রবিবার | মে ৩১, ২০২০ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

খবর

বেসরকারি বিনিয়োগ ও রাজস্ব বাণিজ্য কমার শঙ্কায় অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। এজন্য সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বেসরকারি বিনিয়োগ কমার শঙ্কা রয়েছে। কমতে পারে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। তবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে। গৃহহীন ভূমিহীনদের জন্য বিনা মূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য নগদ অর্থ দেয়া হবে। বাজেটে যাতে আর্থিক সংকট না হয়, সেজন্য উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল গতকাল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে পর্যালোচনা বৈঠকে নিজ বাসভবনে এসব কথা বলেন। গতকালের বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আইআরডি সিনিয়র সচিব এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের মতো নানামুখী অর্থনৈতিক সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে। আমদানি ব্যয় রফতানি আয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম হয়েছে। অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ আরো কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলমান মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা বিলম্বের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা আছে। হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন এবং এভিয়েশন সেক্টরের মতো সার্ভিস সেক্টরগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বিরূপ প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা হ্রাসের কারণে এর মূল্য ৫০ শতাংশের অধিক হ্রাস পেয়েছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবাসী আয়ের ওপর। তবে যেহেতু বিগত আট মাসে প্রবাসী আয়ে ২১ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি ছিল, সেহেতু আগামী চার মাসে প্রবাসী আয় কিছুটা কম হলেও বছর শেষে গত অর্থবছরের তুলনায় কম হবে না বলে আশা করা যায়।

তবে পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধিকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব উত্তরণে বেশকিছু স্বল্প মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এখনই অর্থনীতির ক্ষতি প্রাক্কলন যৌক্তিক সময় নয় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যদিও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রাক্কলনে করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০২ কোটি ডলার হতে পারে। দীর্ঘ ছুটি বা কার্যত লকডাউনের ফলে রফতানিমুখী শিল্প, ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্পসহ উৎপাদনমুখী সব প্রতিষ্ঠানে বিরূপ প্রভাব এবং পরিবহন সেবা ব্যাহত হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে। সরবরাহ চেইনে সমস্যা হতে পারে। রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও আমরা শঙ্কিত। শিল্প উৎপাদন রফতানি বাণিজ্যের আঘাত মোকাবেলায় কিছু আপত্কালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এরই মধ্যে ব্যবসাবান্ধব বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিম্নবিত্তদের জন্য সব করা হবে। নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের ঘরে-ফেরা কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা হবে। বিনা মূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন