শুক্রবার | আগস্ট ০৭, ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

পচনশীল পণ্য নিয়ে সংকট বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে

রাশেদ এইচ চৌধুরী চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পচনশীল পণ্য আমদানি করা হয় ব্যয়বহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে (রেফারড কনটেইনার) করে। গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিশেষায়িত এসব কনটেইনার ডেলিভারি চিত্রে কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় জেটিতে নতুন করে আসা কনটেইনার নামানো যাচ্ছে না জাহাজ থেকে। এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে বহির্নোঙরে। জাহাজের অপেক্ষার সময় বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে সেখানে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব কনটেইনারে তাজা ফল, মসলা পণ্য, শিশু খাদ্য, ওষুধের কাঁচামাল, মাছ প্রভৃতি রাখা আছে। পরিসর বাড়ানোর পরও গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে মোট হাজার ৯০০ একক কনটেইনার জমে আছে। যদিও ধরনের কনটেইনার রাখার প্রকৃত সক্ষমতা হাজার ৬০০ একক। 

পচনশীল পণ্যভর্তি এসব কনটেইনার ডেলিভারি না হওয়ার কারণ হিসেবে মূলত চাহিদা পতনের কথাই বলছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পণ্য খালাসে সংশ্লিষ্ট মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র না পাওয়ার কারণেও বহু পণ্যের চালান খালাস নেয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে শতাধিক কনটেইনারে আসা ২৮ হাজার টন মাছ আটকে আছে চট্টগ্রাম বন্দরে। প্রতি কনটেইনারে গড়ে ২৫ টন বা তার চেয়ে বেশি মাছ আছে। মত্স্য পরিদর্শন মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের প্রত্যয়ন না পাওয়ায় বন্দর থেকে এসব মাছ ছাড়িয়ে নিতে পারছেন না আমদানিকারকরা। এছাড়া সরকারি ছুটিতে বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেডিয়েশন টেস্ট যথাসময়ে না হওয়ায় ডেলিভারিতে বিলম্ব ঘটছে। 

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে তাজা ফল এনেছেন এমন একাধিক আমদানিকারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে তাজা ফলসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা একেবারে কমে গেছে। আবার বন্দর থেকে ডেলিভারি নিলেও বাইরে স্টোরেজ ব্যবস্থা না থাকায় ডেলিভারি নেয়ার পর সমস্যা আরো বাড়বে। এর চেয়ে বরং বন্দরের ভেতর যতদিন সুরক্ষিত রাখা যায় সেটাই ভাবছেন তারা। 

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, বন্দর থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার ডেলিভারি হতে পারছে না বলেই সংকট তৈরি হয়েছে। আমদানিকারক হয়তো তার নিজের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময় পরও বিশেষায়িত কনটেইনার বের করে নিচ্ছেন না। কিন্তু জেটিগুলোতে নতুন করে আসা জাহাজ থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার নামানো বন্ধ হয়ে গেছে রাখার জায়গা না পাওয়ায়। এতে করে শুধু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না, পুরো বন্দরের চেইন ওয়ার্কে নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি নিয়ে। এখানে আসলে আমদানিকারক ব্যবসায়ী নিজেরা এগিয়ে না এলে সমস্যা সমাধানের পথ দেখছি না।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত পণ্যভর্তি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারসহ সাধারণ কনটেইনার ছাড়িয়ে নিতে এরই মধ্যে কিছু প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি এখনো। বন্দর থেকে ডেলিভারি না হওয়ায় সংকট ক্রমে বাড়ছে। বন্দরের অভ্যন্তরের নির্দিষ্ট এলাকায় জায়গা ফুলফিল হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জেটিতে আসা জাহাজ থেকে ধরনের কনটেইনার নামাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মুখপাত্র মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের অভ্যন্তরে দেড় হাজারের বেশি রেফারড কনটেইনার থাকে না। কিন্তু এখন ধারণ ক্ষমতার চেয়েও বেশি কনটেইনার পড়ে আছে। করোনা পরিস্থিতিতে মূল সংযোগ থেকে প্ল্যাগিং করে পরিসর বাড়িয়েও সংকট কাটানো যায়নি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক আমদানিকারক তাদের আমদানি করা পণ্য বন্দর থেকে ছাড় করতে পারছেন না। বন্দরকে সচল রাখতে প্রয়োজনে আলাদাভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। বন্দর থেকে পণ্য ছাড়করণের পদক্ষেপ হিসেবে কোয়ারেন্টিন রেডিয়েশন পরীক্ষা কার্যক্রমে গতি আনতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন