শুক্রবার | জুন ০৫, ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

খবর

ওইসিডি দেশগুলোর ফ্লাইট চালুর অনুরোধ, বিস্মিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর বিষয়ে বাংলাদেশকে পীড়াপীড়ি করছে ওইসিডি (দি অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপরারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) দেশগুলো। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস সংকটের সময়ে তারা নিজেদের ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। নিয়ে তাদের উদ্দেশ্য কী, তা জানেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী . কে আব্দুল মোমেন। এতে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তার ভিডিও বার্তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, এপ্রিল নিজ নাগরিকদের প্রত্যাবাসন, নিয়মিত ফ্লাইটের সুযোগ চায় ওইসিডি দেশগুলো শিরোনামে -সংক্রান্ত প্রতিবেদন ছাপা হয় বণিক বার্তায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওইসিডি দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য আমাদের বেশ পীড়াপীড়ি করছে লন্ডন-ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটগুলো খোলা রাখতে। তারা আমাদের বলেছে এবং বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে যাতে আমরা রুটগুলো তাড়াতাড়ি খুলে দিই। তাদের বক্তব্য হলো নভেল করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের দেশে অনেক ডাক্তার, নার্স মেডিকেল স্টাফ দরকার হবে। ইউরোপীয় আমাদের উন্নয়ন অংশীদাররা আমাদের দেশে তাদের (ডাক্তার, নার্স মেডিকেল স্টাফ) সহযোগিতায় পাঠাবেন। বিমানবন্দর বন্ধ থাকলে তারা আসতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অন্যান্য সামগ্রী তারা দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমরা তাদের জানিয়েছি যে আপনারা আমাদের উন্নয়ন অংশীদার। আপনারা সহযোগিতা করলে আমরা খুবই খুশি হব। তবে যারা আমাদের অনুরোধ করেছেন, যেমন অস্ট্রেলিয়া, তাদের দেশে সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত। যারা ফ্লাইট খুলে রাখার জন্য আমাদের বলছেন, তারা এটাও বলছেন, বন্ধ রাখা ঠিক হয়নি। এটি খুলে রাখেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বন্ধ করেছি আমাদের দেশের জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে। কারণ আমাদের দেশে যারা নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তারা অধিকাংশই শিকার হয়েছে বিদেশ থেকে যারা এসেছেন তাদের মাধ্যমে। আমরা আরো আগে বন্ধ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওদের পীড়াপীড়িতে একটু দেরি হয়েছে।

সম্প্রতি নিজ নাগরিক ফেরানো ফ্লাইট চালু নিয়ে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের ভিডিও বার্তা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা খুব চেষ্টা করছেন। বিভিন্নভাবে তাগাদা দিচ্ছেন। সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। আমরা একা নিই না। আমাদের একটি কমিটি আছে। আগে এপ্রিল আসুক, কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে না ১১ এপ্রিল ফ্লাইট খোলা হবে। আমরা বন্ধ করে রাখতে চাই না। তবে আমাদের দেশের জনগণের দাবি হলো মুহূর্তে বন্ধ রাখেন। সবচেয়ে মজার হলো যে দেশগুলো আমাদের অনুরোধ করছে, তাদের দেশে কিন্তু বন্ধ।

ফ্লাইট চালু নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি কমিটি বসে ঠিক করবে। এমনিতেও আমরা বলেছিলাম তারিখের পর। এখন যেহেতু আমরা একটু বাড়িয়ে দিয়েছি। দেখা যাক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের (ওইসিডি দেশগুলো) উদ্দেশ্য হচ্ছে, কী কী মালপত্র পাঠাবেন, সেগুলোর লিস্টটিস্ট কিছুই দেননি। কোন কোন ধরনের লোক আসবে, সেটাও আমরা জানি না। কিন্তু বলেছেন যে তারা অনেক সাহায্য করবেন। তবে আমরা যেটা শুনেছি যে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা অনেক লোক সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে চান। আমি জানি না এটার উদ্দেশ্য কী।

ভারত, সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে নিয়ে আসা নিয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের লোক পৃথিবীর সব দেশে রয়েছে। বেশি প্রতিবেশী দেশে রয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, প্রায় হাজার ৫০০ বাংলাদেশী ভারতে রয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই ছাত্র, আর অনেকেই হয় চিকিৎসার জন্য গিয়েছে কিংবা পর্যটক। তারা গিয়ে আটকে গেছে। তারা আসতে চায়। আমরা যখন ২০-২১ মার্চ সব বন্ধ করে দিচ্ছি, তখনো অনেকে গিয়েছে বেড়াতে। এটা খুব আশ্চর্যের বিষয়। আমরা বলেছিলাম, আপনারা এলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা সব বাংলাদেশীকে গ্রহণ করব। তবে ভারত বলেছে, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সবকিছু লকডাউন। তারা কোনোভাবেই খুলবে না। আর আমাদের বিমান যদি সেখানে যায়, তাহলে বিমানকে সেখানে ১৪ দিন বসে থাকতে হবে। আর কারো যদি ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া যায়, তবে বড় অংকের জরিমানা দিতে হবে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে . মোমেন বলেন, তারা বাংলাদেশকে চিন্তা করতে মানা করেছেন। যখনই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তখনই অতিরিক্ত লোক দিয়ে কাজ করিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়া হবে।

বিবিসির বাংলাদেশ নিয়ে করা প্রতিবেদন নিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক, একজন একটা হাইপোথিসিস করে বলেছে, বাংলাদেশে নাকি নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ২০-৫০ লাখ লোক মারা যাবে। যে মডেলের ওপর ভিত্তি করে তথ্য দেয়া হয়েছে, সে ইম্পিরিয়াল কলেজ পরপর ১০টি রিপোর্ট তৈরি করেছে ভিন্ন অনুমান নিয়ে। কিন্তু যেটা সবচেয়ে খারাপ, তারা একটা রিপোর্ট তৈরি করেছে। এগুলো আমাদের কাছে মনে হয় অতিরঞ্জিত। আমরা বিবিসিকে সম্মান করি। তাদের বক্তব্য মনে হতো সবচেয়ে সত্যি। ১৯৯৮ সালে আমাদের বন্যা হয়। তখন বিবিসি রিপোর্ট করে, সে বন্যায় ৩০ লাখ লোক মারা যাবে। তবে সে সময় মারা গিয়েছিল ১৩৯ জন। ফলে ধরনের গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন