বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

টকিজ

এখন সবকিছুই থেমে আছে

ছোটবেলা থেকেই লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের সঙ্গে পরিচয়। সংগীত আর উপস্থাপনায়ও বেশ দখল রয়েছে তার। বলা হচ্ছে জিনাত শানু স্বাগতার কথা। প্রায় সাড়ে তিন বছর বয়স থেকেই মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক অভিনেত্রীর। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে সব ধরনের শুটিং বন্ধ। অন্য তারকাদের মতো তিনিও ঘরে বসে অবসর সময় পার করছেন। এই অবসরে টকিজের মুখোমুখি হয়ে স্বাগতা জানালেন তার কাজকর্মের নানা খুঁটিনাটি সম্পর্কে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান জামিল

কেমন আছেন? সময় কীভাবে কাটছে?

ভালো আছি। এখন তো কাজ নেই। বাইরে তেমন বের হচ্ছি না। তাই বাসার ভেতরেই সময় কাটাচ্ছি।

আপনার গায়কী গুণ আছে। অবসরে গান নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

প্রতিদিনই একটু-আধটু গান করি। কিন্তু গানের পেছনে যতটা সময় দিতে হয়, এখন আর সেভাবে দিতে পারি না। গান গাওয়ার জন্য প্রস্তুতির দরকার। সেই সুযোগটা হচ্ছে না। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভালোভাবে গান করেছি। তখন আমি সপ্তাহে তিনদিন আমার ব্যান্ডের সঙ্গে অনুশীলন করতাম। সেটা এখন আর হয় না। তাই আগের মতো কনফিডেন্স নেই।

মহাকাল নামে একটি ব্যান্ড ছিল আপনার। নতুন করে কোনো ব্যান্ড করার ইচ্ছা?

আপাতত ব্যান্ড করার ইচ্ছা নেই। তবে আশা করছি ভবিষ্যতে শ্রোতারা আমার গান শুনতে পারবেন।

আপনি সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে অভিনয় করছেন।

সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে অভিনয় করছি। তবে সময়টা থেকে আমি আমার ক্যারিয়ার হিসাব করি না। কারণ তখন আমি নিয়মিত কাজ করতাম না। দেখা যেত মাসে ১০-১৫ দিন কাজ করেছি। পড়াশোনার দিকে বেশি গুরুত্ব ছিল তখন। ২০০৫ সালে আমি ইউ গট দ্য লুক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলাম। তার পর থেকেই আমি একজন পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে কাজ শুরু করি। মূলত সময়টা থেকেই আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়।

পর্যন্ত কোন কাজটি করে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছেন?

অনেক কাজ করেই ভালো লাগা কাজ করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছি শত্রু শত্রু খেলা ছবিটি করে। এটি সবচেয়ে ফলপ্রসূ একটি ছবি ছিল।

আপনি ফিল্ম মেকিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা আছে কিনা?

অবশ্যই পরিকল্পনা আছে। কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। অন্তত আমরা যতদিন কাজ করছি, অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং অবনতি হয়েছে। জায়গাটা নড়বড়ে হয়ে গেছে।

কী ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাইবেন?

আর্ট কিংবা বাণিজ্যিক কোনোটাই নয়। আমি আসলে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাই।

আপনি উপস্থাপনাও করতেন, বিষয়ে কিছু বলুন।

আমি তিন বছর ছায়াছন্দ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছি ঈদে। এখন বাংলাভিশনে সোনালী দিনের রূপালী গল্প অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছি। এছাড়া বাংলাদেশ বেতারে আরজে হিসেবে আছি। তারার সাথে কিছুক্ষণ, দর্পণের বিশেষ আয়োজন’—অনুষ্ঠানগুলো উপস্থাপনা করি।

বর্তমানে কী কী কাজ হাতে আছে?

চলতি মাসে একটি প্রামাণ্যচিত্রে কাজ করার কথা ছিল। পাশাপাশি একটি একক নাটক সিরিজে কাজের কথা ছিল। কিন্তু এখন তো সবকিছুই থেমে আছে।

সামনের পরিকল্পনা নিয়ে কিছু বলুন।

আমি ১৫ বছর টানা কাজ করেছি। মাঝখানে কাজের গতি কমে গিয়েছিল। এখন আবার গুছিয়ে উঠেছি। সামনে নির্দেশনা দেয়ার ইচ্ছা আছে। একটি নাটকের প্রায় অর্ধেক তৈরি করে ফেলেছি। নাটকটির নাম কালমৃগয়া। রবীন্দ্রনাথের মঞ্চ নাটক। নাটকের গান আমি ৩০টি শিশুকে শিখিয়েছি এবং এটার ছয়টি মিউজিক্যাল দৃশ্য রয়েছে। মানে পুরো বিষয়টাই গানে গানে। নাটকটির তৃতীয় দৃশ্যের কাজ চলছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নাটকটি মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কী করবেন?

আমি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সরাসরি মানুষের পাশে থেকে কাজ করার। আমার জায়গা থেকে যতটা সম্ভব আমি চেষ্টা করব।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন