রবিবার | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | ১২ আশ্বিন ১৪২৭

প্রথম পাতা

পোশাক শিল্প মালিকদের কারখানা বন্ধের অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের ওপেক্স সিনহা গ্রুপের কারখানায় কাজ করেন ১৩ হাজার শ্রমিক। শ্রম আইনের ধারা ১২ ১৬ অনুযায়ী জরুরি রফতানি কাজে প্রয়োজনীয় তিন হাজার শ্রমিককে কাজে রেখে বাকি ১০ হাজার জনকে ছুটি দিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চলমান কভিড-১৯ সংকটে পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা না থাকলেও ওপেক্স সিনহা গ্রুপের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানই নিজ উদ্যোগে কারখানা বন্ধ বা ছুটি ঘোষণা করছিল। পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শিল্প মালিক প্রতিনিধি সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে কারখানা বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদ গতকাল নিজেদের মধ্যে আলোচনা শেষে সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশে আহ্বান জানায়।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে পশ্চিমা ক্রেতারা একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল করছে। এদিকে কারখানায় অনেক শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করেন বলে তারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন বেশি। অবস্থায় কারখানা সচল রাখা বা বন্ধ করা নিয়ে দোদুল্যমান অবস্থায় ছিলেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

আবার সরকারের পক্ষ থেকেও কারখানা বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার মালিকদের ওপরই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ক্রয়াদেশ না থাকার পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় বেশকিছু পোশাক কারখানার মালিক স্ব-উদ্যোগে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে গতকাল কারখানা বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ।

সূত্র জানিয়েছে, ওপেক্স সিনহা গ্রুপের কারখানা বন্ধ হয় ২৫ মার্চ। এর আগে ২৩ মার্চ সাভারের হেমায়েতপুরে দুটি পোশাক কারখানা দীপ্ত অ্যাপারেলস লিমিটেড ডার্ড গার্মেন্ট লিমিটেড করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণ দেখিয়ে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত মোট ৩৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্রয়াদেশ সংকটের চেয়েও শ্রমিকের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সদস্য সংগঠনগুলোকে কারখানা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে সভাপতি . রুবানা হকের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, মহান স্বাধীনতা জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সবার সুরক্ষা সুস্বাস্থ্যের জন্য কিছু সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সর্ববৃহৎ শিল্প হিসেবে আমাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত। অবস্থায় কারখানা বন্ধ দেয়া বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।

এর আগে ২৩ মার্চ কারখানা মালিকদের নিজ নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কারখানা সচল বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিজিএমইএ। এতে বলা হয়, ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনীয়তার পরিপ্রেক্ষিতে বিজিএমইএর পক্ষে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব নয়। কারখানাগুলো তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে। শুধু সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

এর আগে পোশাক খাতের আরেক সংগঠন বিকেএমইএর পক্ষ থেকেও শ্রমিকের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা বজায় রাখা নিশ্চিত করতে পারলেই কারখানা সচল রাখার বিষয়ে মত দেন সংগঠনটির সভাপতি সেলিম ওসমান।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন