শুক্রবার | আগস্ট ১৪, ২০২০ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

খবর

সাধারণ ছুটি শুরু

প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছে না কেউ

নিত্যপণ্য সংগ্রহে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে শুরু হয়েছে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি। ছুটির প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশই কার্যত আংশিক লকডাউনে চলে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। মানুষকে ঘরে রাখতে রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লা, হাটবাজারে টহল জোরদার করেছে পুলিশ। কোথাও কোথাও জনসমাগম এড়াতে বল প্রয়োগও করেছে পুলিশ। টহল দিয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও।

ছুটির প্রথম দিনে রাজধানীর সড়কগুলো ছিল কার্যত জনশূন্য। ফাঁকা রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমের দু-একটি গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলেনি। ফুটপাতে একজন-দুজন মানুষকে চলতে দেখা গেছে। গাড়ি না চলায় রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশও তেমন দেখা যায়নি। শুধু ঢাকার রাস্তা নয়, ফাঁকা হয়ে পড়েছে ফুটপাত, বাজার-শপিংমল সবই। গলি-মোড়ের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় সুপারমার্কেট বন্ধ রয়েছে। সব মিলে যানবাহন, বিশৃঙ্খলা, কোলাহলে ভরা ঢাকা পরিণত হয়েছে শান্ত নগরীতে।

তবে জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে ঘর থেকে বের হতেই হচ্ছে। দুপুরে মোড়ের ফ্ল্যাক্সি লোডের দোকানে সেলফোন রিচার্জ করতে আসেন ঢাকার কলাবাগানের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, কয়েকটি জরুরি ওষুধ কেনা দরকার তার। তবে চারটি ফার্মেসি ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত ওষুধটি পাননি। এর মধ্যে একবার পড়তে হয়েছে পুলিশি জেরায়। ওষুধ পাননি, দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় সেলফোনে অন্তত ১৫ দিন চলার মতো রিচার্জ করে নেয়ার জন্য দোকানে ভিড় জমান তিনি।

কলাবাগান মোড়ের সেই সেলফোন রিচার্জ দোকানের মালিক জানান, সকাল ১০টার দিকে তিনি দোকান খোলেন। কিছুক্ষণ পরই পুলিশ এসে দোকান বন্ধের জন্য চাপ দেয়। অনেক অনুরোধ করার পরে দোকানের শাটার অর্ধেক বন্ধ রাখার শর্তে কয়েক ঘণ্টা খোলা রাখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

রাজধানীর বাইরেও কমবেশি একই চিত্র ছিল গতকাল। বণিক বার্তার বিভাগীয় জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, হাটবাজারে মানুষের উপস্থিতি ছিল একেবারে কম। জনসমাগম এড়াতে পুলিশ-প্রশাসন সকাল থেকেই তত্পর ছিল। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে বেশির ভাগ মানুষ ঘর থেকেই বের হয়নি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না গ্রামাঞ্চলের মানুষও।

জরুরি পণ্য সংগ্রহে ভোগান্তি: ১০ দিনের সাধারণ ছুটিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সারা দেশ। জনসমাগম এড়াতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ-র্যাব-সেনাবাহিনী। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা, করোনা আতঙ্ক আর মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় দেশের বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক নিত্যপণ্যের দোকানও। ফলে জরুরি পণ্য সংগ্রহে ভোগান্তি বেড়েছে মানুষের।

চালসহ কয়েকটি জরুরি পণ্য কিনতে গতকাল দুপুরে বের হন রামপুরা এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। তার বাড়ির আশপাশে সবসময় ১০ থেকে ১২টি মুদি দোকান খোলা থাকত। কিন্তু গতকাল খোলা পেয়েছেন মাত্র দুটি। দুটিতেই মানুষের ভিড়। চেষ্টায় ছিলেন ভিড় কমলে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনবেন। তবে ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর অবস্থার পরিবর্তন না দেখে ভিড়ের মধ্যে কয়েকটি জিনিস কিনেছেন তিনি। গতকাল রাজধানীর প্রায় সব এলাকাতেই চিত্র একই রকম ছিল। তবে ঢাকার বাইরের চিত্রটি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ছিল বলে জানিয়েছেন বণিক বার্তার প্রতিনিধিরা।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন