বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেষ পাতা

সিটি করপোরেশনে ওএমএসে ১০ টাকায় চাল

রাজধানীর বস্তিতে বিশেষ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। সরকার এরই মধ্যে সাধারণ ছুটির মেয়াদ এক দফা বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। অবস্থায় কর্মহীন হওয়ায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। পরিবর্তিত এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সিটি করপোরেশনগুলোতে বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। কার্যক্রমের মাধ্যমে আজ থেকে ১০ টাকায় চাল সরবরাহ করা হবে।

জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওএমএসের মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহের জন্য প্রতি কেজি চালের মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত ওএমএস খাতে চালের গুদাম মূল্য টাকা। চলমান ওএমএস (আটা) কর্মসূচির অতিরিক্ত হিসেবে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে।

দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সব কর্মহীন মানুষকে এর আওতায় এনে বিশেষ এই ওএমএস কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভোক্তার বিস্তারিত তথ্যসংবলিত মাস্টাররোল সংরক্ষণ করতে হবে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে ভোক্তা হিসেবে নির্বাচন করা যাবে না। এছাড়া ওই পরিবারের কেউ যদি খাদ্যবান্ধব অথবা ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগী হয়ে থাকেন, তাহলেও তিনি কর্মসূচির আওতায় ভোক্তা 

হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।

প্রতিটি জেলা বিভাগীয় শহরে দুই টন করে এবং ঢাকা মহানগরে তিন টন করে চাল দৈনিক বিক্রি করা যাবে। জেলা বিভাগীয়/ঢাকা মহানগরীর ওএমএস বরাদ্দের পরিমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ওএমএস কমিটির মাধ্যমে বিদ্যমান ওএমএস কেন্দ্রের সংখ্যা ঠিক রেখে বিক্রয়কেন্দ্রের স্থান পুনর্নির্ধারণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, শ্রমজীবীদের বসবাসকেন্দ্রের কাছের বস্তি এলাকায় অথবা পর্যাপ্ত খালি জায়গা আছে এমন স্থানকে অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। ভোক্তাপ্রতি পাঁচ কেজি চাল বিক্রি করতে হবে একজন ভোক্তা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে সপ্তাহে একবার চাল কিনতে পারবেন। সপ্তাহে রবি, মঙ্গল বৃহস্পতিবারএই তিনদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চালানো হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা প্রতিনিধির উপস্থিতি তদারকিতে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে স্থানীয় প্রশাসন। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ওএমএস নীতিমালায় বর্ণিত জেলা, বিভাগীয় ঢাকা মহানগরীর কমিটি সার্বিক বিষয় মনিটরিং করবে। ডিলাররা দৈনিক বিক্রয় প্রতিবেদন তদারকি কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ওএমএস কমিটির সভাপতির কাছে পাঠাবেন।

এদিকে ঢাকা মহানগরীর মোট ৭৩টি বস্তিতে ৩৯ হাজার ১৮০টি পরিবার আছে। বস্তিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় লাখ। ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বস্তিবাসীর কেউ এখনো সরকারের খাদ্যসহায়তা পায়নি। ঢাকা মহানগরে ওএমএস ডিলার কেন্দ্রের সংখ্যা ১২০টি। এই ডিলারদের মধ্য থেকে ২৪ জনকে বাছাই করে সপ্তাহে তিনদিন পর্যায়ক্রমে ৭৩ বস্তি বা ৩৯ হাজার ১৮০টি পরিবারের কাছে বিশেষ ওএমএসের মাধ্যমে পাঁচ কেজি করে চাল বিক্রি করা হবে। এসব কেন্দ্রে আটা বিক্রি করা হবে না। পরীক্ষামূলকভাবে আজ রোববার এই বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম ঢাকা মহানগরের দুটি কেন্দ্র দিয়ে শুরু হবে। এর একটি হলো মিরপুরের রূপনগর ঝিলপাড় বস্তি অন্যটি মহাখালীর বস্তি। পাশাপাশি গতকাল থেকে যথারীতি ওএমএসে ১৮ টাকা কেজি দরে প্রতি কেন্দ্র থেকে হাজার কেজি আটা বিক্রির কার্যক্রম চালু রয়েছে। কার্যক্রমের কেন্দ্রসংখ্যা ৯৬টি। সপ্তাহের ছয়দিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন