বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

খবর

এডিবির পূর্ভাবাস

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭.৮%

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি জোরালোই থাকবে বলে মনে করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে দশমিক শতাংশ, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

গতকাল এডিবি প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০২০ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সরকার চলতি অর্থবছরে দশমিক শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। গত অর্থবছরে দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে ম্যানিলাভিত্তিক সংস্থা। তবে সামনের বছরে গিয়ে বাংলাদেশ পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এডিবি বলছে, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবার শতাংশ হবে।

এডিবি বলছে, দ্রুতবর্ধনশীল তৈরি পোশাক রফতানির বড় বাজারগুলো থেকে চাহিদা কমায় বাংলাদেশের জিডিপি কমবে। তবে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের মধ্যে আস্থার উন্নয়ন হলে ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করছে এডিবি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোক্তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা অব্যাহত থাকার, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রফতানি আমদানি কমে যাওয়া এবং পরের বছর পুনরুদ্ধার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি উপযোগী আবহাওয়া বিদ্যমান থাকবে ধরে নিয়ে পূর্বাভাস তৈরি হয়েছে। তবে পূর্বাভাসে কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি। বাংলাদেশে এর প্রাদুর্ভাব বড় আকারে ছড়ালে এর ক্ষতি আরো মারাত্মক হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জোরালো রয়েছে। উন্নয়ন খাতে সরকারের উচ্চব্যয়; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তেল নির্মাণসামগ্রীর আমদানি বৃদ্ধি; উপযোগী বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রফতানি বাড়াতে সরকারের নীতিসহায়তার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কভিড-১৯ মহামারীর কারণে রফতানি চাহিদায় বিপর্যয়, ভোগ সংকোচন হলে রেমিট্যান্স কমে গেলে প্রবণতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মূল্যায়ন করতে না পারলেও মহামারীর কারণে এর মধ্যেই শ্লথগতিতে পড়া উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনীতি চলতি অর্থবছরে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছে এডিবি।

এদিকে এডিবি বলছে, এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে। ২০২০ সালে এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি দশমিক শতাংশ হবে। গত বছর গড়ে দশমিক শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল এশিয়ায়। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীনে দশমিক শতাংশ, ভারতে ভিয়েতনামে দশমিক শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে এডিবি।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পারকাশ এক বিবৃতিতে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালোই করছে। তবে কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর কারণে তার পতনের ঝুঁকি আছে। আরো তথ্য পাওয়া গেলে আউটলুক হালনাগাদ করা হবে। কভিড-১৯-এর অভিঘাত মোকাবেলা প্রশমনে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে সহযোগিতা করতে এডিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কভিড-১৯-এর কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা করে মনমোহন পারকাশ বলেন, আর্থিক প্রণোদনা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন