বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেষ পাতা

কভিড-১৯ আতঙ্ক

নতুন ক্রয়াদেশে বিরতির ঘোষণা এইচঅ্যান্ডএমের

বদরুল আলম

বাংলাদেশে কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর পরই আতঙ্ক শুরু হয় তৈরি পোশাক শিল্পের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহকারী কারখানার সঙ্গে কার্যক্রম সীমিত করে আনে সুইডিশ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম। এবার তারা নতুন ক্রয়াদেশ দেয়া থেকে বিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এইচঅ্যান্ডএম বাংলাদেশের প্রধান জিয়াউর রহমান বণিক বার্তাকে নতুন ক্রয়াদেশ দেয়া থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে তৈরি পোশাক পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এইচঅ্যান্ডএমের ব্যবসায়। প্রেক্ষাপটে ক্ষতি কমিয়ে আনতে গোটা ব্যবসা নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পোশাক সরবরাহকারী কারখানাগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক রক্ষার স্বার্থে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বল্পমেয়াদি কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এইচঅ্যান্ডএম। যার অংশ হিসেবে অস্থায়ীভাবে নতুন ক্রয়াদেশ দেয়া থেকে বিরত থাকবে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেয়া ক্রয়াদেশগুলোয়ও পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে এইচঅ্যান্ডএম বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ইথিওপিয়ার আঞ্চলিক প্রধান জিয়াউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, এরই মধ্যে দেয়া ক্রয়াদেশগুলোসহ উৎপাদন চলমান আছে এমন পোশাক পণ্য আমরা নিচ্ছি। এগুলোর দামও পরিশোধ হবে চুক্তি অনুযায়ী। বিদ্যমান ক্রয়াদেশের পণ্যমূল্য নিয়ে নতুন কোনো সমঝোতাও আমরা করব না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই আমরা ক্রয়াদেশ দেয়া শুরু করব।

বাংলাদেশ থেকে বছরে বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য ক্রয় করে সুইডিশ রিটেইল ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম। মার্চ বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত তিনজন শনাক্তের পর পরই পণ্য সরবরাহকারী বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে চিঠি পাঠায় এইচঅ্যান্ডএম বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে সরবরাহকারী কারখানার সঙ্গে কার্যক্রম সীমিত করার ঘোষণা দেয় তারা।

আড়াই শতাধিক কারখানাকে পাঠানো চিঠিতে বিদ্যমান ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার ধারণা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, সতর্কতাস্বরূপ এইচঅ্যান্ডএম পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে এইচঅ্যান্ডএমের কর্মীদের কারখানা পরিদর্শন বাতিল। ঘোষণার আওতায় থাকা কর্মীদের মধ্যে কোয়ালিটি কন্ট্রোলার বা মান নিয়ন্ত্রক নিরীক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত।

কার্যালয় পরিচালনার বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, সীমিত কার্যক্রম নিয়ে এইচঅ্যান্ডএম কার্যালয় খোলা থাকবে। পর্যায়ক্রমিকভাবে কর্মীরা কার্যালয়ে থাকবেন, অর্থাৎ এইচঅ্যান্ডএমের কর্মীরা বাসায় থেকে কাজ করবেন।

বর্তমানে সরকারের নির্দেশনা মেনে এইচঅ্যান্ডএম বাংলাদেশের কর্মীরা আবাসস্থলে অবস্থান করেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন