রবিবার | মে ৩১, ২০২০ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

খবর

পোশাক খাত

ক্রয়াদেশ বাতিল-স্থগিত থেকে সরে আসছে বড় ক্রেতারা

বদরুল আলম

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে গেছে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। উত্পত্তি চীনে হলেও বর্তমানে করোনা প্রাদুর্ভাবের বড় ক্ষেত্র হলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির প্রধান গন্তব্য ইউরোপ আমেরিকা। ওই অঞ্চলগুলো বেশির ভাগই বর্তমানে অবরুদ্ধ ভোক্তারা ঘরবন্দি। পরিপ্রেক্ষিতেই ইউরোপ আমেরিকার ক্রেতারা একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে এর মধ্যে বড় কিছু ব্র্যান্ড ক্রয়াদেশ বাতিল স্থগিত থেকে সরে এসেছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পোশাক খাতের বাতিল-স্থগিত ক্রয়াদেশের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। হাজার ৫৯টি কারখানা বাতিল-স্থগিতের এসব তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন বিজিএমইএকে। তবে ক্রয়াদেশ বাতিল-স্থগিত করা কিছু ক্রেতা তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে শুরু করেছে। তারা বলছে, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে নতুন কোনো ক্রয়াদেশ না দিলেও এরই মধ্যে দেয়া ক্রয়াদেশের পণ্য তারা আমদানি করবে।

সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বাতিল-স্থগিত হওয়া ক্রয়াদেশের মধ্যে ইউরোপের প্রাইমার্কের মতো বড় ক্রেতাদের পাশাপাশি আছে ছোট মাঝারি আকারের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে ইউরোপ আমেরিকার কিছু ক্রেতা বলছে, তারা এরই মধ্যে কারখানায় দেয়া ক্রয়াদেশ বাতিল-স্থগিত করবে না। এসব ক্রেতা ব্র্যান্ডের মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্রের পিভিএইচ, টার্গেট। আবার ইউরোপের ক্রেতা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে আছে  যুক্তরাজ্যের মার্কস অ্যান্ড স্পেনসারস্পেনভিত্তিক ইন্ডিটেক্স, ফ্রান্সের কিয়াবি, সুইডেনের এইচঅ্যান্ডএম।

প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি . রুবানা হক বলেন, কিছু ব্র্যান্ড যেমন পিভিএইচ, ইন্ডিটেক্স, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার, কিয়াবি, টার্গেট এইচঅ্যান্ডএম এগিয়ে এসেছে। প্রস্তুতকৃত পণ্যসহ যেসব পণ্য উৎপাদনে আছে সেগুলো তারা নেয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের জানিয়েছে।

সরবরাহকারী কারখানাগুলোকে সহায়তায় ক্রেতাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রুবানা হক বলেন, আশা করছি কারখানার তারল্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে দাম পরিশোধের শর্তগুলোতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

জানা গেছে, ফ্রান্সে বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশকিছু কারখানার প্রায় ১০ লাখ ডলারের পণ্য জাহাজীকরণ স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে একটি কারখানা বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসানের। জানতে চাইলে মাহমুদ হাসান খান বণিক বার্তাকে বলেন, কিয়াবি নিশ্চিত করেছে যে তারা বাংলাদেশের সব সরবরাহকারীর পণ্য গ্রহণ করবে। নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা যদি আগামী মৌসুমে পণ্য বিক্রি করতে না পারে তাহলে পরের মৌসুমে পণ্য বিক্রি করবে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ সুইডিশ ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম তাদের সরবরাহকারী কারখানাকে এরই মধ্যে দেয়া ক্রয়াদেশের পণ্য গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বছরে বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য ক্রয় করা সুইডিশ রিটেইল ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম।

এইচঅ্যান্ডএম বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ইথিওপিয়ার আঞ্চলিক প্রধান জিয়াউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, এরই মধ্যে দেয়া ক্রয়াদেশগুলোসহ উৎপাদন চলমান আছে এমন পোশাক পণ্য আমরা নিচ্ছি। এগুলোর দামও পরিশোধ হবে চুক্তি অনুযায়ী। এরই মধ্যে দেয়া ক্রয়াদেশের পণ্যমূল্য নিয়ে নতুন কোনো সমঝোতাও আমরা করব না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই আমরা ক্রয়াদেশ দেয়া শুরু করব।

করোনার প্রভাবে প্রথমে কাঁচামাল সরবরাহ সংকটে পড়তে হয়েছিল পোশাক খাতকে। কারণ দেশের তৈরি পোশাক খাতের ওভেন পণ্য তৈরির আনুমানিক শতকরা ৬০ শতাংশ কাপড় চীন থেকে আমদানি হয়।  আর নিট পণ্য তৈরির আনুমানিক শতকরা ১৫-২০ শতাংশ কাঁচামাল চীন থেকে আমদানি হয়। চীনে করোনাভাইরাস হানা দেয়ায় দেশটি থেকে কাঁচামাল আসতে পারছিল না। কারণ করোনার প্রভাবে দেশটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ধীরগতিতে হলেও কাঁচামাল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে পরে। কিন্তু এখন চাহিদা সংকটে পড়ে পোশাক খাত। বড় ক্রেতারা এখন এরই মধ্যে দেয়া ক্রয়াদেশগুলো বাতিল-স্থগিত করবে না বলে আশ্বাস দেয়ায় সংকট মোকাবেলা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন