণ করে, কীভাবে ফুসফুসে তা আক্রমণ করে। কীভাবে একটা হাসিখুশি এলাকা পুরো জনমানবশূন্য মরুভূমিতে পরিণত হয়। দুজন সমুদ্রবিশারদ প্রথম পরজীবী ভাইরাসটি সম্পর্কে জানতে পারেন। এছাড়া বন্ধুর কাছে পাঠানো একজনের করুণ আকুতি, দুজন পুলিশ অফিসারের তদন্ত রিপোর্ট সবই প্রকাশ পেতে থাকে। বিষয়টি জনসম্মুখে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিপদে পড়ে যায় স্থানীয় সরকার, মেয়রসহ দায়িত্বশীল সবাই।

৮৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই হরর ঘরানার ছবিটি মুক্তি পায় ২০১২ সালের নভেম্বর। যদিও সেপ্টেম্বরেই টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়। ব্যারি লেভিনসন পরিচালিত ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন উইল রজার্স ক্রিস্টেন কনোলি, কিথার ডনোহুয়ি, ফ্রাংক ডিল, স্টিফেন নানকেন, ক্রিস্টোফর ডেনহাম, নান্সি আলুকা প্রমুখ। ছবিটি সমালোচকদের কাছে মোটামুটি ভালো সাড়া পেলেও দর্শকদের মন ভরাতে পারেনি।

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন