বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

দেশের খবর

করোনাভাইরাসের প্রভাব

বন্ধ হয়ে গেছে যশোরের ৩৪টি মৎস্য হ্যাচারি

বণিক বার্তা প্রতিনিধি যশোর

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশজুড়ে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন চলাচল। একই অবস্থা দেশের সব হাটবাজারেও। অবস্থায় দাম কম, শ্রমিক পরিবহন সংকটের কারণে যশোরের চাঁচড়া মৎস্যপল্লীর হ্যাচারিগুলোয় রেণুপোনা উৎপাদনে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। বন্ধ রয়েছে বেচাকেনা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার একযোগে বন্ধ হয়ে গেছে ৩৪টি মৎস্য হ্যাচারি। এসব হ্যাচারি বন্ধ থাকলে প্রতি সপ্তাহে ১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে দাবি করেছেন হ্যাচারি মালিকরা। 

হ্যাচারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত রেণুপোনা উৎপাদনের ভরা মৌসুম। দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ রেণুপোনা যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়। চাঁচড়া মৎস্যপল্লীর ৩৪টি হ্যাচারিতে গত বছর প্রায় লাখ ৬০ হাজার কেজি রেণু উৎপাদন করা হয়। এবারো একই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ভরা মৌসুমে হ্যাচারি বন্ধ করতে হলো। এতে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেণুপোনা উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে শ্রমিক সংকট, পোনার দাম কমে যাওয়া বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে হ্যাচারিগুলো বন্ধ করতে তারা বাধ্য হয়েছেন।

যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ফাতিমা হ্যাচারির স্বত্বাধিকারী ফিরোজ খান বলেন, চলতি বছর ভরা মৌসুমে হ্যাচারিগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে ফের চালু করা হবে। গত বছর আমরা দুই লাখ কেজি রেণুপোনা উৎপাদন করেছিলাম। বছরও একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল, কিন্তু সেটি অর্জিত হবে না। এতে আমাদের প্রতি সপ্তাহে ১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হবে। 

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, রেণুপোনা উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে যশোর। জেলায় ৩৪টি হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে কার্পজাতীয় রেণুপোনা উৎপাদন ৬৪ দশমিক ৮৬ টন। জেলায় রেণুপোনার চাহিদা ১৫ দশমিক ২৩ টন। উদ্বৃত্ত ৪৯ দশমিক ৬৩ টন রেণুপোনা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। যশোরে মোট ৫১টি বাঁওড় রয়েছে, যার আয়তন ১৮ হাজার ৮৪ হেক্টর। মূলত এসব বাঁওড়ে মাছ চাষ করা হয়। 

যশোরের হ্যাচারিগুলো রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাসকার্প, বিগহেড, থাই সরপুঁটি, মিরর কার্প, জাপানি, চিতল, আইড়, তেলাপিয়া, মনোসেক্স তেলাপিয়া, শিং, কৈ, থাই কৈ, পাঙাশ প্রভৃতি মাছের পোনা উৎপাদন করে। হ্যাচারির পাশাপাশি যশোরে পাঁচ-ছয় হাজার নার্সারি রয়েছে। জেলার দুই লাখ লোক মাছ উৎপাদন, চাষ এবং -সংশ্লিষ্ট পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। 

জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান গোলদার বলেন, সবসময় আমাদের প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে রেণুপোনা উৎপাদন করতে হয়। প্রচণ্ড গরমে রেণুপোনা উৎপাদন ব্যাহত হয়। এখন আবার করোনাভাইরাসের প্রভাবে আমাদের সব হ্যাচারি বন্ধ করতে হলো। এতে খাতের সঙ্গে জড়িত ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। 

একই এলাকার মাছচাষী অহিদুল্লাহ লুলু বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে রেণুপোনা উৎপাদনে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না হ্যাচারি মালিকরা। কেননা হাপা মালিকরা রেণুপোনা কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। 

বিষয়ে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব আমাদের মৎস্য খাতে পড়েছে। দীর্ঘদিন রেণুপোনা উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়বে। তাই আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে সীমিত আকারে রেণুপোনা উৎপাদনের জন্য হ্যাচারি মালিকদের বলেছি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন