বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আরো কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত যুক্তরাজ্যের

বণিক বার্তা ডেস্ক

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব রোধে আরো দীর্ঘ সময়ের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য। গতকাল ইঙ্গিত দেন দেশটির কেবিনেট অফিস মিনিস্টার মাইকেল গোভ। বাসায় অবস্থানের সময়সীমা কতদিন পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন গোভ। খবর বিবিসি।

কঠিন পদক্ষেপ কতদিন বহাল থাকবে বিবিসির অ্যান্ড্রু মার শোতে এমন প্রশ্নের উত্তরে গোভ বলেন, আমি আসলে ঠিক পূর্বাভাস দিতে পারছি না এটা কখন শেষ হবে। বর্তমান কর্মসূচি বহাল থাকাকালে আমাদের অবশ্যই উল্লেখযোগ্য সময়ের জন্য প্রস্তুতি রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, খুব ভালো হতো যদি বলতে পারতাম কখন পরিস্থিতির ইতি ঘটবে। কিন্তু মুহূর্তে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে কঠোর সামাজিক বিচ্ছিন্নতার নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

যুক্তরাজ্যের সব বাড়িতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের চিঠি পাঠানোর পরই ইঙ্গিত দিলেন কেবিনেট মন্ত্রী। যুক্তরাজ্যের তিন কোটি পরিবারকে চিঠি পাঠিয়ে দেয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জনসন লেখেন, শুরু থেকেই আমরা সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেছি। বিজ্ঞানী চিকিৎসকদের পরামর্শমাফিক আমাদের যা করতে বলা হবে, আমরা তা অবশ্যই করব।

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কভিড-১৯ ধরা পড়ার পর থেকেই নিজেকে সবার কাছ থেকে আলাদা রেখেছেন জনসন। কোনো দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি হচ্ছেন তিনি। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনে যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে তিনি চিঠিতে রকম ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

শনিবার করোনাভাইরাসে আরো ২৬০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে হাজার ১৯ জনে। পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

চিঠিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরো লেখেন, আমরা জানি পরিস্থিতি ভালো হওয়ার আগে আরো খারাপের দিকে যাবে। তবে আমরা সঠিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা সবাই নিয়ম যত বেশি মেনে চলব, তত কম জীবন হারাব এবং তত তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারব।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে গত সপ্তাহেই দুজনের বেশি মানুষের সমাগমে নিষেধাজ্ঞা, দোকানপাট বন্ধ রাখা এবং অপরিহার্য নয় এমন সব জিনিসের বিক্রি বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে শুধু চারটি কারণে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে; অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়, শরীরচর্চা, চিকিৎসাসংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজন এবং বাসায় কাজে অক্ষম হলে কর্মস্থলে গমন।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দৈনন্দিন জীবনে আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের প্রভাব পড়ার আগে আরো অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে।

জনসন তার চিঠিতে বিশ্ব মহামারীকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আবারো জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএসইএস) সুরক্ষাসহ জীবন বাঁচাতে সবাইকে সরকারি নির্দেশ মেনে বাড়িতে অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক জানান, বর্তমানে সরকার প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষকে পরীক্ষা করছে এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি নাগাদ দিনে ২৫ হাজার মানুষকে পরীক্ষা করার পথে রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন