মঙ্গলবার | জুলাই ১৪, ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

টকিজ

মহামারীর সিনেমা: ‘দ্য কিলার দ্যাট স্টকড নিউইয়র্ক’

এক চোরাকারবারির শিকার পুরো নিউইয়র্ক!

ফিচার ডেস্ক

বসন্ত কেবল ঋতুই নয়, একটা রোগেরও নাম। ভাইরাসজনিত রোগের কারণে গ্রামের পর গ্রাম, নগরীর পর নগরী উজাড় হয়ে যাওয়ার ঘটনা কম-বেশি সবারই জানা। সংক্রামক ব্যাধির কারণে পুরো নিইউয়র্কের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার দৃশ্য বাস্তবে না হলেও বড় পর্দায় দেখেছে পুরো পৃথিবী। গুটিবসন্তে আক্রান্ত এক চোরাকারবারি নারী নিউইয়র্কে আসে। তার মাধ্যমেই সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। শহরটির ৮০ লাখ অধিবাসী নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মত্যুপুরীতে পরিণত হয় পুরো নিউইয়র্ক। ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে শহরের কর্তাব্যক্তিরা নানা রকম উদ্যোগ নেন। এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে দ্য কিলার দ্যাট স্টকড নিউইয়র্ক চলচ্চিত্রটি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় পলাতক এক নারী চোরাকারবারিকে ঘিরে, যিনি নিজের অজান্তেই একদিন গুটিবসন্তের জীবাণু বহন করে নিউইয়র্কে হীরা পাচার করতে আসেন। অবশ্য তিনি নিজেও জানতেন না যে তার গুটিবসন্ত রয়েছে। তবে তিনি জানতেন যে গোয়েন্দারা তাকে অনুসরণ করছে। তাই তিনি হীরাগুলো গোয়েন্দার চোখ ফাঁকি দিয়ে তার স্বামী ম্যাট ক্রেনের কাছে পাঠিয়ে দেন।

হীরা পাচারকারী সেই নারীর নাম শিলা বেনেট। পথে শীলা একদিন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তারপর এক গোয়েন্দা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে শিলার সঙ্গে একটি ছোট মেয়ের দেখা হয়। তার সংস্পর্শে এসে ছোট্ট মেয়েটিও গুটিবসন্তে আকান্ত হয়। এদিকে হাসপাতাল থেকে শিলাকে ভুলে সাধারণ ঠাণ্ডার রোগী ভেবে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে ছোট মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার শরীরে গুটিবসন্তের জীবাণু রয়েছে।

এদিকে শিলার স্বামী ম্যাট তার সঙ্গে প্রতারণা করে পালিয়ে যায়। ফলে সে তাকে খুঁজতে থাকে। এরই মধ্যে নিউইয়র্ক শহরে গুটিবসন্ত রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে থাকে। নগরের কর্মকর্তারা মহামারী রোধে সবাইকে টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শহরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

এক পর্যায়ে গোয়েন্দারা বুঝতে পারে যে হীরা চোরাচালানকারী এবং রোগের বাহক একই নারীশিলা। তখন তারা তাকে পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক যখন তাকে গুটিবসন্তের কথা বলে কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেন, তখন তিনি চিকিৎসককে গুলি করে পালিয়ে যান। এরপর তিনি রোগের সংক্রামণ গোপনভাবে ছড়িয়ে দিতে থাকেন।

এভাবে ঘুরতে ঘুরতে এক সময় শিলা তার স্বামী ম্যাটকে ধরে ফেলে। কিন্তু ম্যাট পুলিশে রহাত থেকে পালানোর সময় এক ভবন থেকে পড়ে মারা যান। এমন সময় শিলা নিজেও সেই ভবন থেকে লাফ দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি একটি ঘোষণা শুনতে পান। ঘোষণায় বলা হয়, গুটিবসন্তে আক্রান্ত সেই ছোট মেয়েটি মারা গেছে। তখন তার মনে বিষয়টি নাড়া দেয় এবং মায়া জন্মে। এরপর সেই নারী চিকিৎসকের ঘোষণা শুনে ঘুরে দাঁড়ান এবং তিনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়ে একটি তালিকা দেন।

চলচ্চিত্রটি হীরা চোরাচালানকারীদের নিয়ে ১৯৪৭ সালে নিউইয়র্ক নগরীর ওপর সেমি-ডকুমেন্টারি স্টাইলে নির্মিত হয়। এসব চোরাচালানকারীর মাধ্যমেই গুটিবসন্তের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল বলে সে সময় ধারণা করা হয়। ১৯৪৮ সালের কসমোপলিটান ম্যাগাজিনের প্রবন্ধ থেকে নেয়া একটি গল্পের ওপর ভিত্তি করে ছবিটির চিত্রনাট্য লেখেন হ্যারি এসেক্সে। ছবিটি পরিচালনা করেন আমেরিকান চলচ্চিত্রকার আর্ল ম্যাক এভয়। এতে শিলা চরিত্রে ইভেলিন কেস এবং তার স্বামী ম্যাটের চরিত্রে চার্লস করভিন অভিনয় করেন। এছাড়া উইলিয়াম বিশপ, লোলা অ্যালব্রাইট জনসনসহ আরো অনেককেই ছবিতে দেখা যাবে।

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন