মঙ্গলবার| এপ্রিল ০৭, ২০২০| ২২চৈত্র১৪২৬

খবর

প্রধানমন্ত্রী ভাষণে মিথ্যার ফানুস ওড়াননি: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মিথ্যার ফানুস ওড়াননি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মিথ্যার ফানুস ওড়াননি। তিনি অবাস্তব কল্পনাপ্রসূত প্রতিশ্রুতি দেননি। বাস্তবতার নিরিখে স্বাভাবিক জীবনের দরজায় কড়া নাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলার রূপরেখা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, কতিপয় মহল বা কিছু ব্যক্তি সংকট সম্ভাবনার কথা বিশ্লেষণ না করে বরাবরের মতো ছিদ্রান্বেষী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সমালোচনা করেছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট নিরসনে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে যেখানে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন, সেখানেও তারা বিভেদের রাজনীতি করতে চায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জাতির অভিভাবক হিসেবে দেশবাসীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে। বাঙালি বীরের জাতি, নানা দুর্যোগ-সংকট তারা সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করেছে। ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা শত্রুর মোকাবেলা করে বিজয়ী হয়েছি। করোনাভাইরাস মোকাবেলাও একটা যুদ্ধ। যুদ্ধে আপনার প্রধানতম দায়িত্ব ঘরে থাকা। আমরা সবার প্রচেষ্টায় যুদ্ধে জয়ী হব ইনশা আল্লাহ। ঘরে বসেই সচেতনতার মাধ্যমে করোনার বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলুন। 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জনগণের একজন হয়েই গণদায়িত্ববোধ সৃষ্টির মাধ্যমে সংকটের মোকাবেলা করতে চেয়েছেন। তিনি তার ভাষণে কর্মহীন, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সহায়তার কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন। গৃহহীন ভূমিহীনদের জন্য বিনা মূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য, নগদ অর্থ প্রদান এবং বিনা মূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। যার দ্বারা শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হবে। পদক্ষেপগুলো আপত্কালীন সংকট মোকাবেলায় স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বাজারে জোগান চাহিদার সামঞ্জস্য রেখে অর্থনীতির সচলতা কীভাবে ধরে রাখতে হয়, সেটা শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছরে তার সরকারের সময় করে দেখিয়েছেন। 

কাদের আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বরাবরের মতো দেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিপ্রবণ সংবেদনশীল হয়ে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ প্রদান করেছেন। দেশের জনগণের একজন হয়েই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আশা করি, দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।  

সরকারের সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঙালি জাতির নেতা হিসেবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতি বর্তমান প্রস্তুতিসহ ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। করোনা সংকট মোকাবেলায় বিদেশফেরত যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা থেকে শুরু করে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা, হাসপাতাল প্রস্তুত চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে সরকারের সম্পন্ন সব কার্যক্রমের কথা তিনি তুলে ধরেছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের মুখে নিশ্চিত সমাধানে যেখানে সারা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন