শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

ভাইরাস পরিস্থিতি

ঝুঁকিতে যুক্তরাজ্যের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল?

বণিক বার্তা ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে খাদ্য সংকটজনিত উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে দেশটির সুপারমার্কেটের শূন্য সেলফগুলো। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান সংকট মোকাবেলায় তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তাদের বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে দেশটির কেনাকাটার চিত্র আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশটির জটিল খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে বৈ কমছে না। খবর বিবিসি।

যুক্তরাজ্যে খাদ্য নিয়ে দুশ্চিন্তার মূলে রয়েছে দেশটির আমদানিনির্ভরতা। হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের অর্ধেক খাবারই আসে অন্য দেশ থেকে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ আসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে। বিশেষ করে ময়দা কিংবা রুটি এবং মাংসের জন্য যুক্তরাজ্যকে অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাছাড়া দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাত এর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জন্যও অন্য দেশের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরশীল। হাজার হাজার মাইল দূরের এসব সরবরাহকারী সময়মতো প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ না করতে পারলে থমকে যাবে উত্পাদন ব্যবস্থা। ঠিক নির্ভরশীলতার কারণেই ব্রিটেনের প্রায় সব গাড়ি উত্পাদনকারী কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে দেশটির সুপারমার্কেটগুলো পণ্যের জন্য ঠিক একই সরবরাহ পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। আর বিষয়ই যুক্তরাজ্যের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে মনে করছেন লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটির ফুড পলিসির অধ্যাপক টিম ল্যাং। তার মতে, এটি ঠিক টেনে ধরা অনেকগুলো রাবার ব্যান্ডের সমন্বয়ে সৃষ্ট জালের মতো, যার একটি ছিঁড়ে গেলেই পুরো অবকাঠামো ভেঙে পড়বে।

তবে আশার কথা হলো, জরুরি পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে বেশকিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যেমন দ্য ফ্রেইট ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন গ্যারেজ মেকানিক সংকটের মধ্যেও ট্রাকগুলোকে সচল রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার রসদ সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্তদের জরুরি পরিষেবা কিংবা এনএইচএসের কর্মীদের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে।

এরই মধ্যে ধরনের সরবরাহকারীদের সুপারমার্কেটে খাদ্য পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা সরঞ্জাম রয়েছে। পরিস্থিতিতে রসদ পণ্য সরবরাহ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তারা যুক্তরাজ্যের দোকানগুলোয় সময়মতো পর্যাপ্ত খাদ্য পৌঁছে দিতে পারবেন। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সুপারশপে বর্তমানে যে খালি শেলফ দেখা যাচ্ছে, তা হলো আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অতিরিক্ত ক্রয়ের ফল। এর সঙ্গে সরবরাহ ঘাটতির কোনো সম্পর্ক নেই।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন