বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেষ পাতা

চট্টগ্রাম বন্দরে খাদ্যশস্যের হ্যান্ডলিং বেড়েছে

রাশেদ এইচ চৌধুরী চট্টগ্রাম ব্যুরো

করোনাভাইরাসের প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কাঁচামাল শিল্পপণ্যের আমদানি কমলেও স্বাভাবিক রয়েছে খাদ্যশস্য সাধারণ পণ্যের হ্যান্ডলিং। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পণ্যের হ্যান্ডলিং আগের চেয়ে বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে চিত্র উঠে এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ে বন্দর দিয়ে বাল্ক পণ্য (খাদ্যশস্য সাধারণ পণ্য) হ্যান্ডলিং হয়েছে কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার টন। যদিও গত বছরের একই সময়ে বন্দরে খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছিল কোটি ৪৮ লাখ হাজার টন। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্যের হ্যান্ডলিং বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, সরকারি ছুটিতে জাহাজ আগমন পণ্য খালাসের কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেভাবে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পরিচালন কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখে দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাল্ক কনটেইনারবাহী দুই ধরনের জাহাজে করে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে মূলত খাদ্যশস্য সাধারণ পণ্য আমদানি হয় বাল্ক কার্গো বা খোলা পণ্যবাহী জাহাজে। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের বহির্নোঙরে প্রতিদিন গড়ে অর্ধশত জাহাজ ওয়ার্কিং (পণ্য স্থানান্তররত) থাকে। গতকালও ৫১টি জাহাজ ওয়ার্কিং ছিল বহির্নোঙরে। এর আগে ১৫ ১৬ মার্চ ৪৩টি করে, ১৭ মার্চ ৫৪টি, ১৮ মার্চ ৪৮টি, ১৯ মার্চ ৫১টি, ২০ মার্চ ৫৩টি, ২১ মার্চ ৫০টি জাহাজ অবস্থান করেছে বহির্নোঙরে। একই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে প্রতিদিন ১৬টি করে কনটেইনার জাহাজ খালাস কার্যক্রমে ছিল। তবে গতকাল শুক্রবার জেটিতে কনটেইনার জাহাজ ছিল মোট ১৫টি।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, টানা ছুটি থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ থেকে সব ধরনের পণ্য খালাস হচ্ছে, তবে পণ্য ছাড়িয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সুযোগ দেয়া হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চিকিৎসা সেবাসামগ্রী। শুধু রফতানি কার্যক্রম পুরোপুরি সচল রাখা হয়েছে।

বছরভিত্তিক হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত বছরের তুলনায় সাধারণ পণ্যের হ্যান্ডলিং বাড়লেও কাস্টমসের হিসেবে পণ্য আমদানি কমেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে পণ্য আমদানি কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। সরকারি ছুটিতে ন্যূনতম জনবল দ্বারা নিত্যপণ্য এবং চিকিৎসা সেবাপণ্য শুল্কায়ন খালাস কার্যক্রম পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম শুল্ক কর্তৃপক্ষ। বাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করলেও এলাকা ছেড়ে না যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, খাদ্যপণ্য, চিকিৎসাসহ জরুরি পণ্যের শুল্কায়ন খালাস কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। আমদানি পণ্যের জট তৈরি হলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য ছুটিতে থাকা কর্মকর্তাদেরও বাসায় থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আমদানি পণ্য খালাসের জন্য পণ্যভেদে যেসব সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সেগুলো হলো শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বিএসটিআই, ব্যাংক, উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্র পরমাণু শক্তি কমিশনের।

শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, দিনে অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা রাখা হচ্ছে আমাদের কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ বন্ধ রাখলে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, সমুদ্রপথে পণ্যের ৯৩ শতাংশ আমদানি-রফতানি সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। ৩৫-৯০ হাজার টন খোলা, বস্তাবন্দি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলোকে বহির্নোঙর কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করে পণ্য খালাস করতে হয়। কনটেইনারবাহী বড় জাহাজ (মাদার ভেসেল) ভেড়ার সুযোগ নেই বন্দরের জেটিতে। মূলত বড় আকারের ফিডার জাহাজের (ফিডারম্যাক্স) মাধ্যমে কনটেইনার আসে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন