মঙ্গলবার | জুন ০২, ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা

পথশিশুদের দিবে হবে প্রাপ্য অধিকার

মো: মাইনউদ্দিন

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের একটি বড় সমস্যা পথশিশু। এসব পথশিশু পথে পথে থেকে বিভিন্ন কাজ-কর্মে লিপ্ত থাকে। শুধু তাই নয় পথশিশুরা অনেক সময় রাস্তার মানুষকে নাজেহাল করে টাকা আদায় করে। এমনটি দেখা যায় আমরা বেশিরভাগই সেইসব পথশিশুদের টাকা না দিয়ে লাথি বা ধাক্কা দিয়ে পথে ফেলে দিই। পথশিশুরা তো আমাদেরই শিশু। এটি যদি আমার বা আপনার অত্যন্ত আপন শিশুটি হত।

তাহলে কি আমরা তার সাথে পারতাম এরকম অমানবিক আচরন করতে? কেন কোমলমতি শিশুদের প্রতি এই অমানবিক আচরন? কবির ভাষায়- ‘আসিতেছে নতুন শিশু, ছেড়ে দিতে হবে স্থান কিন্তু আমার বর্তমান সমাজে কি দেখছি বা করছি। আজকে শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।

 আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পথশিশুটি হয়তোবা পড়াশোনার সুযোগ পেলে সেও জিপিএ বা দেশে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারত। এবং একটি জাতির গর্ব হত। আমাদের সকলের উচিত পথশিশুদের রাগের চোখে না দেখে হাসি সহানুভূতির চোখে তাকানো। তবেই তারা আর বেছে নেবে না অপকর্মের পথ এবং বেড়ে ওঠবে ফলে মেধার বিকাশ হবে পরিপূর্ণ। জাতি হবে উন্নত।

পথশিশুদেরকে দিতে হবে তাদের প্রাপ্য অধিকার। সরকারসহ যাবতীয় বেসরকারি সংগঠন থেকে শুরু করে ব্যাক্তি পর্যায় পর্যন্ত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে সেইসব অসহায় আর অনাদরে পড়ে থাকা পথশিশুদের প্রতি। শুধু তাই নয় সরকারকে বাজেটের একটি বড় অংশ বরাদ্দ রাখাতে হবে পথশিশু অধিকার বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য পুনর্বাসনের জন্য। তবেই এই পৃথিবীকে আমরা বাসযোগ্য করে তুলতে পারবো। যেই সময়ে একটি কোমলমতি শিশু বিদ্যালয়ে থাকার কথা সেই সময়ে সে পথে পথে ভিক্ষা করে বেড়াবে এবং নানা অপরাধ কর্মে লিপ্ত থাকবে।

একটি সভ্য সমাজে এটি কিভাবে সম্ভব? মূলত পথে বসবাসরত পথশিশু যারা মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন। এটিও লক্ষ করা যায় পথে র্কমরত পথশিশু যারা রাস্তায় জীবিকা নির্বাহ করে এবং একটা নির্দিষ্ট সময়ে তারা পরিবারের কাছে ফিরে যায়। আর পথে সপরবিারে বসবাসরত পথশিশু যারা পরবিারসহ পথে বসবাস করে। এক গবেষণা জানান দেয়, ঢাকায় প্রায় চার লাখ পথশিশু আছে যাদের বয়স -১৭ বছররে মধ্যে। রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি, রাস্তার ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাস র্টামিনাল ইত্যাদিতে  এদের বাস।

অবহলো, অনাদর, অযত্ন   অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠে ওরা। তাদরে জীবনের মৌলকি অধিকারগুলো হতেও তারা বঞ্চিত। অনেকে স্কুলে গেলেও অল্প কিছুদিনের  মধ্যেই বিভিন্ন কারণে ঝরে পরে। জীবন জীবিকার তাগিদে তাদের অনেকে ধরনের কাজের সঙ্গইে জড়িত হতে হয়। ভিক্ষা, ফুল, বিভিন্ন জিনিসপত্র রাজপথে ফেরি করা ছাড়াও র্গামেন্ট কারখানা, বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োজিত আছে ভাগ্য বিড়ম্বিত শিশুরা। ধরনের র্কমক্ষেত্রের বশিরভাগই শিশু শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ  ।

 শিশুশ্রম আইনে শিশু শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা আছে। এরপরও প্রায় বেশিরভাগ মালিকই এসব নীতমিালার তোয়াক্কা না করইে  ঝুঁকিপূর্ণ  কাজে শিশুদের নিয়োগ দিয়ে চলছে। প্রতিবছর প্রায় ৪৮০ জন শিশু এসব  ঝুঁকিপূর্ণ  কাজ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। প্রায় ১২০ জন শিশু এসব ঝুঁকিপূর্ণ  কাজের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রাণ হারায়। তবে সবচেয়ে  আতঙ্কিত হওয়ার মতো যে, এসব পথশিশুর একটা বিরাট অংশ বিভিন্ন অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। সন্ধ্যার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৪ বা ১৮ বছর বয়সী অনকে ছেলেমেয়ে প্রকাশ্যেই গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য কেনা বেচা করছে। এরফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আমাদের আশপাশের শিশুরাই।

 এমনকি আমার বা আপনার শিশুটিও সেইসব দেখে শিখছে বা মরণ নেশায় পা দিচ্ছে। এমনকি তারা নিজেরাও এসব মাদকদ্রব্য সেবন ব্যবহার করছে। কে বা কারা তাদের এসব মাদকদ্রব্যের জোগান দিচ্ছে এমন প্রশ্নরে সুস্পষ্ট জবাব কোনো শিশুই দিতে পারে না। পথশিশুরা মাদকদ্রব্য বিক্রি ছাড়াও পকটেমারী, চুরি, ছিনতাই, যৌনর্কমসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী র্কমকান্ডের সঙ্গওে যুক্ত হচ্ছে। আবার এমন খবরও পওয়া যায় অনেক শিশু আছে যাদের অভিভাবকরাই তাদের চুরি, যৌনর্কমীসহ নানা অসৎ কাজে আসতে বাধ্য করেছে।

 অথচ  নারী শিশু নর্যিাতন দমন আইন ২০০০-এর ধারায় বলা হয়েছে, ১৪ বছরের কম কোনো শিশুকে দিয়ে জোর করে যৌনর্কম করানো যাবে না এবং বাংলাদশেরে প্রচলিত আইনের ৩৭৫ ধারা মতে, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কতিপয় রাজনৈতিক সংগঠনও এসব শিশুর ভাগ্য নিয়ে খেলছে। তারা বিভিন্ন হরতালরে সময় শিশুদের দিয়ে ককটলে বিস্ফোরণসহ পিকেটিংয়রে কাজ করাচ্ছে। একটা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সেই দেশের ভবষ্যিৎ প্রজন্মের ওপর।

আর আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি বিরাট অংশজুড়ে আছে পথশিশুরা। এর চেয়ে লজ্জা আর দু:খের কথা আর কি হতে পারে? শিশুদের বাদ দিয়ে উন্নয়নরে কথা চিন্তাও করা যায় না। শুধু সরকার, প্রশাসন, সংস্থাই নয়, আমাদের প্রত্যকেরেই কিছু না কিছু দায়বদ্ধতা আছে অসহায় পথশিশুদের প্রতি। তাই ভবষ্যিৎ প্রজন্মের কথা ভবেইে পথশিশুদের দিকে সবার দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, তারাও মানুষ এবং আমাদেরই সন্তান। বাড়াই পথশিশুদের প্রতি সাহায্য সাহনুভূতি। তাদেরও আছে এই সুন্দর পৃথিবীতে ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার।

মো: মাইনউদ্দিন

মুক্ত লেখক ব্যাংক কর্মকর্তা

[email protected]

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন