রবিবার | মে ৩১, ২০২০ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

ভাইরাসের প্রভাবে জিডিপির বড় সংকোচনের মুখে সিঙ্গাপুর

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাস ডিজিজ বা কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মরণঘাতী এক ভাইরাস। এরই মধ্যে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত হেনেছে এটি। ভাইরাসটির সুনামিতে টালমাটাল পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিরও। বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য প্রতিনিয়ত বড় ধরনের অশনিসংকেত দিয়ে যাচ্ছে এটি। ভাইরাসটির অশুভ থাবায় রফতানিনির্ভর অর্থনৈতিক হাব হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিও ধরাশায়ী অবস্থায়, যার প্রভাব পড়েছে জিডিপির ওপর। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি বড় ধরনের সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। খবর এএফপি।

বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ এখন আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। উত্পাদন, আমদানি-রফতানি এবং সর্বশেষ ভোক্তা চাহিদা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। অবস্থায় অধিকাংশ দেশেরই অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে গতকাল সিঙ্গাপুরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির বিষয়ে একটি ডাটা প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির জিডিপি দশমিক শতাংশ কমেছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্যের রুগ্ণ দশার মধ্যে মুক্ত অর্থনীতির দেশ হিসেবে খ্যাত সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি আরো বড় অবনমনের মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ওসিবিসির রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান সেলেনা লিং বলেন, কভিড-১৯ রীতিমতো সুনামি হয়ে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে আঘাত করেছে।

করোনাভাইরাসের আঘাতে অর্থনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত দেশগুলোর সরকার রাষ্ট্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে নজিরবিহীন নীতি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকার অর্থনৈতিক আঘাত সামাল দিতে ট্রিলিয়ন ডলারের অনুমোদনে সম্মত হয়েছেন সিনেট সদস্যরা।

বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজারের বেশি মানুষের। আর বিশ্বব্যাপী ৩০০ কোটির বেশি মানুষ ঘরবন্দি। অবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। ফলে যেসব দেশ দীর্ঘদিন পর অর্থনৈতিক ধসের মুখ দেখল, সিঙ্গাপুর তাদের অন্যতম। এর আগে ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুর বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিল। তবে সে সময়ের চেয়েও এখন বড় ধরনের অবনমনের মধ্যে রয়েছে দেশটির অর্থনীতি।

সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তথ্য বলছে, প্রান্তিক হিসাবে এর আগের প্রান্তিক অর্থাত্ ২০১৯ সালের শেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় চলতি বছরে দেশটির জিডিপি কমেছে ১০ দশমিক শতাংশ।

করোনাভাইরাসের আঘাত শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে সেটি মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে শেষ পর্যন্ত যেখানেই গিয়ে ঠেকুক, সেটি সিঙ্গাপুরের মতো ছোট এবং মুক্ত অর্থনীতির দেশে বড় আঘাত করবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। আর প্রমোদ কেন্দ্র আর্থিক কেন্দ্র হওয়ায় সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক দুরবস্থার ঢেউ থেকে এশিয়ার রফতানিনির্ভর অন্য দেশগুলোও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবে না।

এদিকে সিঙ্গাপুরের জিডিপি আরো কমে যাবে বলে প্রাক্কলন করেছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী চলতি বছরে দেশটির অর্থনীতি থেকে শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী আরো খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করছে। মরণঘাতী ভাইরাসটির সময় এবং তীব্রতা আরো বেশি হলে সেটি অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।

সিঙ্গাপুর সাধারণত প্রান্তিক শেষ হওয়ার আগেই আগাম প্রাক্কলন তথ্য দেয়। সে হিসাবে চলতি প্রান্তিকের এখনো পুরোপুরি তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্য বর্তমান তথ্যের চেয়ে আরো খারাপ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যাই হোক সিঙ্গাপুরের সাম্প্রতিক তথ্য এশিয়ার অন্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য আরো একটি সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন সেলেনা লিংয়ের মতো বিশেষজ্ঞরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন