বুধবার | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | ৮ আশ্বিন ১৪২৭

শেষ পাতা

ধান কাটা শুরু হচ্ছে কাল

হাওড়ে দিনে ৬৬ হাজার অভিবাসী শ্রমিক প্রয়োজন

সাইদ শাহীন

হাওড়ে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে পুরোদমে ধান কর্তন। বন্যা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা থাকায় ২০ দিনের মধ্যেই ঘরে তুলতে হবে এসব ধান। এজন্য প্রতিদিন ৬৬ হাজার অভিবাসী শ্রমিক লাগবে হাওড়ে। 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এক গবেষণা বলছে, হাওড় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত সাত জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার মোট বোরো আবাদ হয়েছে নয় লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে, যার অর্ধেক সমতলে, বাকিটা মূল হাওড়ে। এসব জমির ধান কাটতে মোট শ্রমিকের প্রয়োজন প্রায় ৮৪ লাখ জন। কিন্তু সেখানে শ্রমিকের ঘাটতি আছে ১৫ লাখ জনের বেশি, যা মোট প্রয়োজনের ১৮ শতাংশ। ফলে সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৬৬ হাজার অভিবাসী শ্রমিকের প্রয়োজন রয়েছে সেখানে। 

ব্রির মহাপরিচালক . মো. শাহজাহান কবীর বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, বিগত বছরগুলোতে হাওড়ে ধান কর্তন মৌসুমে কৃষি শ্রমিকের সংকট পরিলক্ষিত হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চলতি মৌসুমে অন্য জেলা থেকে শ্রমিক যেতে পারছেন না সেখানে। ফলে এবার শ্রমিক সংকট আরো তীব্র হবে। অবস্থায় সংকট নিরসনে স্বচ্ছন্দে শ্রমিকের চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে কৃষি শ্রমিকের স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও সঠিক নির্দেশনা থাকতে হবে। হাওড় অঞ্চলে যেসব ডাক্তার, নার্স অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবায় নিয়োজিত নয়, তাদের বোরো ধান কর্তনকালীন কৃষি শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত করা যেতে পারে। এতে শ্রমিকদের মনে আস্থার জায়গা তৈরি হবে।

হাওড় অধ্যুষিত মৌলভীবাজার সিলেটে চা বাগানের শ্রমিকদেরও সাময়িকভাবে নিকটবর্তী এলাকায় বোরো ধান কর্তনে নিয়োজিত করা যেতে পারে বলে মনে করেন ব্রির মহাপরিচালক। তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের ধান কাটার কাজে লাগিয়ে এলাকায় কৃষি শ্রমিক সংকট কিছুটা মোকাবেলা করা যেতে পারে। এছাড়া এলাকা উপযোগী বরাদ্দকৃত কম্বাইন হারভেস্টার রিপারও সময়মতো কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁঁছাতে হবে। সম্ভব হলে কম্বাইন হারভেস্টার রিপার এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পরিবহনের মাধ্যমে কর্তন কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে হবে।

হাওড়ের ধান কাটায় শ্রমিক সংকট, যন্ত্র সংকটের পাশাপাশি হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে আগাম বন্যার পূর্বাভাস। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্রের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, আগামীকাল শুক্রবার থেকে পরের চারদিন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তত্সংলগ্ন ভারতের মেঘালয়-আসামে ১০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের আভাস রয়েছে। সময় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার এলাকায়ও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া শিলাবৃষ্টিরও আভাস রয়েছে। ধান কাটা ব্যাহত আগাম বন্যায় হাওড়ের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত যেন না হয়, সেজন্য চলমান বোরো মৌসুমে পাকা ধান কাটা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্টদের এরই মধ্যে চিঠিও দিয়েছে। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, শ্রমিক সংকট মেটাতে এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছেন মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। দেশের শ্রম উদ্বৃত্ত জেলাগুলো থেকে শ্রমিকদের হাওড় অঞ্চলে পাঠানোর জন্য তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা শ্রম উদ্বৃত্ত জেলা বিশেষ করে মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, জামালপুর, ময়মনসিংহসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় হাওড়ে শ্রমিক নিয়ে যাওয়ার তালিকা করেছে। এরই মধ্যে শ্রমিক যাওয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা তাদের তালিকা প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন।

গত এক সপ্তাহ ধরে স্বল্প পরিসরে ধানা কাটা শুরু হলেও আগামীকাল থেকেই পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে হাওড় অঞ্চলে। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে হবে এসব অঞ্চলে ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ। ধান কাটতে শ্রমিকের পাশাপাশি যন্ত্রের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে হাওড়াঞ্চলে ৩৬২টি কম্বাইন হারভেস্টার হাজার ৫৬টি রিপার সচল রয়েছে। এছাড়াও পুরনো মেরামতযোগ্য ২২০টি কম্বাইন হারভেস্টার ৪৮৭টি রিপার মেশিন রয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয়, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বোরো ধান কাটার শ্রমিকের অভাব থাকায় হাওড়ের সাত জেলায় ধান কাটার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ১৮০টি কম্বাইন হারভেস্টার ১৩৭টি রিপার সরবরাহের বরাদ্দ প্রদান করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় এসব মেশিন খুবই কম। এর মধ্যে করোনার কারণে আবার আসতে পারছেন না শ্রমিক।

বিষয়ে সুনামগঞ্জের স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, দ্রুত ধান কাটতে স্থানীয় প্রশাসনকে সব ধরনের নির্দেশনা দিয়েছি। কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি মানবিকভাবে দেখে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি। তারাও সীমিত সম্পদের মধ্যে সর্বোচ্চ করছে বলে জেনেছি। এরই মধ্যে যন্ত্র বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শ্রমিকদের যাতায়াত ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করছি। বিকল্প শ্রমিকদের উেসর বিষয়ে আলোচনা করে একটি পথ বের করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন