বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

টকিজ

ভয়ের মধ্যে কাটছে দিন

হালের প্রিয় মুখ পূজা চেরি। অভিনয় করেছেন বেশকিছু দর্শকপ্রিয় ছবিতে। করোনাভাইরাসের কারণে একে একে পিছিয়ে গেছে তার বেশ কয়েকটি ছবির মুক্তি। এর মধ্যে আছে পূজা অভিনীত জ্বীন ছবিটিও। করোনার কারণে শুটিং বন্ধের আগে তিনি সাইকো ছবির কাজ করছিলেন। সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে টকিজের মুখোমুখি হন পূজা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান জামিল

কেমন আছেন?

ভালো আছি বললে ভুল হবে। এখন ভয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দিনকাল। আশেপাশে কে কখন করোনায় আক্রান্ত হয়। তাই কখনো ভয় কখনো আতঙ্ক কাজ করছে। সাবধানে ঘরেই আছি।

করোনাভাইরাস আক্রমণের আগে কী নিয়ে ব্যস্ততা ছিল?

একটা টিভিসি করেছি। রাঙাপরী মেহেদির। তার আগে অনন্য মামুনের সাইকো ছবির শুটিং ছিল।

শান, জ্বীন ছবিগুলোর বতমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই।

মুক্তির তালিকায় আমার তিনটি ছবি রয়েছে। শান, জ্বীন সাইকো। শান ছবির দুটি গানের দৃশ্য ধারণ বাকি আছে। নূর জাহান, পোড়ামন -এর মতো ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছি। ছবির গল্পগুলোও ভালো। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে। সবসময় চেষ্টা করি ভালো গল্পের ছবিতে অভিনয় করতে।

ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কোন কাজটিকে এগিয়ে রাখবেন?

এটা বলা কঠিন। তবে পোড়ামন ছবিটিকে এগিয়ে রাখব। যখন আমাকে কাস্ট করা হয়, তখন অনেকেই বলেছিল পারবে না, বাচ্চা। কীভাবে কী করবে? তখন জাজ মাল্টিমিডিয়ার আব্দুল আজিজ স্যার বলেছিলেন, ওকে, তাহলে আগে নূরজাহান করুক। তখন রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় নূরজাহান ছবিতে অভিনয় করি। হলে গিয়ে ছবিটি দেখার পর সবাই বলেছে, পূজা পারবে। তাই পোড়ামন নূর জাহান ছবি দুটিকে ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করি।

নূর জাহান তো মারাঠি ছবি সৈরাট থেকে নেয়া।

সৈরাট থেকে সরাসরি নেয়া হয়নি। কিছুটা মিল আছে। কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়া দুজন ছেলেমেয়ের প্রেমকাহিনী নিয়ে ছবি।

পর্যন্ত কোন ছবিতে সেরা অভিনয় করেছেন বলে মনে হয়?

এখন পর্যন্ত আমি সেরা অভিনয় করেছি বলে মনে হয় না। আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে হয় না। সামনের দিনগুলোয় আরো ভালো অভিনয় করতে চাই। অভিনয় নিয়ে সবসময় ভাবি। ভালো ভালো ছবি দেখি। ছবিতে প্রতিভাবান অভিনেত্রীদের অভিনয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করি। বিশেষ করে সুচিত্রা সেনের অভিনয় খুব মন দিয়ে দেখি। কাজের ক্ষেত্রে তাকে আমার খুব পছন্দ। তার অভিনয়ের ভক্ত আমি।

শিশুশিল্পী থেকে এখন অভিনেত্রী, কাজের ক্ষেত্রে পার্থক্য কতটুকু?

পার্থক্য অনেক। এখানে মূল জায়গাটা দায়িত্বের। শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করলে যেকোনো দৃশ্য ধারণের পর প্যাক আপ বললেই শেষ। খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সংলাপ বললেই হয়ে যায়। কিন্তু যখন অভিনয়শিল্পী হিসেবে কাজ করা হয় তখন আসলে তাদের ওপর অনেক বেশি দায়িত্ব থাকে। ছবির অনেক কিছুই তাদের ওপর নির্ভর করে। প্রায় সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। চিত্রনাট্য ভালো করে পড়া, একটি চরিত্রের ভেতরে ঢোকাসহ আরো অনেক দিকে খেয়াল রাখতে হয়। দর্শক যখন হলে গিয়ে ছবি দেখেন, তারা কিন্তু অভিনয়শিল্পীদের অভিনয় খুব খুঁটিয়েই দেখেন।

নতুন কী কী কাজ হাতে আছে?

বেশকিছু কাজের কথা চলছিল। কিন্তু নতুন কোনো কাজে সাইন করিনি। সময়টা একটু স্বাভাবিক হলে আশা করি চুক্তিবদ্ধ হব।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।

সবাই নিজেকে ভালো অবস্থানে দেখতে চায়। আমিও ব্যতিক্রম নই। সবার সহযোগিতায় আমার শুরুটা ভালো ছিল। আমি আমার পরিশ্রম-নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করে যেতে চাই।

এখন সময় কীভাবে কাটাচ্ছেন?

আমি উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছি। ফলে এই অবসরে টেক্সট বইগুলো পড়ে ফেলছি। তাছাড়া প্রচুর ছবি দেখছি। বাসার কাজে মাকে সাহায্য করছি।

করোনা নিয়ে পাঠকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

এই সময়টা সবাই সাবধানে থাকবেন। বাসায় থাকুন, পরিবারকে সময় দিন। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবেন না। বারবার হাত ধুয়ে ফেলুন। নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচান।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন