বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেষ পাতা

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ

ভোগ্যপণ্যের বাজারে সরবরাহ চেইন নিয়ে শঙ্কা

সুজিত সাহা চট্টগ্রাম ব্যুরো

দেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন সীমিত হয়ে পড়ায় বিশেষ করে চেক ক্লিয়ারিং বন্ধ থাকায় খাতুনগঞ্জসহ দেশের বড় পাইকারি বাজারগুলোয় বৃহদাকারে পণ্য বিক্রি বা সরবরাহ এখন বন্ধ।

ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন রোজার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বড় আকারে পণ্য কিনে মজুদ করে রেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো বর্তমানে শুধু চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের কার্যক্রম সীমিত রেখেছে।

প্রসঙ্গত, সারা দেশের পণ্য সরবরাহের মূল ট্রেডিং বা এসও (সাপ্লাই অর্ডার) ব্যবসা। ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) পদ্ধতি হিসেবেও পরিচিত সনাতন ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে গোটা সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। পদ্ধতিতে সারা দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ব্রোকারের মাধ্যমে ডিও কিনে নেন। ডিওর শর্ত অনুযায়ী ইএফটিএন, আরটিজিএস পদ্ধতি ছাড়াও ক্লিয়ারিং চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব পণ্য কেনেন।

জানা গেছে, চেক ক্লিয়ারিংয়ের সুযোগ বন্ধ রাখায় ডিও ব্যবসায়ীরা লেনদেনে আগ্রহ হারিয়েছেন। কারণে গত চারদিনে খাতুনগঞ্জ থেকে সারা দেশে বড় ধরনের পাইকারি পণ্যের সরবরাহ যায়নি। অবস্থায় ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে ট্রেডিং বাণিজ্য উন্মুক্ত না হলে সারা দেশে ভোগ্যপণ্যের সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ট্রেডিং বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এতে ক্ষুদ্র পাইকারি ভোগ্যপণ্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখলেও সরবরাহ না থাকায় পণ্যের ঘাটতি থাকতে পারে। যদিও দেশে উৎপাদিত আমদানীকৃত ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জনগণের ঘরের বাইরে বের হওয়ার সুযোগ সীমিত করে দেয়ার পর পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ব্যবসায়ীরা পাইকারিতে বড় লটে ভোগ্যপণ্য বিক্রি কমিয়ে দেন মঙ্গলবার থেকেই। যদিও বাজার গুদাম থেকে সীমিত পরিসরে কিছু পণ্য বেচাকেনা চলছে। এতে সাময়িকভাবে পণ্য লেনদেনে সংকট দেখা না দিলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহনে সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ব্যাংকের চেক ক্লিয়ারিং বন্ধ থাকায় ট্রেডিং ব্যবসায় সমস্যা হচ্ছে। তবে একই ব্যাংকের অনলাইনে টাকা লেনদেনের সুযোগ থাকায় সীমিত পরিসরে ট্রেড চলছে, যা সারা দেশের পণ্য সরবরাহ চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায়ও নেই। তবে সময়ের মধ্যে ব্যাংকের লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের চাহিদাগুলো মেটাতে না পারলে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ চেইনে বড় ব্যাঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে বগুড়ার মেসার্স আজাদ স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবদুল মতিন সরকার বণিক বার্তাকে জানান, মিলগুলো চালু থাকায় পণ্য সরবরাহে বাধা নেই। কিন্তু ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানোর সমস্যার কারণে ট্রেডিং সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান চাহিদা সত্ত্বেও পণ্য কিনতে পারছে না। সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে ভোগ্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে।

এদিকে ট্রেডিং সীমিত হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবারের মধ্যে খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যায়। ওই সময়ে দুদিনের ব্যবধানে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ে মণপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকা। পাম অয়েল ভোজ্যতেলের পাশাপাশি চিনির বাজারও চাঙ্গা ছিল ওইদিন। তবে আগামী দিনগুলোয় ট্রেডিং বাণিজ্য শুরু না হলে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামও আরো বাড়তির দিকে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিষয়ে চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ক্লিয়ারিং না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা লেনদেন করতে পারছেন না। ফলে ভোগ্যপণ্যসংশ্লিষ্ট বাজার, মিল খোলা রেখে কোনো লাভ হবে না। বড় পাইকারি বাজার থেকে প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা যদি পণ্য সংগ্রহ করতে না পারেন, তবে খোলা রেখেও সংকট এড়ানো যাবে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলেছি। আশা করছি শিগগিরই সংকট কেটে যাবে।

গতকাল খাতুনগঞ্জের একাধিক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের প্রায় সব পাইকারি বাজারের সঙ্গে বড় আকারের পণ্য বিক্রি লেনদেন বন্ধ রয়েছে। খাতুনগঞ্জ চাক্তাইয়ে ছোট পরিসরে কিছু পাইকারি ভোগ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও সেসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত আন্তঃজেলা লেনদেন করে না। কয়েক দিনের মধ্যে ডিও বা ট্রেডিং বাণিজ্য শুরু না হলে দেশের প্রান্তিক বিভিন্ন জেলায় খাদ্যের মজুদ সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী প্রবীর সরকার জানান, ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না হলে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার থেকেই ট্রেডিং কার্যত বন্ধ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থে লেনদেন করবেন না। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের সহজলভ্যতা তৈরি না হলে ডিও ব্যবসায়ীরাও বাকিতে পণ্য বিক্রি করবেন না। কয়েকদিন পর ব্যাংকিং লেনদেনের ধরন বুঝে পাইকারি ট্রেডিং বাণিজ্য চলবে কিনা, সেটি বোঝা যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন