বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

পণ্যবাজার

পাম অয়েলের বৈশ্বিক চাহিদায় শ্লথগতির পূর্বাভাস

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস। সংক্রমণ রোধে দেশে দেশে জারি করা হয়েছে লকডাউন। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে বিশ্বের ৩০০ কোটির বেশি মানুষ। পরিস্থিতিতে পাম অয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।

মালয়েশিয়ার পাম অয়েল খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড (এমপিওবি) সম্প্রতি পূর্বাভাস করেছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে ভোজ্যতেলটির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে। এমপিওবির তথ্য অনুযায়ী, লকডাউনের বিস্তার যত বাড়ছে, ক্যান্টিন রেস্টুরেন্ট বন্ধের সংখ্যাও তত বাড়ছে। কারণে ভারত, চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল আমদানিকারক দেশগুলোতে ভোজ্যতেলটির চাহিদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, যা পণ্যটির সামগ্রিক চাহিদা কমিয়ে আনতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এমপিওবির মহাপরিচালক আহমেদ পারভেজ গোলাম কাদির বলেন, লকডাউনের কারণে চীনের হাজারো রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। পাম অয়েলের পরিশোধন কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়েছে, যা দেশটিতে ভোজ্যতেলটির চাহিদা কমিয়ে আনতে পারে। এর বাইরে ইইউতে বায়োডিজেলের উৎপাদন চাহিদা কমে গেছে, যা জোটভুক্ত দেশগুলোতে পাম অয়েলের চাহিদা হ্রাসের পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের চাহিদা কমতে শুরু করেছে। এদিকে চাহিদা কমার জেরে মালয়েশিয়া থেকে কমতে শুরু করেছে পণ্যটির রফতানি। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটি থেকে ভোজ্যতেলটির রফতানি আগের মাসের তুলনায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। চলতি মাসে সংকট আরো প্রকট হয়ে উঠতে পারে। মার্চে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ইন্দোনেশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদনকারী রফতানিকারক দেশ মালয়েশিয়া।

এদিকে বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাসের সম্ভাবনায় পাম অয়েলের দাম কমতে শুরু করেছে। এছাড়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হ্রাসও এক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। সৌদি আরব রাশিয়ার মধ্যে চলমান মূল্যযুদ্ধের জেরে সম্প্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে গত আট বছরের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল।

আহমেদ পারভেজ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বর্তমানে নিম্নস্তরে রয়েছে। পরিস্থিতিতে বায়োডিজেল বাণিজ্যে পাম অয়েলের চাহিদা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গতকাল মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ২৭ ডলার ৬৫ সেন্ট। বছরের শুরু থেকে পর্যন্ত জ্বালানি পণ্যটির দাম কমেছে ৬০ শতাংশের কাছাকাছি।

দ্য মালয়েশিয়ান বায়োডিজেল অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা করছে, চলতি বছর দেশটি থেকে পাম বায়োডিজেলের রফতানি কমে পাঁচ লাখ টনে নামতে পারে। ২০১৯ সালে দেশটি থেকে পণ্যটি রফতানির পরিমাণ ছিল লাখ হাজার ৭৭৭ টন। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটি থেকে মোট ২১ হাজার ৭৯০ টন বায়োডিজেলের রফতানি হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা অর্ধেক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন