বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেষ পাতা

দেশে ফেরা নিয়ে বিপাকে আটকে পড়া ওমরা যাত্রীরা

মনজুরুল ইসলাম

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য ওমরাহ ভিসা বাতিল করে সৌদি আরব। পরবর্তী সময়ে ১৫ মার্চ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগও স্থগিত করে দেশটি। এতে বিপদে পড়েন সৌদ আরবে ওমরাহ পালনে যাওয়া বাংলাদেশীরা। তবে ঠিক কতজন বাংলাদেশী সেখানে আটকে রয়েছেন তার সঠিক তথ্য নেই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে। অবস্থায় ওমরাহ পালনে গিয়ে যারা আটকা পড়েছেন তাদের ২৮ মার্চের মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করার জন্য বলা হয়েছে।

সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথের যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ১৭ মার্চ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইট গিয়ে ৪০৯ জন ওমরাহ যাত্রীকে ফিরিয়ে এনেছিল। তবে সৌদিয়া, কুয়েত এয়ারওয়েজসহ অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যারা ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন তারাই মূলত এখনো দেশে ফিরতে পারেননি।

বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার কাউন্সেলর (হজ) মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ওমরাহ পালনে কতজন বা কারা যাচ্ছেন সে তথ্য কেবল হজ এজেন্সি এবং এয়ারলাইনসগুলোর কাছে থাকে। যারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ওমরাহ করতে এসে আটকা পড়েছিলেন তাদের ১৭ মার্চ বিশেষ ফ্লাইটে বিমান কর্তৃপক্ষ ফেরত নিয়ে গেছে। এখন যারা আটকা আছেন তারা মূলত সৌদিয়াসহ অন্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে এসেছিলেন। তিনি বলেন, পর্যন্ত আমাদের কাছে ৬৩ জন বাংলাদেশীর আটকে পড়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জন এসেছেন সৌদিয়া এয়ারলাইনসের মাধ্যমে। বাকি দুজন এসেছেন কুয়েত এয়ারওয়েজে। যারা সবাই এখন ওই দুই এয়ারলাইনসের তত্ত্বাবধানে আছেন। এর বাইরেও যারা আছেন তাদের ২৮ মার্চের মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করার জন্য বলা হয়েছে।

সৌদি আরবে আটকা পড়া (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) কয়েকজন ওমরাহ যাত্রী গতকাল বণিক বার্তাকে জানান, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশিদিন সেখানে অবস্থান করার ফলে অনেকেরই অর্থ ফুরিয়ে গেছে। এছাড়া রয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়। সব মিলিয়ে ওমরাহ যাত্রীরা এখন অনেকটা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

জানা গেছে, এখনো সৌদি আরবে যারা আটকা আছেন তারা মূলত ১১টি ওমরাহ হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি এয়ারলাইনসে গত ১৬ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশটিতে যান। ওমরাহ পালন শেষে ১৪ থেকে ২৪ মার্চের মধ্যে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি এয়ারলাইনস কুয়েত এয়ারলাইনস যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দেয়ায় আটকা পড়েন তারা। বর্তমানে তারা মক্কা, মদিনা, জেদ্দা রিয়াদে অবস্থান করছেন। আর হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের অনেকের কাছেই হোটেল ভাড়া, খাওয়া যাতায়াত খরচ নেই।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশী ওমরাহ যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে এরই মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইনসকে চিঠি দেয়া হয়েছে। গত ২৪ মার্চ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ২২ জন ওমরাহ যাত্রীর দেশে ফেরার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সৌদিতে থাকার হোটেল বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদিও সংখ্যা আটকে পড়াদের তুলনায় অনেক কম।

প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় ওমরাহ পালন মসজিদে নববিতে জিয়ারত গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে স্থগিত করেছে সৌদি আরব। ওই ঘোষণার পর সেদিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পাঁচ শতাধিক ওমরাহ যাত্রী। এয়ারলাইনসগুলো জানায়, সৌদি আরবের পরবর্তী ঘোষণার আগ পর্যন্ত যাত্রীদের নিতে পারবে না তারা। সে সময় হাব নেতারা জানান, এরই মধ্যে ১০ হাজার ওমরাহ ভিসা করা আছে, কোটি টাকার টিকিট কাটা আছে। তবে পরবর্তী সময়ে সৌদি সরকার ভিসা ফি ফেরত দেয়ার ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি এয়ারলাইনসগুলোও টিকিটের অর্থ ফেরত দেয়ার ঘোষণা দেয়।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন