বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

খবর

বহাল ক্রয়াদেশ ও ভাইরাস প্রতিরোধে সচল থাকবে শিল্প-কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ২৬ মার্চ কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নিতে পোশাক শিল্প মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানায় সংশ্লিষ্ট সংগঠন বিজিএমইএ। আরেক সংগঠন বিকেএমইএও গতকাল নিট পোশাক কারখানা মালিকদের প্রতি বন্ধের নির্দেশনা জারি করেন। কিন্তু তার পরও সচল থাকছে পোশাকসহ কিছু শিল্প-কারখানা।

জানা গেছে, পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও অনেক শিল্প মালিকই তার পোশাক কারখানা সচল রাখতে আগ্রহী, কারণ তাদের ক্রয়াদেশ বহাল আছে। আবার কিছু কারখানা আছে, যারা করোনা সংক্রমণের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিজস্ব সুরক্ষা পোশাকের (পিপিই) আন্তর্জাতিক স্থানীয় ক্রয়াদেশ পাচ্ছে। প্রেক্ষাপটেই মূলত কাজ আছে এমন কারখানাগুলো করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে শ্রমিকের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাসাপেক্ষে কারখানা সচল রাখছে।

সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার পার্শ্ববর্তী শিল্প এলাকার পোশাক কারখানা এলিগেন্স গ্রুপ ৩১ মার্চ পর্যন্ত কারখানা সচল রাখবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এলিগেন্স গ্রুপের মতো আরো বেশকিছু কারখানা আছে, যারা ক্রয়াদেশ বহাল থাকায় কারখানা সচল রাখতে আগ্রহী। এছাড়া কারখানা চালু রাখার বিষয়ে আগ্রহী যেসব কারখানা পিপিইর মতো পোশাকের ক্রয়াদেশ পাচ্ছে, ধরনের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে কারখানা সচল রাখার বিষয়ে সরকারেরও কোনো আপত্তি নেই।

শ্রম কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) একটি আদেশ জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কারখানা মালিকরা শিল্প-কারখানা চালু রাখার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। যেসব রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ বহাল রয়েছে এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জরুরি অপরিহার্য পণ্য যেমন পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড ওয়াশ/স্যানিটাইজার, ওষুধপত্র উৎপাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সেসব কারখানা বন্ধ করার বিষয়ে সরকার কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আইইডিসিআর কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে প্রতিপালনসাপেক্ষে মালিকরা প্রয়োজনবোধে বর্ণিত কলকারখানা সচল রাখতে পারবেন, এমন তথ্য উল্লেখ করে ডিআইএফইর নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, কারখানায় প্রবেশের আগে থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমিকের দেহের তাপমাত্রা বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করতে হবে। কোনো শ্রমিকের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ন্যূনতম উপসর্গ দেখা দিলে তাকে সঙ্গনিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা মালিককে গ্রহণ করতে হবে।

জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শিল্প-কলকারখানা বন্ধের কোনো নির্দেশনা ছিল না, এমন তথ্য উল্লেখ করে নির্দেশনায় ডিআইএফই বলেছে, যেসব রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ বহাল রয়েছে এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জরুরি অপরিহার্য পণ্য যেমন পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড ওয়াশ/স্যানিটাইজার, ওষুধপত্র উৎপাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সেসব কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণসাপেক্ষে প্রয়োজনবোধে কলকারখানা চালু রাখতে পারবেন।

এদিকে গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কারখানা বন্ধের বিষয়ে সাংগঠনিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিজিএমইএ। সেখানে তারা বলেছে, যেসব রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ বহাল রয়েছে এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জরুরি অপরিহার্য পণ্য, যেমন পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ, ওষুধপত্র উৎপাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সেসব কলকারখানার মালিকরা শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণসাপেক্ষে প্রয়োজনবোধে কলকারখানা চালু রাখতে পারবেন। বিষয়ে বিজিএমইএ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন