রবিবার | মে ৩১, ২০২০ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

করোনার ক্ষতি পোষাতে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

বণিক বার্তা অনলাইন

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তামাক পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। আজ রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর কাছে জমা দেয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতে এনবিআর-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর ই-মেইলের মাধ্যমে এই বাজেট প্রস্তাব জমা দেয়া হয়।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, তামাকের দাম বেশি হলে তরুণ জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার শুরু করতে নিরৎসাহিত হয় এবং তামাকাসক্তরাও বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ছাড়তে উৎসাহিত হবে। এ দাবি বাস্তবায়ন করা হলে ৬ লাখ অকাল মৃত্যু রোধ হবে এবং ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে, যা সরকার করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সংকট মোকাবেলায় ব্যবহার করতে পারবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে তামাকাসক্ত ফুসফুস করোনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজ বাড়িতেই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাকের ক্ষতির শিকার এই বিপুল প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী বর্তমানে মারাত্মকভাবে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তামাকের সহজলভ্যতাই এর প্রধান কারণ। স্বল্প দামে তামাকপণ্য ক্রয়ের সুযোগ এবং ত্রুটিপূর্ণ করকাঠামো বিশেষ করে সিগারেটে ৪টি মূল্যস্তর থাকায় তামাকের ব্যবহার হ্রাসে কর ও মূল্যপদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করছে না।

জাতীয় বাজেট প্রণয়নে বিবেচনার জন্য তামাকপণ্যে করারোপের বিষয়ে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়-

১। সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা ৪টি থেকে ২টিতে (নিম্ন এবং প্রিমিয়াম) নামিয়ে আনা: 

   ক. ৩৭+ টাকা এবং ৬৩+ টাকা এই দুইটি মূল্যস্তরকে একত্রিত করে নিম্নস্তরে নিয়ে আসা; নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক  এবং ১০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

   খ.  ৯৩+ টাকা ও ১২৩+ টাকা এই দুইটি মূল্যস্তরকে একত্রিত করে প্রিমিয়াম স্তরে নিয়ে আসা; প্রিমিয়াম স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১২৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক  এবং ১৯ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

২। বিড়ির ফিল্টার এবং নন-ফিল্টার মূল্য বিভাজন তুলে দেয়া: ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৪০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৬ দশমিক ৮৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা; এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩২ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ৫ দশমিক ৪৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

৩। ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের (জর্দা ও গুল) মূল্য বৃদ্ধি করা: প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৩ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা; এবং প্রতি ১০ গ্রাম জর্দা ও গুলের উপর যথাক্রমে ৫ দশমিক ৭১ টাকা এবং ৩ দশমিক ৪৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষত নারীদের মাঝে এই পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে জর্দা-গুল ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

একই সঙ্গে সকল তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

দেশে তামাকের ব্যবহার দ্রুতহারে কমানো এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে আত্মা’র বাজেট প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য এনবিআরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন