বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

সংকটে ব্যবসা ও অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদনে রেকর্ড

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় দেশ হিসেবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংক্রমণ প্রতিরোধে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশটির প্রধান প্রধান শহরের দোকান রেস্তোরাঁ। জনমানবশূন্য হয়ে পড়েছে কিছুদিন আগের ব্যস্ততম সড়কগুলো। অবস্থার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদনের হিড়িক পড়েছে। ২১ মার্চ পর্যন্ত আবেদন করেছে অন্তত ৩৩ লাখ মার্কিন নাগরিক, যা -যাবত্কালের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে দেশটির লেবার ডিপার্টমেন্ট। এর আগে বেকার ভাতার জন্য সর্বোচ্চ লাখ ৯৫ হাজার আবেদন পড়েছিল ১৯৮২ সালে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন লেবার ডিপার্টমেন্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে চলমান স্বাস্থ্য সংকট দেশটির অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ফলে সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্বের হার আরো বাড়বে। বিষয়ে প্যানথিয়ন ম্যাক্রোইকোনমিকসের চিফ ইকোনমিস্ট শেফার্ডসন বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে মার্কিন অথনীতি নিয়ে আমি প্রতিদিন লিখছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশটির বেকারত্বের এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি। উল্লেখ্য, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার লোকের বেকারত্বের সঠিক পূর্বাভাস করেন শেফার্ডসন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রদেশে কভিড-১৯-এর কারণে বেকার ভাতার আবেদন বেড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে খাদ্য পরিষেবা, আবাসন, অবকাশ বিনোদন, স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ খাতে ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক মহামারীর কারণে আরোপিত লকডাউন কিংবা অবরোধ মার্কিন অর্থনীতিতে ১৪ শতাংশ সংকোচন সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে দেশটির বেকারত্বের হার বছর শেষে পৌঁছতে পারে ১৫ শতাংশে, যা ২০০৯ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটকালীন ১০ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো জানান, বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা বেশ শোচনীয়। তার মতে, দেশটির অর্থনীতি ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংকোচনের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রেকর্ড ভয়াবহ বেকারত্বের।

হোয়াইট হাউজের আর্থিক উপদেষ্টা ল্যারি কুডলো জানান, বেকারত্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস-সংক্রান্ত উপাত্তে তিনি খুব একটা বিস্মিত নন। কারণ আগে থেকেই একটি কঠিন প্রান্তিকের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সবাই জানে যে অর্থনীতিতে আমরা মারাত্মক আঘাতের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি। আর অবস্থা স্বাভাবিক হতে হয়তো বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।

এদিকে অর্থনীতি রক্ষায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে মার্কিন সরকার। এর মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসার আগ পর্যন্ত বেকারদের সহায়তার কথাও বলা হয়েছে। প্যাকেজে আমেরিকার নাগরিকদের জন্য হাজার ২০০ ডলার করে নগদ অর্থ প্রদানের কথাও বলা হয়েছে। এয়ারলাইনসের মতো বড় খাতের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেও।

অন্যদিকে সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভও (ফেড) এরই মধ্যে ব্যাংকটি তাদের সুদহার কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে এনেছে। দেশটির অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আরো বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ফেড। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েল বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাত্কারে জানান, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিকে রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্ভাব্য সবকিছু করবে। অব্যাহত থাকবে চলমান ঋণসুবিধা। ঋণ প্রদানের বিষয়ে কোনো কার্পণ্য হবে না বলে জানান পাওয়েল।

তবে পূর্বাভাসকারীরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে মন্দার হাত থেকে বাঁচাতে সমর্থ হবে না। শেফার্ডসন বলেন, ফেডের পদক্ষেপ এবং আর্থিক উদ্যোগ সংকটের আপাত উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তার মতে, দুই ট্রিলিয়ন ডলার অনেক অর্থ হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। শিগগিরই আরো অর্থের প্রয়োজন হবে। এএফপি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন