রবিবার | মে ৩১, ২০২০ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

পণ্যবাজার

বছরের প্রথম দুই মাস

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি ছয় গুণ বাড়িয়েছে চীন

বণিক বার্তা ডেস্ক

২০১৯ সাল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন খাতের জন্য সংকটের একটা বছর। প্রধান রফতানি গন্তব্য চীনের সঙ্গে বছরজুড়ে চলা বাণিজ্যযুদ্ধ মার্কিন সয়াবিন রফতানিতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। এমনকি চীনের বাজার হিস্যায় সময় ব্রাজিলের কাছে শীর্ষ অবস্থান হারায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে চলতি বছরটা বেশ ভালোভাবে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রফতানি খাত। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের দামামা অনেকটাই কমে এসেছে। বেড়েছে সয়াবিন রফতানি। ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ছয় গুণ বাড়িয়েছেন চীনা আমদানিকারকরা। কমেছে ব্রাজিল থেকে কৃষিপণ্যটির আমদানি। তবে চীন যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার খাতের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর রয়টার্স সিনহুয়া।

চীন বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন আমদানিকারক দেশ। দেশটির জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে চীনা আমদানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সব মিলিয়ে ৬১ লাখ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছেন। গত বছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১০ লাখ ৪৪ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছিল চীন। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে চীনের বাজারে মার্কিন সয়াবিন আমদানি প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে। 

বাণিজ্যযুদ্ধের জের ধরে বাড়তি শুল্ক আরোপ করায় গত বছরের বড় একটা সময়জুড়ে মার্কিন সয়াবিন থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলেন চীনা আমদানিকারকরা। এর বিপরীতে কৃষিপণ্যটির আমদানিতে ব্রাজিলের প্রতি ঝোঁকেন তারা। ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে চীনের বাজারে শীর্ষ সয়াবিন রফতানিকারকের স্বীকৃতি পায় ব্রাজিল। তবে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ব্রাজিল থেকে চীনে সয়াবিন আমদানি কমে এসেছে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানিয়েছে, গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে ব্রাজিল থেকে চীনা আমদানিকারকরা সব মিলিয়ে ৫১ লাখ ৪০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম। গত বছরের একই সময়ে ব্রাজিল থেকে মোট ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছিল চীন। 

সংস্থাটির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চীনা আমদানিকারকরা সব মিলিয়ে কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছেন। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে কৃষিপণ্যটির আমদানি বেড়েছে ১৪ দশমিক শতাংশ। আমদানি করা সয়াবিনের সিংহভাগ ভোজ্যতেল পশুখাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার করে চীন। 

চীনের বাজারে সয়াবিন আমদানির এসব তথ্য বেইজিং-ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্যযুদ্ধের দামামায় রাশ টানার চেষ্টা করছে দু্ই দেশ। কারণে সয়াবিন বাণিজ্যে গতি ফিরতে শুরু করেছে। তবে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী চীন যুক্তরাষ্ট্রদুই দেশকেই গভীর সংকটে ফেলেছে। মহামারী কতদিন থাকবে, সেটা অনিশ্চিত। পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে মহামারীর ধাক্কা চীন যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন বাণিজ্যে নতুন করে লাগাম টানতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ব্রাজিলের সয়াবিন রফতানি খাতও। 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন