বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

ইউরোপীয় এয়ারলাইনসে ৭,৬০০ কোটি ডলার লোকসানের আশঙ্কা

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বব্যাপী সব ধরনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। মরণঘাতী ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীমিত করে আনা হয়েছে বিশ্বব্যাপী মানুষের চলাচল। ঘরবন্দি রয়েছে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ। অধিকাংশ দেশই বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে আকাশ, স্থল নৌপথে চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলও প্রায় শূন্যের কোটায়। অবস্থায় বৈশ্বিক বিমান খাত বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় এয়ারলাইনস কভিড-১৯-এর ধাক্কায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে রয়েছে বলে মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) সংস্থাটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ইউরোপীয় এয়ারলাইনসে হাজার ৬০০ কোটি ডলারের আর্থিক লোকসান হতে পারে। খবর গার্ডিয়ান।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে কভিড-১৯ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এটি এখন ইউরোপে মহামারী আকার ধারণ করেছে। এখন ভাইরাসটিতে পর্যন্ত আক্রান্ত  মৃতের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে মহাদেশটি। অবস্থায় ভাইরাসটির অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার শুরু থেকেই পুরো ইউরোপের সঙ্গে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে থাকে অন্য দেশগুলো। ফলে নজিরবিহীন যাত্রী সংকটে ভুগতে থাকে ইউরোপীয় এয়ারলাইনস।

আইএটিএ বলছে, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সংখ্যা ৩৮ শতাংশ কমে যেতে পারে। ফলে বছর বৈশ্বিক এয়ারলাইনস খাতে ২৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, যা ২০১৯ সালের আয়ের প্রায় অর্ধেক।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইনস খাতে তিন মাস শাটডাউন হিসাব করে তথ্য দিয়েছে আইএটিএ। ফলে নগদ অর্থ সংকটে বৈশ্বিকভাবে খাতের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে যার শিকার হয়েছে ব্রিটিশ উড়োজাহাজ পরিষেবা সংস্থা ফ্লাইবি।

ইউরোপে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট রাফায়েল স্কোয়াভার্টজম্যান মনে করেন, এমন অনেক বিমান সংস্থা রয়েছে, যাদের পর্যাপ্ত নগদ অর্থ নেই। ফলে আরো দুই মাস শাটডাউন থাকলে এসব বিমানের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

বৈশ্বির এয়ারলাইনস খাতে সংকটের মধ্যে চলতি সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলোর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। খাতের তারল্য সংকট কাটাতে সরকারগুলোকে নগদ অর্থ সরবরাহ, ঋণ সুবিধা প্রদান এবং কর মওকুফের আহ্বান জানানো হয়েছে। আইএটিএর প্রধান নির্বাহী আলেক্সজান্ডার ডি জুনিয়াক মনে করেন, সরকারের কাছ থেকে সহায়তা না পেলে খাতটি গণবিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে।

যদিও এরই মধ্যে খাতে সহায়তায় এগিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে অনেক দেশের সরকার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। এরই মধ্যে খাতে অর্থসহায়তা ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে হাজার কোটি ডলারের বেইলআউটে সাড়া দিয়েছেন মার্কিন রাজনীতিকরা।

তবে খাতসংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি নীতি সহায়তার আহ্বান জানালেও সেটির প্রাপ্তি নিয়ে সংশয় রয়েছে। যেমন যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে বিমান খাতের জন্য বিশেষ কোনো সহায়তা দেয়ার বিষয়ে নারাজি দিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক এরই মধ্যে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় ছুটিতে থাকা কর্মীকে ৮০ শতাংশ বেতন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে দেশটির সরকার বিমান খাতের জন্য বিশেষ কোনো সহায়তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে না। কারণ দেশটির অনেক বিমান প্রতিষ্ঠানের ব্যালান্স শিট বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 

এর মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের হাতে ৮৯০ কোটি পাউন্ড নগদ অর্থ রয়েছে। এছাড়া গ্রুপটির পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধাও রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন