বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

দেশের খবর

খুলনায় শ্রমিক সংকট

সড়ক-ড্রেন নির্মাণকাজে স্থবিরতা বর্ষায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা

মো. হেদায়েৎ হোসেন খুলনা

দেশজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় খুলনা মহানগরীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন সড়ক সংস্কারের তিনটি প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি এসব উন্নয়নকাজ। এরই মধ্যে উন্নয়নকাজের মেয়াদ আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অবস্থায় আগামী বর্ষায় নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে সড়ক ড্রেন সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় আগামী বর্ষায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। এমনিতেই সামান্য বৃষ্টিতে নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তার ওপর সংস্কারাধীন সড়কের কারণে জলাবদ্ধতার পরিমাণ আরো বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর কেডিএ এভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সড়ক সংস্কার ড্রেন পুনর্নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ২০১৯ সালে। বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (বিএমডিএফ) মাধ্যমে অর্থ ছাড় করা হয়। দুটি প্যাকেজে কাজ বাস্তবায়নের অনুমোদন পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ। ওই বছরের জুলাইয়ে শুরু উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ৩০ মার্চ। কিন্তু দেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় কাজের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গত ২৬ মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পুরো কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরবর্তী সময়ে একই কারণে বিএমডিএফও কাজ বন্ধ রাখতে বলে। অবস্থায় গত ২৩ মার্চ কাজের মেয়াদ আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ।

এদিকে গত ২৫ মার্চ কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. এজাজ মোর্শেদ খান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ছুটির সময় নিজ নিজ ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এজন্য নগরীতে চলমান উন্নয়নকাজ ১০ দিন বন্ধ থাকে। 

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী- লিয়াকত আলী খান বলেন, দুটি প্যাকেজের আওতায় কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একটি প্যাকেজে মহেশ্বরপাশা প্রধান সড়ক, খালিশপুর ১৮ নম্বর সড়ক চরেরহাট প্রধান সড়ক সংস্কার এসব সড়কের ড্রেনগুলো পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কগুলোর ফুটপাতও ঠিক করা হবে। প্যাকেজে ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় কেডিএ এভিনিউ ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবু আহমেদ সড়ক সংস্কার ড্রেন পুনর্নির্মাণের কাজ রয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

তিনি আরো বলেন, ৩০ মার্চের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজের সময় আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করেছে। আমরা ওই আবেদন অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি। 

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, খালিশপুরের চরেরহাট প্রধান সড়ক, খালিশপুর ১৮ নং লাল হাসপাতাল সড়ক মহেশ্বরপাশা প্রধান সড়ক নিয়ে প্রথম প্যাকেজের কাজ ২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। চরেরহাট প্রধান সড়কের দৈর্ঘ্য সোয়া এক কিলোমিটার। গত ২১ জুলাই সড়কের কাজ শুরু হয়। ব্যয় ধরা হয় কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সড়কের ৮০ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। খালিশপুর লাল হাসপাতাল সড়কের (১৮ নং রোড) দৈর্ঘ্য হাজার ৩৫০ মিটার। সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে কোটি ৪০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সড়কের প্রস্থ হবে ৬০ ফুট। দুই পাশে ড্রেনসহ ফুটপাত নির্মাণ করা হবে। সীমানা জটিলতার কারণে মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে। একই অবস্থা দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজেও। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তসলিম আহমেদ আশা বলেন, খালিশপুরের চরেরহাট মহেশ্বরপাশা সড়কের ড্রেনের কাজ এরই মধ্যে ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। খালিশপুর লাল হাসপাতালের সামনের ১৮ নম্বর সড়কটির কাজ সীমানা জটিলতায় একটু বিলম্ব হয়েছে। তার পরও সড়কের ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর কেডিএ এভিনিউ সড়ক ড্রেনের কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। প্যাকেজে থাকা ২৫ নং ওয়ার্ডের আবু আহমেদ সড়কটির কাজও ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে। অবস্থায় ৩০ মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। 

তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাস, বর্ষা মৌসুমে কাজ শুরু, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সীমানা জটিলতা, উচ্চ ভবনের র্যাম ভাঙা কাজ চলাকালীন একাধিক শৈত্যপ্রবাহের কারণে নির্দিষ্ট সময় কাজ শেষ করতে পারিনি। যদিও কেসিসি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে সব কাজ বিএমডিএফের পক্ষ থেকে বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। আর কেসিসি থেকে বন্ধ রাখার মেয়াদ প্রায় শেষ। পরিস্থিতি বিবেচনায় কেসিসিও মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়াও করোনার কারণে শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো শ্রমিক ঘর থেকে বের হচ্ছে না। পরিবহন বন্ধ থাকায় সংকট রয়েছে কাঁচামালেরও। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না। 

কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. এজাজ মোর্শেদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাজের মেয়াদ আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়, যা ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে কেসিসিতে ১৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪৪টি প্রকল্পে উন্নয়নকাজ চলমান। এসব প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন