বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

দেশের খবর

করোনার উপসর্গ নিয়ে ৪ জেলায় ছয়জনের মৃত্যু

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চার জেলায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তারা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

বরিশাল: বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালী জেলার কালিকাপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে মারা যান আরেকজন। গতকাল শনিবার রাতে তারা মারা যান।

জানা গেছে, গত শনিবার রাত ১২টার দিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই নারী (৪৫) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তির কিছুক্ষণ পর মারা যান। গতকাল সকাল ৭টা ২০ মিনিটে করোনা ইউনিটে মারা যাওয়া আরেকজন রোগী (৪০) তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায়। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পটুয়াখালী হাসপাতাল থেকে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল সকাল ৭টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। 

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, হাসপাতালে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কোনো ল্যাব বা কিট নেই। তবুও রোগীর লক্ষণ দেখে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে রোগী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা দুজন রোগীরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রোগীর মৃত্যুর পর বিষয়টি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

অন্যদিকে পটুয়াখালী জেলার কালিকাপুর এলাকার নিজ বাসায় এক বৃদ্ধ (৬৫) মারা গেছেন। 

পটুয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মোনায়েম জানান, গত শনিবার বিকালে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তার উপসর্গ দেখে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। 

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিহত বৃদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। করোনাভাইরাস সন্দেহ করায় তার মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। তার মৃত্যুর পর বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। 

মানিকগঞ্জ: জেলায় জ্বর, সর্দি-কাশি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে এক নারী মারা গেছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

সদর উপজেলার মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ওই নারীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তিনি সাতদিন ধরে জ্বর, কাশি শ্বাসকষ্ট এবং গত দুদিন ধরে পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। 

তিনি বলেন, সাতদিন আগে ওই নারীর শ্বশুর মারা যান। তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অনেক লোক সমাগম হয়েছিল। সেখানে আসা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

ব্যাপারে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, মৃত নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হযেছে। দ্রুত তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, মৃত নারীর পরিবারের সদস্য এবং তাদের নিকট প্রতিবেশীদের কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

নওগাঁ: জেলার রানীনগরে ঢাকা থেকে আসা এক যুবক জ্বর কাশিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবারের দাবি, করোনাভাইরাস সন্দেহে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন তিনি। গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ৮টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রাতেই তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবক ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। গতকাল সকালে গায়ে প্রচণ্ড জ্বর আর কাশি নিয়ে ঢাকা থেকে নওগাঁয় যান তিনি। এরপর বাড়িতে আসার সময় করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় ইউপি মেম্বার গ্রামের কিছু লোকজন তাকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেয়নি। এলাকার ভেটি স্ট্যান্ড থেকে চিকিৎসার জন্য তাকে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা না করে ফিরিয়ে দেন। এরপর আবারো তাকে নিয়ে এসে ভেটি কমিউনিটি ক্লিনিকের বারান্দায় রাখা হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হলে রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসকরা তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠান। অবশেষে তিন হাসপাতাল ঘুরে রামেক হাসপাতালে গিয়ে মারা যান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খান বলেন, ওই যুবকের শরীরে ১০০ ডিগ্রির ওপরে জ্বর ছিল। তাকে হাসপাতালে অবচেতন অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সদর হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মুমিনুল হক জানান, জ্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। কারণ তাকে আইসিইউতে নেয়া প্রয়োজন ছিল। তবে ওই যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা, সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। 

খুলনা: খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ওই বৃদ্ধার বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলায়। 

খুমেক হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন বিভাগের মুখপাত্র ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তার স্ট্রোক শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল। হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধ থাকার কারণে গত শনিবার সকালে তাকে আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়েছিল। এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। তার বিষয় নিয়ে ঢাকা আইইডিসিআরে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। সবকিছু শুনে ঢাকা থেকে বলা হয়েছে, তার করোনা নিয়ে সন্দেহজনক কিছু নেই। তার স্যাম্পল দরকার নেই। এরপর তার মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন