মঙ্গলবার | অক্টোবর ২০, ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

শেষ পাতা

নিজ নাগরিকদের প্রত্যাবাসন

নিয়মিত ফ্লাইটের সুযোগ চায় ওইসিডি দেশগুলো

তাসনিম মহসিন

নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে বাংলাদেশে থাকা দি অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) সদস্যরাষ্ট্রগুলো। নিয়ে সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পাশাপাশি চিঠিও দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস। নিজ নাগরিকদের ফেরাতে নিয়মিত ফ্লাইটের সুযোগ চাইছে এসব দেশ। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে একাধিক বৈঠক করেছে দেশগুলোর কূটনীতিকরা। সেই সঙ্গে কী ব্যবস্থায় নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া যায়, তা জানতে চেয়ে গত ৩০ মার্চ চিঠিও দিয়েছিল ওইসিডি সদস্য দেশগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার ঢাকায় থাকা ওইসিডি দেশগুলোর মধ্যে আস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসে ওই চিঠির জবাব পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশও কভিড-১৯ সংকটের শিকার। নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও এজন্য কঠিন পদক্ষেপ নিতে হয়েছে; যে পদক্ষেপগুলো নেয়া সহজ ছিল না, কিন্তু জনগণের সুরক্ষার জন্য জরুরি ছিল। করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে ওইসিডি দেশগুলোর নেয়া বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রস্তাবগুলোকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাসের কারণে মানবিক, সামাজিক অর্থনৈতিক বিষয়গুলোয় পরিকল্পনার উদ্যোগকেও স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। ভাইরাস মোকাবেলায় যথাসময়ে ওইসিডি দেশগুলো থেকে সরঞ্জাম বিশেষজ্ঞদের স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ।

এতে বলা হয়েছে, নিজ নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ইস্যুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যাম দূতাবাসগুলোকে সহযোগিতা করবে। যদি দূতাবাসগুলো বাংলাদেশ থেকে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে নিজ নাগরিকদের প্রত্যাবাসন করতে চায়, সেক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। এরই মধ্যে বেশকিছু দেশ বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। আর সামনের দিনগুলোতেও আরো নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে কিছু চার্টার ফ্লাইট আসছে। কভিড-১৯ মোকাবেলায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও বেশকিছু দেশের সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওইসিডি দেশগুলোকে নিশ্চিত করতে চায় যে কভিড-১৯ সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে বাংলাদেশ সরকার আবারো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেবে।

চিঠি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিদেশীদের ফিরে যাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য থাইল্যান্ডের সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা খোলা রেখেছিল। কারণ দুটি দেশ থেকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ ছিল ওইসিডির দেশগুলোর নাগরিকদের। তারা সে সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। আর এখন বিশেষ চার্টার ফ্লাইট ছাড়া নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দেবে না বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে তাদের। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সহযোগিতা করবে বলেও জানানো হয়েছে তাদের। তারা চাইলে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চার্টার করে যেতে পারবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থাও করে দেবে।

জানা গেছে, বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নিয়মিত ফ্লাইটের তুলনায় খরচ বেশি। বিশেষ ফ্লাইটটি খালি আসবে, নিজ নাগরিকদের নিয়ে গন্তব্যে চলে যাবে। ফলে খরচ কমাতে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর বিষয়টি জানতে চেয়েছেন কূটনীতিকরা। এমনকি নিয়মিত ফ্লাইটে নিজ নাগরিকদের দেশে ফেরানোর শেষ সুযোগের কথাও জানিয়েছেন তাদের কেউ কেউ।

এরই মধ্যে ভুটানের দ্রুক এয়ারের দুটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকায় এসে ১২৬ জন ভুটানিজ নাগরিককে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। মালয়েশিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশটির ২৩০ জন নাগরিককে ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শ্রীলংকাও তাদের প্রায় সাড়ে চারশ নাগরিককে বিশেষ ফ্লাইটে ফেরানোর বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করছে। নিয়মিত ফ্লাইটে ব্রিটিশ কূটনীতিকদের অনেকেই এরই মধ্যে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা নিয়মিত ফ্লাইটে নিজ গন্তব্যে ঢাকা ছেড়েছেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছেড়েছেন ২৬৯ মার্কিন নাগরিক। আর মার্কিন বাকি নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিতীয় ফ্লাইটটি শিগগিরই ঢাকা আসার কথা, যদিও সেটির দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন