বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

পরিবেশের পরিবর্তন ও সংক্রামক রোগের বৈশ্বিক বিস্তার

ড. আদিল মুহাম্মদ খান

উনিশ শতকের বিশ্বে শিল্প বিপ্লব, শিল্পায়ন আর অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধির মোহ পৃথিবীকে যখন মোহাবিষ্ট করে রেখেছিল, ঠিক সে সময় নগর এলাকায় সংক্রামক ব্যাধির করাল গ্রাস আমাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল, মানুষকে আত্মজিজ্ঞাসায় বাধ্য করেছিল প্রবলভাবে। উনিশ শতকের কলেরা প্রকোপগুলো, যাতে এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা মহাদেশের অধিকাংশ দেশ আক্রান্ত হয়েছিল, এগুলোর প্রভাব এতটাই ব্যাপক ছিল যে সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ কমাতে জনস্বার্থে নগর এলাকায় পয়োব্যবস্থা, আবাসন, নদী ও জলাশয়, পরিবেশ, প্রতিবেশ রক্ষার্থে শহরের সামগ্রিক পরিকল্পনা করার বিষয়টি মানুষের উপলব্ধিতে আসে ব্যাপকভাবে। আর এরই ধারবাহিকতায় পৃথিবীতে নগর পরিকল্পনার আধুনিক ধারার উদ্ভব হয়েছিল, যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মানুষের বসবাসের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত করা, উন্নয়নের মূল কেন্দ্র ছিল জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।

২. নগর সভ্যতা বিকাশের শুরুর দিকে নগর পরিকল্পনা আর জনস্বাস্থ্য ছিল অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো; দুজন একে অন্যের পরিপূরক। তারপর অনেক বসন্ত পার হয়েছে। পদ্মা-গঙ্গা-টেমস-ভলগা-রাইনে অনেক জল বয়ে গেছে। এরই মধ্যে জনস্বাস্থ্য আর নগর পরিকল্পনার বন্ধুত্বের সুতো গেছে ছিঁড়ে, দুজনের রাস্তা হয়ে  গেছে আলাদা। নগর পরিকল্পনা অর্থনৈতিক উন্নয়নের রথযাত্রায় আর প্রবৃদ্ধির রোশনাইয়ে চমকে রাস্তায় হেঁটেছে, সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ আর ইমারতের আকাশছোঁয়ার প্রতিযোগিতায় ক্লান্তিহীন পথ চলেছে। একই সঙ্গে বিনাশ করেছে প্রকৃতি, পরিবেশ আর প্রতিবেশ। 

৩. উন্নয়নের ডঙ্কা বাজিয়ে প্রবৃদ্ধির নিশান উড়িয়ে মানুষ গ্রাম উজাড় করেছে, বন করেছে ধ্বংস, ইমারত দিয়ে ঢেকেছে আকাশ। এই আমরা সূর্যের আলো ভূলোক স্পর্শ করতে দিইনি, বাতাসের প্রবাহকে রুদ্ধ করেছি। আর অহংকারে মত্ত হয়ে বলেছি—আমার নগর এখন আকাশ ছুঁয়েছে, আমার প্রবৃদ্ধি এখন দুই অংকের পথে, নগর এখন উন্নয়নের চালিকাশক্তি। 

আর জনস্বাস্থ্য হয়েছে শুধু স্বাস্থ্যগত বিদ্যার আর জীববিজ্ঞানের বিষয়বস্তু। শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় ক্রমান্বয়ে জনস্বাস্থ্য গুরুত্ব হারিয়েছে। উন্নয়ন দর্শনে জনস্বাস্থ্য যখন নির্বাসনে, তখন ক্ষীণ স্বরে কেউ কেউ বলেছেন, পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, এবার তো ভোগ-বিলাসিতা কমাও, অতি উৎপাদন কমাও; একটু রাশ টেনে ধরো জীবনযাত্রার। উন্নত দেশগুলো ক্রূর হাসি হেসেছে, জলবায়ু যদি পরিবর্তন হয়, ডুববে তো অনুন্নত দেশগুলো, ক্ষতি হবে দারিদ্র্যপীড়িত দক্ষিণের দেশগুলোর। না-হয় দিয়েই দেব গুটিকয়েক মুদ্রা (জলবায়ু ফান্ড), ওটা নিয়েই শান্ত থাকো; তবুও আধুনিক জীবনযাত্রার ভোগে আর বিলাসিতায় টান পড়া যাবে না। কেউ কেউ তো বলেছেই, জলবায়ু? সেটা আবার কী? সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সে তো রূপকথার পরীদের গল্প, না-হয় সে তো কয়েক আলোকবর্ষ দূরের গল্পগাথা।

৪. ধরিত্রী মুচকি হেসেছে। এদিকে বন পুড়েছে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা সর্বত্র; পুড়েছে পৃথিবীর ফুসফুস আমাজন। বানরের আবাস ধ্বংস হয়েছে, বাদুড়ের বিচরণ ক্ষেত্র উজাড় হয়েছে, শিম্পাঞ্জি-গরিলা মরল না বাঁচল, সৃষ্টির সেরা মানুষের তাতে কী? উন্নয়ন হচ্ছে, সোনা-মুক্তা-হীরা-জহরত সব আহরণ করছি; পেট্রোলিয়াম, ইউরেনিয়াম, গ্যাস, খনিজ সব উত্তোলন করেছি; ইমারত সাজিয়েছি, শহর সাজিয়েছি; ভোগ্যপণ্যে সেজেছে সৃষ্টির সেরা মানুষ। বাস্তুতন্ত্রের সব অংশীজনের সমগুরুত্বের বিষয়টি ভুলে গিয়ে আমরা যথেচ্ছ উন্নয়নের জন্য কর্ষণ করেছি সর্বত্র—বানিয়েছি সড়ক, উজাড় করেছি বৃক্ষ, খনিজ আহরণের নামে ধরিত্রীর বুকে খুঁড়েছি গভীর গর্ত। 

৫. অন্যদিকে ধ্বংস হয়েছে পরিবেশ, প্রতিবেশ; বাস্তুতন্ত্র হয়েছে এলোমেলো, জীবজন্তুরা বনাঞ্চলের গহিনে গিয়েও রক্ষা পায়নি মানুষের ভয়ংকর থাবা থেকে। অণুজীবরাও ক্রমে হারিয়েছে তাদের আবাসস্থল। ডেভিড কুমেন, ‘স্পিলওভার: অ্যানিমেল ইনফেকশনস অ্যান্ড নেক্সট প্যানডেমিক’ বইয়ের লেখক, সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে লিখেছেন, ‘আমরা বৃক্ষ উজাড় করি, পশুপাখি নির্বিচারে হত্যা করি, খাঁচায় আবদ্ধ করি এবং বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাই। আমরা বাস্তুতন্ত্রকে এলোমেলো করে দিই এবং আমরা ভাইরাসসহ বিভিন্ন অণুজীবকে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল থেকে অবমুক্ত করে দিই এবং যখন এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটে, অণুজীবদের নতুন বাহক প্রয়োজন হয়, প্রায়ই মানুষই হয় ভাইরাস ও অণুজীবদের নববাহক।’

সাম্প্রতিক গবেষণা আরো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ের মহামারী আকারে বিস্তার পাওয়া বিভিন্ন সংক্রামক রোগ—ইবোলা, সার্স, বার্ড ফ্লু এবং বর্তমান কভিড-১৯ (নভেল করোনাভাইরাস দ্বারা যার সংক্রমণ) প্রধানত প্রাণীবাহিত রোগ। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, মানুষকে আক্রান্ত করছে যেসব নতুন রোগবালাই, তার চারভাগের তিন ভাগের উত্পত্তি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তু থেকে। 

করোনাভাইরাস বৈশ্বিকভাবে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছিল। কেউ কেউ বলেছেন, জীবাণু ল্যাবরেটরিতে তার উত্পত্তি। কেউবা বলেছেন, এটা এক ধরনের জীবাণু অস্ত্র। চীনের এক সরকারি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আঙুল তুলেছিলেন এ ভাইরাস সংক্রমণের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে, তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ব্যতিরেকে। সম্প্রতি নেচার মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে গবেষকরা দাবি করেন, করোনাভাইরাস তথা কভিড-১৯ প্রাকৃতিকভাবে অভিযোজিত হয়ে জন্ম নেয়া ভাইরাস; যা প্রাণীদেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে, ল্যাবরেটরি থেকে উপজাত কোনো অণুজীব নয়। 

৬. ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিভাগের অধ্যাপক কেট জোনস বলেছেন, উদীয়মান প্রাণীবাহিত রোগবালাই বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। কেট জোনস ও তার গবেষক দল ১৯৬০ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে আবির্ভূত ৩৩৫ ধরনের রোগবালাই গবেষণা করে দেখেছেন, ৬০ শতাংশ রোগ এসেছে বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তু থেকে। 

গবেষক দল বলছে, পরিবেশগত বিপর্যয় ও মানুষের আচরণগত পরিবর্তনের সঙ্গে এ ধরনের প্রাণীবাহিত রোগের বিস্তার ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। প্রত্যন্ত ও গহিন এলাকায় সড়ক নির্মাণ, বৃক্ষ উজাড়, খনিজ খনন, দ্রুত নগরায়ণ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে মানুষের সঙ্গে প্রাণী প্রজাতির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বেড়েছে এবং আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুপ্ত খেসারত হচ্ছে এই সংক্রামক রোগ-ব্যাধি। আমরা উন্নয়নের নামে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির এমন সব জায়গায় বিচরণ করছি, যেখানে ভাইরাসসহ বিবিধ অণুজীবের অবাধ বিচরণ রয়েছে। ফলে আমরা আক্রান্ত হচ্ছি জটিল রোগবালাইয়ে। আমরা নতুন নতুন সংক্রমণ দেখে প্রগাঢ়ভাবে বিস্মিত হচ্ছি। অথচ এসব আমাদেরই কৃতকর্মের সুন্দর ফসল!

৭. গবেষকরা আরো বলছেন, প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ও ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের প্রভাবে জীব ও জীবাণুর স্বাভাবিক বাসস্থান পরিবর্তন হওয়ায় মানুষের জন্য জীবাণুর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়েছে। লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু সংক্রমণ বিভাগের অধ্যাপক এরিক ফেভার বলেছেন, প্রকৃতিতে অসংখ্য অণুজীব রয়েছে, যেগুলো সামনের দিনগুলোয় মানুষের প্রতি বিশাল হুমকির কারণ হতে পারে। ফলে জীবজন্তু থেকে অণুজীবের মাধ্যমে রোগের সংক্রমণ মানবদেহে ছড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। 

বর্তমান বাস্তবতায় গবেষকরা বলছেন, নগর এলাকায় ব্যাপক জনঘনত্ব তৈরি হয়েছে, একই সঙ্গে নগর এলাকায় বাদুড়, ইঁদুর, পাখি, পোষা প্রাণী এবং অন্যান্য জীব-জীবাণুর উপস্থিতি ও সহাবস্থানের ফলে অণুজীবের আন্তঃপ্রজাতি স্থানান্তর অত্যন্ত স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বায়নের প্রভাবে ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতির ফলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, এক দেশ থেকে অন্য দেশে, মহাদেশ থেকে মহাদেশে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়াটাই খুব স্বাভাবিক, একে রোধ করাটাই অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

৮. অণুজীবেরা প্রজাতিগত সীমারেখা অনুসরণ করে না, ফলে তাদের বিস্তার রোধ করা প্রায় অসম্ভব। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বিভিন্ন জীবজন্তু ও মনুষ্য আবাসস্থলের  পার্থক্যকারী এলাকাগুলোকে ধ্বংস করে আমরাই মানব প্রজাতিকে উন্মুক্ত করে ফেলছি জীবাণুর বাহক হিসেবে। একই সঙ্গে অণুজীবের বাহক বিভিন্ন প্রাণী যেমন বানর, ইঁদুর, সরীসৃপ, শিম্পাঞ্জি প্রভৃতিকে মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছি। ফলে এটা এখন স্পষ্ট হয়ে দাঁড়াচ্ছে, আমরা যত পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করছি, আমরা মনুষ্য জাতি আমাদের নিজেদেরই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছি—প্রাকৃতিক প্রতিশোধ বোধ হয় এটাই। 

একই সঙ্গে বিভিন্ন শহর এলাকার কাঁচাবাজার যেখানে পশু-প্রাণীর মাংস বিক্রি করা হয়, সেখান থেকে ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি চীন সরকার ধারণা করছে, সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস উহানের এরূপ একটি বাজার থেকে ছড়াতে পারে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী যেমন সরীসৃপ, নেকড়ে, কুমির, ইঁদুর, কচ্ছপ, কাঠবিড়ালি প্রভৃতির মাংস বিক্রি করা হয়। অনুরূপভাবে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় এরূপ বন্যপ্রাণীর মাংস কেনাবেচা হয় এমন অনেক বাজার আছে। অণুজীব গবেষকদের শঙ্কা, এ ধরনের বাজারগুলো থেকে সামনের দিনগুলোয় ভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে ব্যাপকভাবে। অতীতেও যার নজির আছে। গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের বাজারগুলো একটি নিউক্লিয়ার বোমার মতো, যেটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় রয়েছে। 

৯. মানবজাতি বড়ই বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি, আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিই না। লোভ আর লিপ্সা আমাদের কুরে কুরে খায়। ২০০২-০৩-এ যখন সার্স আক্রমণ করেছিল, তখন বন্যপ্রাণী কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল চীন, ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশকিছু দেশ। কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা আমরা ভুলে গিয়েছিলাম অচিরেই। এবার প্রাণঘাতী করোনা মোকাবেলায় এরই মধ্যে চীন আবারো বন্যপ্রাণী কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আমরা কি আবারো ভুলে যাব আমাদের শিক্ষা? আমাদের নির্মম সত্যটা জানা আছে যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। 

১০. বাস্তুতন্ত্র ও অণুজীব নিয়ে কাজ করা গবেষকরা বলছেন, সংক্রামক রোগের সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মহামারী আকারে সংক্রমণ ও বিস্তার হিমশৈলের চূড়া মাত্র, আরো ভয়ংকর বিপদ মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে। সামগ্রিকভাবে ধরিত্রীকে বৈশ্বিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে বনজ, খনিজ সম্পদের চাহিদা কমানো, নির্বিচারে বৃক্ষ উজাড় বন্ধ করা এবং সার্বিক বিচারে বাস্তুতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করা বন্ধ করতে হবে, বন্যপ্রাণীকে তাদের মতো করে বাঁচতে দিতে হবে। আমাদের অন্তর থেকে উপলব্ধি করতে হবে, গাছপালা, জীবজন্তু সবাই  আমাদের ধরিত্রীর বাস্তুতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান। আর এক্ষেত্রে উন্নত ধনী দেশগুলোকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। বৈশ্বিক জীবনিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র নিশ্চিত করতে না পারলে মানবজাতি তথা আমাদের ধরিত্রীর অস্তিত্বই হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়বে। 

১১. সংক্রামক ব্যাধির বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় কমিউনিটিভিত্তিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে আমাদের এবং খুব দ্রুত তথ্য, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে ধরিত্রীকে বাঁচাতে সম্মিলিতভাবে সবার কাজ করতে হবে। বৃহৎ আঙ্গিকে আমাদের নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি আর কৌশলের ব্যাপক পরিবর্তন করতে হবে। বসুন্ধরার টেকসই, লাগসই আর স্থায়িত্বশীল উন্নয়নই পারবে আমাদের রক্ষা করতে। প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ-প্রতিবেশ-বাস্তুতন্ত্র বাঁচলেই বাঁচবে মানুষ। 

বিজ্ঞানের কল্পকাহিনীর পরাবাস্তবতা এখন নির্মম বাস্তব। ঘণ্টাধ্বনি বাজছে প্রবলভাবে, আগেও বেজেছে বহুবার। আমাদের ঘুম ভাঙেনি, এবার কি আমরা সম্মিলিতভাবে ঘণ্টাধ্বনি শুনতে পারব? ধরিত্রী মৌন হয়ে সৃষ্টির সেরা মানুষ জাতির দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে। ধরিত্রীকে বাঁচাতে পরিকল্পনা ও উন্নয়নের নতুন দর্শনে পৃথিবীকে কি আমরা নবরূপে সাজাতে পারব? 

ড. আদিল মুহাম্মদ খান: নগর পরিকল্পনাবিদ

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)

[email protected]


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন