বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

ফার্মেসি-বাজার থেকে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের শঙ্কা

পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা হোক

কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রুখতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও জরুরি বিবেচনায় ওষুধ, বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু রয়েছে। সচেতনতার অভাব বা সুরক্ষা উপকরণের স্বল্পতা, কারণ যা- হোক না কেন, সংক্রমণ মোকাবেলায় সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহারে অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে বলে বণিক বার্তায় প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট খবরে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বরাবরই সবাইকে সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহারের জন্য বলে আসছে। কিন্তু জনগণ তাতে উদাসীন। এর পেছনের কারণ কী হতে পারে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। উদাসীনতা নাকি নির্দেশনা যথাযথ জায়গায় না পৌঁছানোর ব্যর্থতা, সেটি জানা খুবই জরুরি। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রুখতে ঘরে অবস্থান এবং একান্ত প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হলে পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এটি অমান্যকারীদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে এক সবজি বিক্রেতা মারা যাওয়ার খবর থেকে বোঝা যাচ্ছে ফার্মেসি, বিক্রেতাসহ জরুরি সেবা প্রদানকারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাদের সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদসহ সংশ্লিষ্টদের উচিত সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারীদের সুরক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা। তারা সেগুলো সঠিকভাবে পরিধান এবং নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলছে কিনা, তা তদারকি করা জরুরি। ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কে সুরক্ষা উপকরণের নিয়ম মান্য করে তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস কমিউনিটি ট্রান্সমিশন পর্যায়ে পৌঁঁছেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে কোনো বিষয়ে অবহেলা মৃত্যুর শঙ্কা বাড়িয়ে তুলবে। সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহারের প্রবণতা বা অভ্যাস বাংলাদেশের মানুষের কম। তাছাড়া মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি বা দৃশ্যমান ঝুঁকি এখনো বেড়ে না ওঠায় মানুষের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটি যে সঠিক প্রক্রিয়া নয়, তা বোঝাতে প্রচারণা আরো বাড়াতে হবে। দেশের অধিকাংশ মানুষ শিক্ষিত নয়, তাছাড়া ফার্মেসি বা বিক্রেতাদের সম্পর্কে সম্যক ধারণা কম। সেক্ষেত্রে কীভাবে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রোধে সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহারে জনগণকে আরো উৎসাহিত করা যায়, তার পথ খুঁজতে হবে। পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণ ছাড়া সবজিবাজার বা মাছ-মাংসের বাজারে বিক্রেতাদের কার্যক্রম পরিচালনা নিরাপদ নয়। নিজেদের সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে ক্রেতারা যতটুকু সম্ভব সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার করছেন এবং নিরাপদ দূরত্বও বজায় রাখছেন। কিন্তু বাজারের বিক্রেতাদের মধ্যে সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার না করার প্রবণতা রয়েছে। ফলে তাদের মধ্য থেকেই করোনা কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের শঙ্কা রয়েছে। এটি প্রতিরোধ করা জরুরি। এদিকে সাধারণ ছুটির মধ্যেও জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় যেসব সেবা বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তাতে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে না। মানুষের মধ্যে উদাসীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেউ যদি সরকার নির্ধারিত এসব নির্দেশনা মেনে না চলেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বলেছে তা হলো, যে এলাকায় কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ছে, আপনি যদি সেখানে না থাকেন বা ওই এলাকা ভ্রমণ করে না আসেন বা সংক্রমণের শিকার ব্যক্তির সংস্পর্শে না গিয়ে থাকেন, তবে আপনার এতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কম। তবে নিঃসন্দেহে আমাদের সবারই নিজেকে অন্যদের সুরক্ষার দায়দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যেকের উচিত সাবান পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ভালোভাবে ধোয়া; হাঁচি বা কাশি দেয়া ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত ছয় ফুটের কিছু বেশি দূরত্ব বজায় রাখা; শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শারীরিক স্পর্শ এড়িয়ে চলা; চোখ, নাক মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলা; হাঁচি বা কাশির সময় হাতের কনুই বাঁকা করে মুখ ঢাকা বা টিস্যু ব্যবহার করা; অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে থাকা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা চাওয়া। কারণ আক্রান্ত রোগীর ছয় ফুট বা দুই মিটারের মধ্যে এবং ১৫ মিনিটের বেশি কেউ থাকলে তার সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার যদি টেবিলে, দরজার হাতলে, লিফটের বাটনে, কোনো সুইচে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস লেগে থাকে, তাহলে সেগুলো আরেকজন স্পর্শ করলে সেখান থেকেও তিনি সংক্রমিত হতে পারেন। এভাবেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ হয়। চীন দক্ষিণ কোরিয়াকে দেখে আমাদের শেখা উচিত। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে উহানকে বহির্বিশ্ব চীনের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কত দ্রুত তারা সফল হয়েছে। তাই আরো বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে করোনা শনাক্তকরণ কেন্দ্র, জরুরি চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের

জীবন স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে বারবার গাফিলতি করার সুযোগ নেই। সরকারের সব পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রতিটি স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীর নিজেকে, পরিবারকে সমাজকে এই ভয়ংকর ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। অবাধ চলাফেরা জমায়েত বন্ধের ক্ষেত্রে কয়েক স্তরে নজরদারি বাড়ানো হোক। কঠোরভাবে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ বহির্গমন বন্ধ করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন