শুক্রবার | জুন ০৫, ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

দেশের খবর

রাজবাড়ী আইসোলেশন থেকে ঢাকায়

কুয়েত মৈত্রী থেকে ‘ফিরিয়ে দেয়া’ রোগীর ফেরিতে মৃত্যু

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিট থেকে ঢাকায় পাঠানো হয় ৫৫ বছর বয়সী এক সবজি বিক্রেতাকে। তাকে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেয়া হলে রাজবাড়ী যাওয়ার পথে ফেরিতেই মারা গেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা থেকে ফেরার পথে ফেরিতে তার মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ওই সবজি বিক্রেতা রাজবাড়ী সদর উপজেলার টিঅ্যান্ডটি পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ঠান্ডা, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ শরীরে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও এক্স-রে প্রতিবেদন বিশ্লেষণ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়। শোনা যাচ্ছে সেখানে তাকে ভর্তি না করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। রাজবাড়ী আসার পথে তিনি মারা গেছেন।

তিনি আরো বলেন, সবজি বিক্রেতার শ্বাসকষ্টসহ শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ ছিল। আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহ করে দেখা যেতে পারে তিনি করোনা ভাইরাসের কারণে মারা গেছেন কিনা।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মাইনুদ্দিন খান তাকে নিয়ে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দুপুরের দিকে তাদের (রোগী ও স্বজন) হাসপাতালের সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে এসেছি।’

মৃত ব্যক্তির সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন তার স্ত্রী এবং প্রতিবেশী অ্যাডভোকেট কমলাকান্ত চক্রবর্তী বাবন। কমলাকান্ত বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে গেলে সেখানে ভর্তি নেয়া হয়নি। তারা প্রাথমিকভাবে দেখে জানিয়েছেন, আপনাদের রোগীর করোনা সংক্রমণ হয়নি। তাকে বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসা দেন। পরে একটা প্রাইভেটকার ভাড়া করে রাজবাড়িতে ফেরার পথে ফেরিতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দীপক কুমার বিশ্বাস জানান, ওই রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. শামীম আহসান ও এক্স-রে টেকনিশিয়ান ফিরোজ আহম্মদকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, রাজবাড়ী থেকে যেহেতু করোনা ভাইরাস সন্দেহে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, সেহেতু তার নমুনা সংগ্রহ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সিভিল সার্জন ভালো বলতে পারবেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন