মঙ্গলবার | জুন ০২, ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

প্রথম পাতা

সংক্রমণ রোধে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

কভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংকটে সবকিছু নিয়ে সরকার জনগণের পাশে আছে বলেও জানান তিনি। গতকাল বিকালে গণভবনে এক অনির্ধারিত অনুষ্ঠানে করোনার সংকট মোকাবেলায় সরকারকে সহায়তা করতে সশস্ত্র বাহিনীসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের সমপরিমাণ বেতনের অর্থ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়া হয়। সময় দেশের খ্যাতনামা কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে করোনা সংকট মোকাবেলায় অর্থসহায়তা দেয়া হয়।

সময় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ধৈর্যের সঙ্গে সংকট মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের কাছ থেকে করোনা সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতা চায়। আমরা সেটা করব।

অতীতের বিভিন্ন মহামারীর কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, শত বছরে এমন একটা মহামারী পৃথিবীতে আসে। অতীতে যেহেতু প্রযুক্তির ব্যবহার এত ছিল না, কাজেই কোন দেশে, কোন অঞ্চলে, কোথায় কী ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা জানার সুযোগ ছিল না। বর্তমানে বিশ্বটা গ্লোবাল ভিলেজ হয়ে গেছে, কোথাও একটা ঘটনা ঘটলে আমরা গণমাধ্যমের কারণে সব ঘটনাই জানতে পারি।

তিনি বলেন, চীনের উহানে যখনই ঘটনা ঘটেছিল তখনই আমরা সেখান থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে এনেছি। তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। আমরা শুধু তাদের কোয়ারেন্টিনে রেখেই ক্ষান্ত হইনি, সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকেও সচেতন করা হয়েছে। এটা প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা একটার পর একটা নিয়ে নিয়েছি। বিশেষ করে আমরা দেশের মানুষকে সচেতন রাখতে চেষ্টা করছি। পাশাপাশি আমাদের উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, মানুষ যাতে আর্থিকভাবে কষ্টে না পড়ে, সে দিকটায়ও সচেতন থেকেছি। প্রতিটি পদক্ষেপ অন্তত পরিকল্পিতভাবে যখন যেটা প্রয়োজন হয়েছে সেটাই নিয়েছি। বলতে গেলে জানুয়ারি থেকেই আমাদের পদক্ষেপগুলো চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা পর্যায় যখন এল তখন আমরা সবাইকে ছুটি দিয়েছি। কিন্তু ছুটি মানে এই নয়, সবাই কাজ ছেড়ে ঘরে বসে থাকবে। যারা কাজ করতে পারবে, ঘরে বসেই কাজ করবে। কিন্তু মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কারণ এটা মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়।

শেখ হাসিনা বলেন, সারা বাংলাদেশে কিছু বিদেশী চলে আসছিল। প্রবাসীরা আসার ফলে ধরনের লক্ষণ দেখা দিল। কোন কোন জায়গায় দেখা দিল, তা আমরা সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ নিয়েছি। এর বিস্তার ঠেকাতে আমরা সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছি এবং সেটা অব্যাহত রাখছি। সবাইকে বলব ঘর থেকে বের হয়ে ঘুরে বেড়াবেন, এটা তো হয় না।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দেয়া অনুদান সরাসরি গ্রহণ করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ভিডিও কনফারেন্সে আছি। আমার পক্ষ থেকে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি তা গ্রহণ করছেন। এটা আমার কাছে খারাপও লাগছে। কারণ আপনাদের সঙ্গে মুখোমুখি দেখা করতে পারলাম না। এটার আরেকটা কারণ হচ্ছে আমি নিজেই যদি না মানি, তাহলে অন্যকে মানতে বলব কীভাবে? কারণ যেহেতু সবাইকে বলছি দূরত্ব বজায় রাখতে, ঘরে থাকতে।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা সময়টাও পার করতে পারব। আমাদের শিল্প-কারখানার মালিক-শ্রমিকরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যেখানে চালাতে পারবেন। কিন্তু সেখানে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ যারা কাজ করবেন, তাদের সুরক্ষিত রেখেই চালাতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সবার কাছে আহ্বান, আপনারা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। সৃষ্টিকর্তাই পারে। কারণ আমরা দেখি যে শতবছর পর ধরনের মহামারী আসে কেন? কাজেই নিজেরা সুরক্ষিত থাকা, আশপাশে যারা আছেন তাদের সুরক্ষিত রাখা। সেই সঙ্গে মানুষের ক্ষতি যত কম হয়, ক্ষতি যেন একেবারেই না হয়, সেটার জন্য ব্যবস্থা নেয়া। তা আমাদের নিতে হবে।

তিনি বলেন, কষ্টে থাকে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, সাধারণ নিম্নবিত্ত। অনেকই আছেন যাদের অবস্থা এমন না যে তারা অনেক কিছু জমিয়ে রাখতে পারবেন, দিনের পর দিন চলতে পারবেন। কর্মসংস্থান থাকার ফলে তাতে খেয়ে-পরে চলতে পারলেও বর্তমানে অবস্থা চলার ফলে তারা সত্যিই খুব কষ্টে আছেন। এরই মধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খাদ্যশস্য আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তা পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে। পাশাপাশি ভিজিএফসহ যেসব আর্থিক সহায়তা আমরা দিয়ে থাকি তা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সড়ক নৌপরিবহন যেহেতু বন্ধ, তাই তাদের শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছেন না। তারা ঘরে বসা। খাবার কিনে মজুদ করার মতো অবস্থা তাদের নেই। শ্রেণীর মানুষের কথাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। তাদের তালিকা করে আমাদের খাদ্যশস্য যা যা প্রয়োজন তা পৌঁছে দিতে হবে।

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তার নার্সদেরও সুরক্ষিত করা দরকার। সে বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। এরই মধ্যে আমরা সরকারিভাবে কাজ করছি। আবার কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও সহযোগিতা করছে, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিচ্ছে। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষার পোশাক দিতে হবে।

সরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের একদিনের বেতন প্রদান করেছে, তাদেরও পাশাপাশি এগিয়ে আসা বিত্তবানদের ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা বিজয়ী জাতি। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করার মতো সাহস শক্তি আমাদের আছে, আমি বিশ্বাস করি। অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে। যাতে দেশের জনগণকে আমরা সুরক্ষিত করতে পারি। বাঙালি কখনো হারেনি। আমরা হারব না। আত্মবিশ্বাস সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। শুধু নিজেকে একটু সুরক্ষিত রাখতে হবে, আর অন্যকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কৃষকদের ফসল ফলাতে হবে। পাশাপাশি অনেকেই গ্রামে চলে গেছে, তাদের যার যেখানে যতটুকু জমি আছি, এতটুকু জমিও যাতে অনাবাদি না থাকে। যে যা পারেন ফসল ফলাবেন। কারণ বিশ্বব্যাপী যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ব্যাপকভাবে খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে। আমাদের সুবিধা হলো, বাংলাদেশের মাটি উর্বর, মানুষ কর্মঠ। মাটি মানুষ মিলে যদি পরিশ্রম করতে পারি, তাহলে আমরা নিজেদের খাদ্যের পাশাপাশি অন্যকেও সহযোগিতা করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো আমরা খোলা রাখার ব্যবস্থা করেছি। যাতে ওষুধ উৎপাদনটা থাকে। পাশাপাশি পিপিই যা দরকার তা উৎপাদন শুরু হয়েছে। আরো উৎপাদন করা দরকার। অনেক দেশ আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইছে। আমরা সেই সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের কাছ থেকে যারা সহযোগিতা চেয়েছে, তাদেরও সহযোগিতা করতে পারব। তার সক্ষমতা আমাদের আছে। মানবিক কারণেই আমরা করব।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন