বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

দেশের খবর

পাহাড়ে থামছে না ‘হামে’ প্রাণহানি

এবার খাগড়াছড়িতে শিশুর মৃত্যু

বণিক বার্তা প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি

হামসদৃশ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন উপজেলায়। রোগে এবার খাগড়াছড়িতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার রাতে দীঘিনালা উপজেলার রথিচন্দ্র কারবারি পাড়ায় ধ্বনিকা ত্রিপুরা () নামে ওই শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই পাড়ার রঞ্জন ত্রিপুরার মেয়ে। নিয়ে দেড় মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রথিচন্দ্র কারবারিপাড়ার আরো অর্ধশত অসুস্থ শিশুর হামের মতো উপসর্গ রয়েছে। এদের বেশির ভাগের বয়স ১০ বছরের কম। পান্থই ত্রিপুরা নামে এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আক্রান্ত প্রত্যেকের জ্বর শরীরে লাল গুটি দেখা যায়। দুর্গম এলাকা গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় কেউ চিকিৎসাসেবা নিতে পারেনি। ধ্বনিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর পর গ্রামে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পর একটি মেডিকেল টিম এসে চিকিৎসাসেবা দেয়।

সারেন্দ্র ত্রিপুরা নামের এক ব্যক্তি জানান, তার দুই সন্তান খঞ্জন ত্রিপুরা () মেরিনা ত্রিপুরা () হামে আক্রান্ত। স্থানীয় ভাষায় রোগকে লুতি নামে ডাকা হয়।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার জানান, আক্রান্তদের লক্ষণ হামের সঙ্গে মিল রয়েছে। তবে পরীক্ষা না করে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আক্রান্তদের মধ্য থেকে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পান্থই ত্রিপুরাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয়েছে। এছাড়া এলাকার অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনে সে পাড়ায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক ওষুধ নিয়ে সেখানে পৌঁছেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের অরুণ পাড়া লংথিয়ান পাড়ায় হামসদৃশ রোগে সাত শিশুর মৃত্যু হয়। ইউনিয়নের অরুণ পাড়া, লংথিয়ান পাড়া, নিউথাং পাড়া, হাইচ্চা পাড়া কমলাপুর পাড়ায় আরো ১৩৬ শিশু একই রোগে আক্রান্ত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম তাদের চিকিৎসা দিচ্ছে। ২৫ মার্চ বিকালে গুরুতর অসুস্থ পাঁচ শিশুকে সেনাবাহিনী বিজিবির সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেয়া হয়। বর্তমানে ওই পাঁচ শিশু সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাঘাইছড়ির ইউএনও মো. আহসান হাবিব জিতু জানান, আগের ১৩৬ শিশু ছাড়া নতুন কেউ হাম আক্রান্ত হয়নি। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অনেকের অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো।

এদিকে ১৩ মার্চ বান্দরবানের লামা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নং ওয়ার্ডের পুরাতন লাইল্যা মুরুং পাড়ায় হামসদৃশ রোগে দুতিয়া মুরুং () নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরে একই রোগে আক্রান্ত ওই পাড়ার আরো ৩৫ শিশুকে ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদুল হক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন