বৃহস্পতিবার | জুলাই ১৬, ২০২০ | ১ শ্রাবণ ১৪২৭

খবর

প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের সুরক্ষায় ৭ দফা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রান্তিক ও বর্গাচাষীদের সুরক্ষায় সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছে খাদ্য ও পুষ্টি ইস্যুতে কর্মরত সহস্রাধিক নাগরিক সমাজের সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ নেটওয়ার্ক। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এবং নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি উপেক্ষিত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঅর্থায়ন স্কিম’ এর সার্কুলারে কারা ঋণ পাবে আর কারা পাবে না সে বিষয়ে একটি নির্দেশরা জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সার্কুলারসহ কৃষি ঋণ নীতিমালা রয়েছে সেটি পরবির্তন করতে হবে। এখানে সেসব ক্রুটি ও বিচ্যুতি রয়েছে সেগুলো বাতিল করে প্রান্তিক ও বর্গা চাষীদের ঋণ সুবিধা ও প্রণোদনা পেতে পারে সেই উদ্যোগ নিতে হবে।

‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ বলছে, বিদ্যমান বাস্তবতায় প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষীদের ঋণ পাওয়া নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের তুলনামূলক বেশি ঋণ সুবিধা প্রদানের বিষয়টি অনেকটাই অন্যায্য। এটি অসমতাকে আরো বাড়িয়ে দিবে। তাই ৫ হাজার কোটি টাকার ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ এর আওতায় দেশের প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষীদের ‘লিখিত চুক্তিপত্র’ এর বদলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও সক্ষমতার ভিত্তিতে ঋণ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করার সুপারিশ করেন তারা।

ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্তপূরণে বর্গাচাষীদের সমস্যায় পড়তে হবে বলে মনে করছেন তারা। তারা বলছেন, যেসব উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কৃষক কর্তৃক উৎপাদিত কৃষিপণ্য কিনে সরাসরি বিক্রি করে থাকে, তারা এই ঋণ প্যাকেজের আওতায় আসবে। এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ পাবে। কৃষিঋণ নীতিমালা অনুযায়ী ৫ একর বা ১৫ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিক সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। সে জন্য তাঁদের জমির দলিল বন্ধক রাখতে হবে। যাদের জমি নেই তারাও এই ঋণ পাবেন, তবে সে ক্ষেত্রে কৃষক যার জমি ভাড়া নিয়ে চাষ করেন, সেই ভাড়ার চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের প্রান্তিক কৃষক চুক্তি করে জমি লিজ নেয় না। আর অকৃষক মালিক লিখিত চুক্তির মাধ্যমে কোনো চাষীকে জমি বর্গা দেয় না। এ জন্য বর্গা চাষীদের দোষ নেই। কারণ লিখিত চুক্তির মাধ্যমে জমি বর্গা দিলে জমির মালিককে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি সরকারকে দিতে হয়। সেটি অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকরা বুঝে না বুঝে দিতে চান না।

কৃষি ঋণ নীতিমালা ও প্রণোদনার সার্কুলারের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি খাতে চলমান সঙ্কট থেকে উত্তোরণে “খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ” স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নিচের প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করছে। এগুলো হলো:

৫ হাজার কোটি টাকার ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ এর আওতায় দেশের প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষীদের ‘লিখিত চুক্তিপত্র’ এর বদলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও সক্ষমতার ভিত্তিতে ঋণ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। লকডাউন অবস্থায় হাওড়ে আসন্ন বোরো ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে অন্য জেলা থেকে কৃষি শ্রমিকদের আনার জন্য পরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে ন্যায্য মূল্যে মাঠ থেকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বেশি করে ধান কেনার ব্যবস্থা করতে হবে।

পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত অন্যান্য ফসল সরাসরি ঢাকাসহ বড় বড় শহরের ক্রেতার কাছে যাতে যেতে পারে সে রকম পরিবহন ব্যবস্থা ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থা সরকারিভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। ধানসহ কৃষি উৎপাদনের উপকরণ বিমেষ করে পানি, সার, কীটনাশক এবং টেকনোলজি (ট্রাক্টর, ধান কাটার মেশিন, ধান মাড়াইয়ের মেশিন ইত্যাদি) উপকরণ সুলভ ও সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে নকল টিএসপি সারের কারখানায় উৎপাদিত সার ক্রয় করে কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছে এসব  অসাধু ব্যবসায়ীদেও বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়া প্রণোদনাসহ সকল সরকারি এবং বেসরকারি সহায়তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে “খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ” নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী বণিক বার্তাকে বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে এবারের পরিস্থিতির সঙ্গে আগের কোনো পরিস্থিতির তুলনা করাটা সঙ্গত হবে না। এবার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়লে, পুরো দেশ আর দেশের মানুষকে তা ভোগাবে। কারণ এ মহামারীর ছোবলে পুরো দুনিয়ার অর্থনীতি বিপর্যস্ত। যদি কৃষি উৎপাদন, বিশেষত ধান উৎপাদন ভবিষ্যতে কম হয়, তবে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে সহায়তা পাওয়া কঠিন হবে। এ অবস্থায়, ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে ওপরের ৭ দফা প্রস্তাবের প্রতি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার গভীর মনোযোগ প্রত্যাশা করছে।

>> সরকার ঘোষিত প্রণোদনা: বর্গাচাষীরা সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন কি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন