মঙ্গলবার | মে ২৬, ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

প্রথম পাতা

বিদেশীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে চীন

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল ধরা হয় চীনকে। আবার তারাই ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় দেশটিতে কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে। সময়ে সেখানে কেবল হাতেগোনা কয়েকজন স্থানীয়র মধ্যেই করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এতে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছিল। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, চীনে নতুন করে ভাইরাসটির প্রকোপ শুরু হচ্ছে। গতকাল দেশটিতে ৫৫ জনের মধ্যে নতুন করে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। তাদের প্রায় সবাই অতিসম্প্রতি চীনের বাইরে থেকে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন। অবস্থায় বিদেশীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। খবর এএফপি। 

মাত্রই ধীরে ধীরে করোনাভাইরাসের কবল থেকে মুক্ত হতে শুরু করেছিল চীন। এরই মধ্যে বিদেশীদের চীনে প্রবেশের সুযোগ দেয়ায় বিপদ বেড়েছে দেশটির। চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন জানিয়েছে, গতকাল দেশটিতে মোট ৫৫ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৪ জনই দেশের বাইরে থেকে আসা ব্যক্তি। বাকি একজন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নিয়ে চীনে বিদেশ থেকে ভাইরাসের বাহক হয়ে ফেরার সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯৫ জন। 

বেইজিংকে এখন বাইরে আক্রান্ত রোগীদের দেশে প্রবেশ ঠেকাতেই বেশি মাথা ঘামাতে হচ্ছে। বিদেশে থাকা চীনের অনেক নাগরিকই এখন দেশে ফিরতে শুরু করেছেন, যাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

এমন সময়ে চীনে অর্ধশতাধিক নতুন সংক্রমণের খবর পাওয়া গেল, যার কয়েক ঘণ্টা আগেই দেশটিতে বিদেশীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা কমানো উড়োজাহাজে যাত্রী পরিবহন ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে জিনপিং প্রশাসন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈধ ভিসা চীনে বসবাসের অনুমতি রয়েছে, এমন বিদেশীরা শুক্রবার মধ্যরাতের পর আর দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। মহামারী পরিস্থিতিতে সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবেই বেইজিং সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তবে কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনার জাহাজের ক্রুদের চীনে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

সংক্রমণের মাত্রা ঠেকাতে চীন এরই মধ্যে বেশকিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রয়েছে। বেইজিংমুখী সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অন্যান্য শহরমুখী করা হয়েছে, যেন আগে সেখানে যাত্রীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করা যায়। এছাড়া বেইজিং, সাংহাইসহ চীনের বেশ কয়েকটি শহরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এক হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রী নিয়ে চীনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার চীনে নতুন করে পাঁচজন কভিড-১৯ রোগী মারা গেছেন। যেখান থেকে ভাইরাসের উৎপত্তি, সেই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন তারা। চীনে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৩৪০ জন। সেখানে মারা গেছেন হাজার ২৯২ জন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন