বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেষ পাতা

কভিড-১৯

দেশে নতুন ১৮ জন শনাক্ত, আরো একজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে নতুন করে আরো ১৮ জনের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একদিনে ৩৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল পাওয়া গেছে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে হয়েছে ৮৮। একই সময়ে আক্রান্তদের একজন মারা গেছেন। নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে -এ। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে তথ্য জানানো হয়।

এই অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, যিনি মারা গেছেন তিনি ৫৫ বছর বয়সী একজন পুরুষ। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আর আক্রান্তদের মধ্যে আরো তিনজন সুস্থ হয়ে ওঠায় পর্যন্ত মোট ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জনের কভিড-১৯ নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর। বাকি জনের পরীক্ষা হয়েছে ঢাকার বাইরের গবেষণাগারে। নতুন রোগীদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ, জন নারী। নতুন আক্রান্ত, মৃত্যুসহ সার্বিক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য দেন আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের ১৪টি কেন্দ্রে সংগৃহীত ৩৬৭টি নমুনার ফলাফলে ১৮ জনের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এদিকে মোট ৩৩ জন সুস্থ হয়ে ওঠায় এখন আর ৪৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে আছেন ৩২ জন, আর ১৪ জন বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডা. ফ্লোরা বলেন, ওই ১৪ জনের লক্ষণ উপসর্গ খুবই মৃদু, তারা আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছর বয়সের একজন, ৩১ থেকে ৪০-এর মধ্যে দুজন, ৪১ থেকে ৫০-এর মধ্যে চারজন, ৫১ থেকে ৬০-এর মধ্যে নয়জন এবং দুজন ষাটোর্ধ্ব।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জন ঢাকার, পাঁচজন নারায়ণগঞ্জের এবং একজন মাদারীপুরের। তাদের বেশির ভাগই কয়েকটি ক্লাস্টার থেকে এসেছেন বলে জানান আইইডিসিআরের পরিচালক। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ঢাকার বাসাবোতে জন, বৃহত্তর মিরপুরে ১১ জন, মাদারীপুর নারায়ণগঞ্জে ১১ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন। মাদারীপুরে ক্লাস্টার আগে থেকেই ছিল। কারণে সবার আগে আমরা মাদারীপুরে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলাম। নারায়ণগঞ্জেও আমাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছি। এই ১৮ জনের বেশির ভাগই আগে পাওয়া ক্লাস্টারের অংশ। আর মিরপুরেও আমরা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলাম। সেখানে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন, তাদের ছাড়াও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আমরা পরীক্ষা করছি, যাতে রোগটি সেখান থেকে ছড়িয়ে না পড়ে।

কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে জানিয়ে ডা. ফ্লোরা বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় রোগী পাওয়া যাচ্ছে, কারণে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে বলা যায়। তবে তা ক্লাস্টার ভিত্তিতে আছে। এখনো বলছি, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। এটা যদি না করি তাহলে সংক্রমণ কিন্তু ক্লাস্টার থেকে সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। সুতরাং সবাইকে অনুরোধ করছি সব ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলুন।

ব্রিফিংয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা রোগীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৮০২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন, ২৬৭ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে গেছেন হাজার ১১১ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে গেছেন জন। পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৪১২ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে; ফলে এখন কোয়ারেন্টিনে আছেন ১২ হাজার ৬৫৯ জন। এখন পর্যন্ত মোট ৫২০ জনকে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনকে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৮৪ জন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন