মঙ্গলবার | জুন ০২, ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

ভারতের লকডাউন

শ্রমিকদের প্রস্থান ও সংকুচিত পরিবহনে বিপাকে ব্যবসা খাত

বণিক বার্তা ডেস্ক

বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারতজুড়ে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। কভিড-১৯-এর সংক্রমণ রোধে গত বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া লকডাউন ভূমিকা রাখলেও বিপাকে পড়েছে দেশটির ব্যবসা শিল্প খাত। এরই মধ্যে শহরগুলো থেকে দলে দলে স্ব-স্থানে ফিরে গেছেন শ্রমিকরা। সংকুচিত হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাশাপাশি লকডাউন সফল করতে স্থানীয় প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপ অনেক সময়ই হয়রানি সৃষ্টি করছে। অবস্থায় দেশটির শিল্প উৎপাদন ব্যবসা খাত প্রায় থমকে গেছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পণ্য সরবরাহ।

শনিবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এক সভায় এসব বিষয় সরকারের কাছে তুলে ধরে দেশটির বিভিন্ন ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সংগঠন। সময় ভারতের বাণিজ্য শিল্পমন্ত্রী পিযূষ গয়ালকে ব্যবসায়ীরা জানান, পণ্য জব্দ করা ছাড়াও সড়কে শিল্প ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে লকডাউনের মধ্যে জরুরি পণ্য উৎপাদন সরবরাহে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শনিবারের সভায় অংশ নেয় ভারতের ১৬টি জাতীয় আঞ্চলিক শিল্পগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন বিভাগীয় ব্যবসায়িক লবি। তারা জানান, শিল্পপণ্য ছাড়াও সড়কে খাদ্য জরুরি ভোগ্যপণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র থেকে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখতে আলাদা পরিবহন সুবিধার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কারণ প্রচলিত পরিবহন ব্যবস্থা পণ্য সরবরাহে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারছে না। দ্য ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন কার্যনির্বাহী বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো পণ্যের জোগান, স্থানান্তর পরিবেশনের জন্য যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাস্তায় বের হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করছে। অবস্থায় পণ্যের মজুদ স্থানান্তর নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে। ফলে সমস্যা নিরসনে কেন্দ্র রাজ্য কর্তৃপক্ষকে আরো সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কারণ, কেন্দ্র থেকে যেসব পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে তার অনেক কিছুই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট নয়।

তবে গয়াল জানিয়েছেন, লকডাউনের মধ্যে সব ধরনের পণ্যবাহী যানবাহনের বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করতে বাধ্য।

এদিকে লকডাউনের কারণে সব শ্রমিককে ফিরে যাওয়া রোধে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে দেশটির শিল্পসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শিল্প এলাকা থেকে যাতে করে স্থায়ী-অস্থায়ী কোনো শ্রমিকই গ্রামে ফিরে না যান, সেজন্য তারা পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন। গাড়ি শিল্পের একজন জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী শনিবারের সভায় বলেন, কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের আবাসন খাদ্যের ব্যবস্থা করছে, যাতে তারা গ্রামে ফিরে না যায়। কিন্তু বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের সবার জন্য ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতিতে বন্ধ থাকা স্কুলগুলোয় তাদের থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে।

এদিকে শ্রমিকদের ঘরমুখী ঢল রোধে সরকারও বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। সভায় উপস্থিত ভারতের নৌমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডভ্যও শ্রমিকদের বেতন দেয়ার মধ্য দিয়ে ধরে রাখার বিষয়ে জোর দেন। তিনি বলেন, লকডাউনের উদ্দেশ্য যে সংক্রমণ প্রতিরোধ, তা সফল করতে হলে শ্রমিকদের ধরে রাখতে হবে। তাছাড়া তাদের গণপ্রস্থান ভাইরাস সংকট কেটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

উল্লেখ্য, ভারতজুড়ে তিন সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার পরই বড় শহরগুলোয় পণ্য কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আতঙ্কগ্রস্ত ক্রেতারা। অবস্থায় শহর ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামের পথে যাত্রা শুরু করেন শ্রমিকরা। যানবাহন বন্ধ করে দেয়ায় শুরু হয় তাদের হেঁটে পথচলা। এরই মধ্যে শনিবার ২৭০ কিলোমিটার পথ হাঁটতে গিয়ে মারা গেছেন এক শ্রমিক। সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন