বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

করোনা মোকাবেলায় আমাদের করণীয় কী হতে পারে?

ড. মো. সাইদুর রহমান

আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বের ১৮৮টি দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৪২। আর মৃত্যুবরণ করেছে ২১ হাজার ৩০০ জন। বলা হচ্ছে, এ সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে (www.worldmeters.info)। বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে আক্রান্ত ৪৮ জন, আর মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। সরকার করোনার প্রাদুর্ভাবকে সর্বোচ্চ আমলে নিয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা যথেষ্ট নয় বলে অনেকের দাবি। আমার মনে হয়, করোনার ভয়াবহতা আমরা এখনো সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারছি না। কেউ কেউ পারলেও সবাই অনুধাবন না করতে পারলে মৃত্যুর সংখ্যা কল্পনার অতীত হতে পারে। নিউইয়র্কের মেয়র বলেছেন, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বুলেট ট্রেনের গতির চেয়েও বেশি গতিতে বাড়ছে। ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ধীরগতিতে বাড়লেও পরবর্তী সময়ে বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। উত্পত্তিস্থল চীনের উহানে যেভাবে চীন সরকার করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, আমাদের একইভাবে এগোতে হবে, যা মোটেও সহজ কাজ নয়। নির্বাচনসহ সবকিছু চালু রেখে সরকার যেভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছিল, তাতে পরিস্থিতি মোটেও আয়ত্তে রাখা সম্ভব হতো না। দেরিতে হলেও সরকার অন্যান্য নির্বাচন স্থগিত, সরকারি অফিসে সাধারণ ছুটি, শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেতন-ভাতায় সহায়তার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা, গ্রামীণ শ্রমজীবীদের ছয় মাসের খাদ্য সাহায্য ও ঘরবাড়ির সংস্থান করে দেয়ার ঘোষণাসহ সময়োপযোগী সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, এজন্য অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

সব সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করলেও একজন আক্রান্ত ব্যক্তি কমপক্ষে তিন থেকে চারজনকে সংক্রমিত হতে সহযোগিতা করে। আর যদি সচেতনতা কম থাকে তাহলে কতজন আক্রান্ত হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। চিকিত্সক ও বিজ্ঞানীরা বলছেন, সঠিকভাবে ব্যবস্থা নিলে আগামী তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে করোনার প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সে ব্যবস্থা হচ্ছে এখনই লকডাউনে যাওয়া। লকডাউন মানে সবকিছু লক রাখা। আর তা হচ্ছে শুধু জরুরি প্রয়োজনে পরিবার থেকে কেবল একজন পদ্ধতি মেনে স্বল্প সময়ের জন্য বাইরে যেতে পারবে। সত্যি কথা বলতে কি, পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে মানুষ আইন মানার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আর আমাদের দেশে আইন ভাঙার প্রতি আগ্রহী। আমরা সবাই একটি ইংরেজি ব্যবহার করি তা হলো—Rome was not built in a day। ইতালির রোম ঘুরে আসার পর আমার মনে হয়েছে রূপক অর্থে ব্যবহার হলেও আসলে ইতালির রাজধানী রোমের ইতিহাস, সভ্যতা, কৃষ্টি-কালচার ও উন্নয়ন উদাহরণ দেয়ার মতো। সেই ইতালি আজ করোনাকে সামাল দিতে পারছে না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এক ধরনের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেছেন। একই অবস্থা স্পেনেও লক্ষ করা যাচ্ছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, জার্মানির নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। আমি মনে করি, যথেষ্ট কঠিন হলেও আমাদের দেশে কমপক্ষে তিন সপ্তাহ লকডাউন রাখা আবশ্যক; যা সরকার কোনো কোনো জায়গায় বাস্তবায়ন করার ব্যবস্থা করেছে। তবে তা ভারতের ন্যায় গোটা দেশেই করা প্রয়োজন। আর এটি পুরোপরি বাস্তবায়ন করতে হলে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতা নেয়া দরকার। কারণ কেবল সেনাবাহিনীই মানুষকে সত্যিকার অর্থে লকডাউন করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এটিও সরকার এরই মধ্যে আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য। সরকারি নির্দেশনা থাকবে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেবল প্রচারণা চালাতে সহযোগিতা করবে। আমি মনে করি, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সমাজসেবী সংগঠন কোনো প্রকার জনসমাগম না করে মাইকের মাধ্যমে করোনার ভয়াবহতা ও করণীয় সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে পারে। করণীয় স্পষ্ট করে বারবার বলতে হবে। যেমন বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাত দিয়ে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ না করা, নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, আক্রান্ত হয়ে থাকলে তা গোপন না করে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করা, কেউ বিদেশফেরত হলে তাকে সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকায় বাধ্য করা ইত্যাদি। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গেলে সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। আশার কথা হচ্ছে, এ দেশের মানুষের রোগ-ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে দীর্ঘকালের। ফলে অনেকের ধারণা আমাদের ইমিউনিটি ভালো এবং আমিও এ ধারণায় বিশ্বাস করি এবং আশা রাখতে চাই। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা আমাদের সহায় হবেন। তবে আশা করি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের পার্থিব ভরসাস্থল, জননেত্রী, দেশরত্ন, মাদার অব হিউম্যানিটি শেখ হাসিনা সার্বিক পরিস্থিতি অনুধাবন করে আশু আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

করোনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ কাজ নয়। বাজার নিয়ন্ত্রণ একটি আপেক্ষিক বিষয়। বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারিত হয়। করোনার কারণে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে আমরা সবাই খুবই উদ্বিগ্ন। তবে অর্থনীতির জ্ঞান বলে, এটা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। ভবিষ্যতে দ্রব্যসামগ্রী বিশেষ করে খাদ্য ও নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রী কম পাওয়া যাবে—এমন আশঙ্কা থাকলে ভোক্তা উদ্বিগ্ন হবে এবং বেশি পরিমাণে ক্রয় করতে চাইবে—এটাই সত্য এবং স্বাভাবিক চাওয়া। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে, এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য। সরবরাহও একই প্রক্রিয়ায় ওঠানামা করে, তবে কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়। উভয় প্রক্রিয়াকে সরকার সবসময় নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, কিন্তু খুব বেশি কিছু করা যায় না। তবে অযাচিতভাবে কেউ কেউ বা কোনো ধরনের সিন্ডিকেট জোগানকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে সরকারের হস্তক্ষেপ আশা করা হয়। আমরা দেখছি যে অনেকেই বেশি বেশি পরিমাণে ক্রয় করছে, এমনকি বেশি দাম দিয়ে। এতে যেটা হবে তা হলো, জিনিসপত্রের ব্যবহার বেশি হবে অথবা বেশিদিন সংরক্ষিত থাকলে নষ্ট হয়ে যাবে অথবা মজুতকৃত জিনিস খেয়ে শেষ না করা পর্যন্ত নতুন দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ফলে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতি সেইসব ভোক্তার হবে, যারা বেশি বেশি ক্রয় করে মজুত করলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, কারা বেশি ক্রয় করেন। অবশ্যই তারা, যাদের ক্রয়ক্ষমতা বেশি। অর্থাৎ যাদের আয় বেশি। সুতরাং দীর্ঘমেয়াদে তারা যে লাভবান হবেন, এটা খুব বেশি তাত্পর্য বহন করে না। লাভবান হবেন ব্যবসায়ীরা এবং এদের বলা হয় ফটকা কারবারি। স্বল্প আয়ের মানুষ ক্ষতিগস্ত হয় বেশি, কারণ তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কম এবং বাজার থেকে নিয়মিতই তাদের ক্রয় করতে হয়। সরকার, সরকারি সংস্থাগুলো নিয়মিত তদারকি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের গণ্যমান্য মানুষের আহ্বান ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কিছুটা লাগাম টেনে ধরতে সহায়ক হতে পারে এবং সে চেষ্টা অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প নেই। আসুন করোনার ক্ষতি কিছুটা কমাতে সে আহ্বান অব্যাহত রাখি। আশা রাখি দেশের উচ্চবিত্তরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেশি বেশি ক্রয় করে মজুদ করা থেকে বিরত থাকবেন এবং ব্যবসায়ী মহল অতিলাভের আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি না করে সাধারণ মানুষের সেবায় তাদের নিয়োজিত রাখবে।

করোনায় স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির অনুমান এখনই করা খুবই দুসাধ্য কাজ। করোনার ঝুঁকি যতদিন থাকবে জানমালের ক্ষতি হতেই থাকবে, কিছুটা দমিয়ে না রাখতে পারলে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাবে, মানুষের মনোবল কমে যাবে, শিল্প খাতে উৎপাদন সাংঘাতিকভাবে কমে যাবে, পরিবহনসহ সব সেবা খাত দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা কমে আসবে, ব্যবসা-বাণিজ্য চরম ক্ষতির মুখে পড়বে, রফতানি খাত থেকে আয় কমে আসবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে, দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ কাজ হারাবে এবং তাদের আয় বেশি হারে কমে যাবে, আয়বৈষম্য বাড়বে, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে, সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা যে বাড়বে, এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

করোনা অভিশাপ হলেও তার কিছু উপকারী দিক রয়েছে। আর সেগুলো হলো সংক্রমণ রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কিত স্বাস্থ্যবিধি আয়ত্ত করার অভ্যাস হবে এবং তা কিছুটা মেনে চলার অভ্যাস গড়ে উঠবে। সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস গড়ে উঠবে, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরমতসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাবে, ঝুঁকি মোকাবেলার অভ্যাস গড়ে উঠবে, বাস্তব জীবনে কখন থামতে হবে কিছুটা হলেও তা শেখা হবে, মহামারী রোগ ছড়ানোর মাধ্যমগুলো জানা হবে, মহামারী ঠেকাতে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সাধিত হবে, পারিবারিক বন্ধন ও সমঝোতা বৃদ্ধি পাবে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়ন হবে, প্রয়োজনে সীমানা সাময়িক বন্ধ রাখার কৌশল আয়ত্ত হবে, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িতদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিত করার তাগিদ তৈরি হবে, মাঝে মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আয়ত্তে আসবে, প্রতিষেধক টিকা তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়বে, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন অনুভূত হবে, ডাক্তার ও নার্সদের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি আরো অনুগত হতে সহায়ক হবে, অফিস ও ব্যবসা পরিচালনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার মাত্রা বেড়ে যাবে, দুর্দিনে বেঁচে থাকার জন্য আর্থিক সংগতি রাখতে মানুষ আরো তত্পর হবে, কম শিক্ষিত, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি হবে, দুর্যোগকালীন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখার সক্ষমতা তৈরি হবে, স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহের ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা তৈরি হবে, ধর্মীয় আনুগত্য বাড়বে, শিল্পে কাজের সুযোগ সীমিত হওয়ায় কৃষিতে শ্রম নিয়োগ বেশি হবে। ফলে কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে প্রভৃতি।

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কিছু অবশ্যকরণীয় কাজ করতে হবে। আর সেগুলো হলো করোনার তাণ্ডব কমলে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য অতিরিক্ত কাজ করা, বসতবাড়ি এবং ছাদ কৃষির প্রতি যত্নশীল হলে পারিবারিক চাহিদা কিছুটা মেটানো সম্ভব হবে এবং তা সাশ্রয়ীও হবে, মন্দাবস্থা কাটিয়ে ওঠার কৌশল গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি করা, স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা উন্নয়নসহ স্বাস্থ্যবীমা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ, বাজার তদারকির উন্নয়ন, মহামারী ও ঝুঁকি মোকাবেলার শিক্ষা/কৌশল আয়ত্ত করা, সামাজিক দায়বদ্ধতা শিক্ষার উন্নয়ন করা, যেকোনো ধরনের আপত্কালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করার রীতি উন্নয়ন করা, ঝুঁকি মোকাবেলায় রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা আরো বাড়ানো, সমাজের অপেক্ষাকৃত বিত্তবান শ্রেণী অপেক্ষাকৃত কম আয়ের মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসা, ধনীদের বিদেশ ভ্রমণসহ বিলাসদ্রব্য ও সেবা গ্রহণে আসক্তি কমানো, সবারই মিতব্যয়ী হওয়া প্রয়োজন, যাতে মোট চাহিদা কমে আসে, শিক্ষিত মানুষদের বেশি বেশি আত্মত্যাগ স্বীকার করতে হবে ইত্যাদি।

পরিশেষে বলা যায়, যে দেশের সরকারের পাশাপাশি সমাজের অপেক্ষাকৃত ধনী বা বিত্তবান শ্রেণী সামগ্রিকভাবে যথাসম্ভব দ্রুত এবং বেশি পরিমাণে সাহায্যের হাত বাড়াবে, সে সমাজ তত তাড়াতাড়ি এ ধরনের মহামারীতে সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর মানুষদের বেশি বেশি সাহায্য করতে পারবে এবং দেশকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে। আসুন আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিই এবং মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসি। গড়ে তুলি একটি কল্যাণকামী উন্নত বাংলাদেশ।

ড. মো. সাইদুর রহমান: অধ্যাপক, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

[email protected]

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন